একটি নির্মমতা– কালীগঞ্জে ছেলের বউয়ের সহযোগীতায় শাশুড়ী জখম \ স্ত্রী ও শ্যালকের নামে স্বামীর মামলা

0
311

স্টাফ রিপোর্টার,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ছেলের বউয়ের সহযোগীতায় শশুরবাড়ির লোকজনের হাতে মর্জিনা বেগম (৬০) নামের বৃদ্ধা শাশুড়ী অমানবিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে বাদি হয়ে নিজের স্ত্রী শাহিদাসহ ৩ জনের নামে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বলছে বিষয়টি অমানবিক। এখন বারোবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এস আই মকলেচুর রহমানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা করা হয়েছে। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ঘটনার সত্যতা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামে।
গ্রামবাসী জানায়,এমন নির্মম ঘটনার পর আহত বৃদ্ধাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকাকালীন সুস্থ হওয়ার আগেই অর্থ সংকটে ওষূধ কিনতে না পারায় বাড়িতে আনা হয়েছে।

বৃদ্ধার ছেলে জসিম উদ্দীন জানান, গত শুক্রবার ১০ সেপ্টেম্বর আমার স্ত্রী আমার মাকে নিয়ে গালমন্দ করে। এছাড়াও আমার মায়ের চরিত্র নিয়ে উস্কানীমূলক কথা বলে। এ সময় আমি রাগান্বিত হয়ে আমার স্ত্রীকে চড় থাপ্পড় দিই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাতেই আমার স্ত্রী তার ভাইদের ফোন দিয়ে ডেকে আনে। তারা রাতেই আমাদের বাড়িতে এসে আমার এবং আমার মা’কে বেধড়ক মারপিট করলে মা ছেলে দু’জনই চরম আহত হই। মায়ের মাথা কেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। পরে প্রতিবেশিরা নিয়ে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করলে। সেখানে মায়ের অবস্থার অবনতি ঘটলে যশোর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়িতে এনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে আমার মায়ের মাথায় ইনফেকশন হয়ে গেছে। তার অবস্থার ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এ ঘটনায় পরের দিন আমার স্ত্রী শাহিদা খাতুন, শ্যালক শহিদুল ইসলাম ও আমার মামা শশুর রাবেকের নামে মামলা দায়ের করেছি।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৫ বছর আমার বোনের বিয়ে হয়েছে।এরপর থেকে যৌতুকের জন্য বোনের স্বামীর পরিবার প্রায়ই নির্যাতন করে। ঘটনার দিনই নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে আমরা তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে ঘটনা জানার সময় কিছুটা বাকবিতন্ডা হয়েছে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। তিনি অস্বীকার করে জানান,কিভাবে আমার ভগ্নিপতির মায়ের মাথা কেটেছে তা আমি জানিনা।

এ ব্যাপারে বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মকলেচুর রহমান জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটনার দিন শাহিদা নামের ওই মহিলা তার ভাইদের খবর দেয়। এরপর শাহিদার ভাইও তার সঙ্গীরা এসে বোনের শাশুড়ী বৃদ্ধা মর্জিনা বেগমকে অমানবিকভাবে মারপিট করে জখম করে। দেখলাম বৃদ্ধার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তিনি জেনেছেন, ওই বাড়ির বউমা শাহিদা বেগম একজন বদমেজাজী মহিলা। অমানবিক এ ব্যাপারের জন্য দোষিদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here