মোংলা বন্দরে মেট্টোরেলের ইঞ্জিনসহ ১২ কোচ নিয়ে বানিজ্যিক জাহাজ এসপিএম ব্যাংকক

0
288

মাসুদ রানা,মোংলা:দেশের রাজধানী ঢাকায় নির্মানাধীন মেট্রোরেলের ইঞ্জিনসহ আরও ১২টি কোচ বোঝাই করে মোংলা বন্দরে এসে পৌছেছে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ এমভি এসপিএম ব্যাংকক। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে এসে নঙ্গর করে এ জাহাজটি। এ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ৫ দফায় বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজ বোঝাই করে ৩৪টি কোচ ও ৮টি ইঞ্জিন মোংলা বন্দর জেটি থেকে খালাস করা হযেছে। আর এ জাহাজটির কোচগুলো খালাসের পর কাস্টমস ও বন্দরের সকল কাগজ পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কার্গো জাহাজের মাধ্যমে নৌ-পথে বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে এসব পণ্য যাবে ঢাকা শহরের উত্তরার দিয়াবাড়ি ডিপোতে। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ২৪ টি বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজে বোঝাই করে এ সমুদ্র বন্দর দিয়ে মেট্রোরেলের আরও ১৪৪ টি বগি (কোচ) খালাস করা হবে বলেও জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মাদ মুসা।
বন্দর সুত্রে জানা যায়, ১৪ সেপ্টেম্বর জাপানের কোবে বন্দর থেকে ৪টি ইঞ্জিন ও ৮টি কোচ ছাড়াও আরো বেশ ৩২টি প্যাকেজ বোঝাই করে সেখানকার বন্দর থেকে সরাসরী মোংলা বন্দরে এসকল পন্য খালাসের উদ্দোশ্যে ছেড়ে আসে বিদেশী এমভি এসপিএম ব্যাংকক নামের এ জাহাজটি। বাংলাদেশের নির্মানাধীন মেট্ট্রোরেলের কোচ (বগি) নিয়ে প্রথম চালান আসে গত ৩১ মার্চ এমভি এসপিএম ব্যাংকক নামের এ জাহাজটি। পরে ৫মে ৬টি বগি নিয়ে আসে জাহাজ এমভি ওশান গ্রেস, ১০টি বগি ও ২টি ইঞ্জিন নিয়ে ২০ জুলাই আসে জাহাজ এমভি হরিজন-০৯। এছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর ৪টি বগি ও ২টি ইঞ্জিন মোংলা বন্দরে খালাস করে এমভি প্রেসার্স কোরাল নামের বিদেশী জাহাজ। আর শনিবার জাহাজটিতে মেট্ট্রেরেলের ১২টি পন্য নিয়ে ২ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মোংলা বন্দরের ৯ নং জেটিতে এসে পৌছায়। মেট্ট্রোরেলের এ যন্ত্রাংশগুলো খালাসের জন্য বন্দর, কাস্টমস ও শিপিং এজেন্টের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সম্পন্নের হওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে শুরু হয় ইঞ্জিন ও কোচ খালাসের কাজ। মোংলা বন্দর থেকে মেট্টোরেলের এ পন্য খালাসের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খুলনা ট্রেডার্স কোম্পানী লিঃ এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা সকাল থেকে তাদের সরঞ্জামাদী নিয়ে প্রস্তুত রয়েছিল। জাহাজটি নঙ্গর করার সাথে সাথে রেলের কোচ ও ইঞ্জিন খালাস কাজ শুরু করে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই জাহাজ থেকে ৬টি কোচ ও ২টি ইঞ্জিন খালাস করা হয়েছে বলে জানায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের (ইষ্টিভিডরস) জাহাজ সুপারভাইজার মোঃ রুহুল আমিন। তিনি বলেন, জাহাজটির স্থানীয় শিপিং কোম্পানীর সাথে আমাদের শ্রমিক ঠিকাদারী কোম্পানী মেসার্স খুলনা ট্রেডার্স লিঃ এর চুক্তিবদ্ধের মাধ্যমে শুরু থেকেই মেট্ট্রোরেলের মালামাল এ বন্দর থেকে খালাস করা হচ্ছে। যা আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত যতগুলো মেট্ট্রেরেলের কোচ ও ইঞ্জিন নিয়ে জাহাজ মোংলা বন্দরে আসবে, সেগুলোরও পন্য আমাদের শ্রমিক ঠিকাদারী কোম্পানীর মাধ্যমেই খালাস করা হবে। এ জাহাজ থেকে সন্ধ্যা নাগাদ চেষ্টা করা হচ্ছে রেলের মালামালগুলো সম্পুর্ন খালাসের কিন্ত যদি সম্ভব না হয় তবে আগামী দিন ৩ অক্টোবর সকালের পালায় বাকি কোচগুলো খালাস করে বিদেশী এ জাহাজটি মোংলা বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
এখন জাহাজ থেকে দক্ষ শ্রমিকদের মাধ্যমে মেট্ট্রেরেলের কোচ ও ইঞ্জিন খালাস করে বার্জে নামানো হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে, ২/৩ দিনের মধ্যে বার্জযোগে নৌ-পথে মেট্রোরেলের এই ইঞ্জিন ও কোচগুলো নেওয়া হবে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী ডিপোতে।
বিদেশি বানিজ্যিক জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার মোঃ ওহিদুজ্জামান বলেন, দেশের মেট্ট্রেরেলের কোচ ও ইঞ্জিনগুলো তৈরী হচ্ছে জাপানে। ৫দফায় জাপানের কোবে বন্দর থেকে বোঝাই করে এমভি এসপিএম ব্যাংকক জাহাজ গত ১৫ দিন পুর্বে ছেড়ে এসে শনিবার ৪টি ইঞ্জিন ও ৮টি কোচ নিয়ে বন্দরের ৯নং জেটিতে নঙ্গর করে। কোচ ও ইঞ্জিনগুলো খালাস শেষে নদীপথে উত্তরার দিয়াবাড়ীতে পাঠানো হবে। সেখানে কয়েকদফা যাচাই-বাছাই ও পরিক্ষ-নিরিক্ষা শেষে সংযোগ দেয়া হবে ঢাকার নির্মানাধীন মেট্ট্রেরেলের সাথে। প্রথম চালান নিয়ে চলতি বছরের ৩১ মার্চ এমভি এসপিএম ব্যাংকক জাহাজে মেট্রোরেলের ৬টি কোচ নিয়ে মোংলা বন্দরের জেটিতে খালাস কাজের শুভ সুচনা করে মোংরা বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২২ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ২৪ টি বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজে করে ১৪৪ টি বগি (কোচ) ও ইঞ্জিন খালাস করা হবে বলে জানায় বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মাদ মুসা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here