ভবদহ সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান যশোরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সংবাদ সম্মেলন

0
322

স্টাফ রিপোর্টার : সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেছেন, যশোরের দুঃখগাঁথা ভবদহ সমস্যার সমাধানে জনদরদী একজন জনপ্রতিনিধিও নেই যিনি জনস্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, কার্যত ভবদহ সমস্যাকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া পাউবো কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কোনো এজেন্ডা নেই। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সত্যিকারঅর্থে সহযোগিতা করতে চান, ক্ষমতাসীন দলের এমন দু-একজন নেতা যারা আছেন, তাদের কন্ঠও মিলিয়ে যায় দাপুটে নেতাদের তোড়ে। সাধারণ মানুষের ধারণা ভবদহ এলাকার মানুষের দুর্দশাকে পুঁজি করে যা করা হচ্ছে, তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রহসনের এই নাটক মঞ্চায়ন বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন। আর জেলার জনপ্রতিনিধি বা পাউবো কর্মকর্তাদের দ্বারা এ সমস্যার সমাধান হতে পারে, এমন বিশ্বাস এলাকাবাসীর নেই। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি ভবদহ পরিদর্শনে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের মধ্য দিয়েই ভবদহ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন তারা। সোমবার প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর ও অভয়নগর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্যে জোটের জেলা সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, বিগত ৪ দশককাল যশোর ও খুলনা জেলার ৫টি উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ ভবদহের অভিশাপে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুই-তিন ফসলি জমি পানিতে ডুবে থাকায় মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদ- ভেঙে পড়েছে। মাসাধিককাল পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার প্রায় ৮০টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। এসব গ্রামের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। শিশু-কিশোররা নিয়মিত পানি ভেঙে বাড়ি থেকে বের হয়ে আবার পানি ডিঙিয়েই স্কুলে যাচ্ছে। একইভাবে বাড়ি ফিরছে। এভাবে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতেই ৪ বার পানিতে শরীর ভিজানোর কারণে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সর্দি-জ্বর, কাশি, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। একই অবস্থা কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। বরাবরের মতো এখানকার মানুষ ও প্রাণিকূল একইসাথে অবস্থান করছে। বাসাবাড়ির জন্য খাবার পানির উৎস টিউবয়েল পানির তলে চলে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র। টয়লেট না থাকায় শিশু-নারী-বৃদ্ধ-পুরুষ সবাই দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। পানির চাপ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে বলে এলাকার মানুষ মনে করছে।
তিনি বলেন, ভবদহের সমস্যা নিরসনে প্রধানত দুটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত ভুল পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়া। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতার কারণেই জোয়ারাধার বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-টিআরএম বাস্তবায়ন করা যায়নি। বিশেষত ২০১২ সালে জনমতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের তৎকালীন নেতৃত্ব ক্ষমতার জোরে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নের চেষ্টা থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। আর এই ঘটনাকে পুঁজি করে টিআরএম না করে বছর বছর বাণিজ্য করার কৌশলের ফর্মূলাকে বেছে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here