রূপদিয়ার নীলকুঠি ও বধ্যভূমি’টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

0
271

রাসেল মাহমুদঃ যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজার অভ্যান্তরে ভৈরব নদীর তীরে ইংরেজ শাসনামলের সময়কার এশিয়া মহাদেশের প্রথম সর্ববৃহৎ নীলকুঠি ও ৭১ এর বধ্যভূমিটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এই কালের স্বাক্ষীটি ইতিহাসের পাতা থেকে চিরোতরে মুছে যেতে বসেছে। জানা যায়, ইংরেজ শাসকরা রূপদিয়ার আন্ধারী বটতলার ভৈরব নদীর মোহনায় এশিয়া মহাদেশের প্রথম নীলকুঠি সর্ববৃহৎ কুঠি স্থাপন করে যশোর অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের জোরপূর্বক নীল চাষে বাধ্য করাতেন। কোনো মানুষ যদি নীলচাষ করতে অস্বীকার করত তা হলে এই কুঠিতে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন চালাতেন ইংরেজ শাসকরা। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের মাত্রা এতোই বেশী ভয়াবহ হতো, যে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়ে যেত। এছাড়াও নানান ভাবে চলত ইংরেজদের অত্যাচার-নির্যাতন ও হত্যাকান্ড। এ কারনেই; রূপদিয়ার এই নীলকুঠিকে অভিশপ্ত নীলকুঠি বলে চিহ্নিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময় ইংরেজ শাসকদের রেখে যাওয়া অভিশপ্ত নীলকুঠি’টি বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করে এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা। রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও দোসর পাকিস্তানী খান সেনারা এদেশের মুক্তিকামী মানুষদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করে নীলকুঠিতে পুঁতে রাখতো আবার কাউকে নদীতে ভাঁসিয়ে দিতো। রূপদিয়া এলাকার কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বপক্ষের মানুষ এই কুঠিতে দোসর বাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবর আলী দফাদার, মকবুল হোসেন ও আব্দুল ওহাব মিন্টু দৈনিক যশোর পত্রিকার এ প্রতিবেদককে বর্ণনা করেন অভিশপ্ত নীলকুঠি ও ৭১ এর বধ্যভূমিতে নিয়ে দোসর বাহিনীর চালানো ভয়ংকর নির্যাতনের কাহিনী। নানা ইতিহাসের কালের সাক্ষী টি সিংহভাগই আজ দখলদারিত্বের কবলে। স্মৃতি বলতে পড়ে আছে শুধু শ্যাওলাধরা ইটের অবশিষ্ট ধ্বংসস্তুপ। নীলকুঠি’টি হচ্ছে একাত্তরের অন্যতম বধ্যভূমি। রাজাকারেরা বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙালি সন্তানদের ধরে এনে নির্যাতনের পর, হত্যা করে এখানে ফেলে রেখে দিতো। জানাগেছে- মুক্তিযোদ্ধা মাফুজুল হক, আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, চাউলিয়া গ্রামের স্বর্ণকার গফুর মৃধা, কচুয়ার শানাল, বনগাঁর গহন আলী, গমতিতলার জলিল মোড়ল ছাড়া নাম না জানা বহু লোক’কে এই নীলকুঠিতে হত্যা করেছে পাকিস্তানী দোসর বাহিনী। নরেন্দ্রপুরের আফসার জল্লাদ, কচুয়ার খালেক মড়ল (লিডার), শাখাঁরীগাতীর কমান্ডার গোলাম, চাউলিয়ার মোহাজের, লুৎফার মৌলভী, ওয়াজেদ আলী, কচুয়ার খালেক এরা সবায় রাজাকার ছিলো। উল্লেখিত রাজাকাররা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে এই স্থানে মাটি চাপা দিয়েছে আবার অনেকেই নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here