শার্শায় সরকারি নির্দেশে মাছ ধরা বন্ধ: না খেয়ে দু’শ পরিবার

0
355

শহিদুল ইসলাম,বাগআঁচড়া।। সরকারি নির্দেশে বন্ধের ফলে যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর খালে মাছ ধরতে না পেরে গ্রামের প্রায় দু’শ পরিবার বেকার জীবন যাপন করছেন। ফলে অনাহারে দিন কাটছে পরিবার গুলোর।
রুদ্রপুর গ্রামের আব্দুল মালেক জানান তার সংসারে ৮ জন সদস্য। মাছ ধরে ও বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। এক সপ্তাহ হলো সরকারি নির্দেশ তাদের জাল তুলে দেয়া হয়েছে বিল ও খাল থেকে। তারা এখন সম্পুর্ন বেকার জীবন যাপন করছেন। সংসার চলছে না তার।
একই গ্রামের আকবর হোসেনের ৬ জনের সংসার। সেও মাছ ধরে জীবন জীবিকা। রুদ্রপুরের শাহারুল, দাদখালীর তৈয়, ভবানীপুর গ্রামের পিন্টু ও আইউব আলী সহ প্রায় দু’শ পরিবার মাছ ধরে সংসার চলে।খালে জাল দিতে না দেয়ায় তারা মাছ ধরতে পারছেন না। বর্তমানে তারা এখন বেকার হয়ে হয়ে পড়েছেন। তাদের আরো অভিযোগ মাছগুলো খাল দিয়ে ভারতে চলে যায়। অথচ বিনা অজুহাতে তাদের মাছ ধরতে দেয়া হয় না।
রুদ্রপুর গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, জৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকেই এ অঞ্চলের খালে বিলে ভারতের নদ নদীর উজানের পানি আসতে শুরু করে এবং মাঘ মাস পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে এলাকা। এতে করে ৭/৮ মাস যাবত খাল বিল পানিতে ডুবে থাকে। কোনো ফসল হয় না। এসময় প্রায় লোকই মাছ ধরে সংসার চালায়। মাছগুলো খাল দিয়ে ভারতে চলে যাবার পথেই এখানকার মৎস্যজীবিদের জালে আটকা পড়ে। কেবলমাত্র ত্রটিপুর্ন স্লুইজগেটের কারনেই ভারতের উজান পানিতে ভরে যায় খাল বিল। জাল দিয়ে মাছ ধরার কারনে পানি বাধাগ্রস্ত হয়না বলেও তিনি জানান।। এতে কোনো অসুবিধা হবার কথা নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, তারা মাছের পথ আটকে মাছ ধরার কারনেই তাদের জাল তুলে নিতে বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে খালে মাছ ধরায় কোনো আপত্তি নেই। তবে খালের এপাশ ওপাশ আটকিয়ে মাঝখানে জাল দিয়ে মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
তিনি জানান জালের দু’পাশে মাছের যাতায়াতের রাস্থা অবশ্যই রাখতে হবে। ভ্যাসালি জাল ও খেপলা জাল দিয়েও মৎস্যজীবিরা মাছ ধরতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here