স্টাফ রিপোর্টার : গত সোমবার রাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ আসামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ডাঃ মাহমুদ হোসেন, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন ও সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু শাহীনের উপস্থিতিতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর তুহিন কান্তি খান এই ফাসি কার্যকর করেন। এসময় যশোর কেন্দ্রীয় কারগারের সুপার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হাসানসহ কারাগারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির আগে দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামী কালু ও আজিজকে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে কারাগার জামে মসজীদের পেশ ইমাম মাওলানা আরিফ বিল্লাহ কলেমা পাঠ করান। এর পর যশোর ও কেন্দ্রীয় কারগারে অন্তরীন যাবজ্জীব সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী কেটু কামার, মশিয়ার ও লিটু ফকির নামের তিন জন জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন। তারা নির্ধারিত সময়ে কন্ডেম সেল থেকে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামী কালু ও আজিজকে কারাগারের ফাঁসির মঞ্চের কাছে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান। এরপর কলেমা শাহাদত পাঠ সম্পন্ন হলে তাদের দুই জনকে পর্যায়ক্রমে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর প্রথম জম টুপি বা কালো কাপড়ে মুখমন্ডলসহ মাথা ঢেকে ফেলা হয় কালুর। মুহুর্তে জল্লাদ কেটু কামার ফাঁসির রশি টেনে তা কার্যকর করেন। ১৫ মিনিট পর মশিয়ার আজিজুলের ফাঁসি কার্যকর করে। দুই আসামীর ফাঁসি কার্যকর করার পর সিভিল সার্জন তাদের ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান করেন। পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাত ১২টার কিছু আগে দুই আসামীর লাশের কফিন কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে বের করে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমান লাশের স্বজনরা এসময় কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এক পর্যায়ে কড়া পুলিশ প্রহরায় লাশ এ্যাম্বুলেন্সে করে স্বজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় কারাকর্তৃপক্ষ তাদের নিজ নিজ ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।
মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসির আদেশ গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে কার্যকর হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। রাষ্টপিিতর কাছে প্রাণভিার আবেদন নাকচ হওয়ার পর চুয়াডাঙ্গার আলোচিত ধর্ষক ও খুনি কালু ও আজিজুলের ফাঁসি কার্যকর করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রায় লীপুর গ্রামের মিন্টু ওরফে কালু ও একই গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুল। শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শেষবারের মতো তাদের দুজনের স্বজনরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে টানা ১৮ বছরের প্রতীার অবসান ঘটলো যা ভুক্তভোগী দুই পরিবারের বলে জানিয়েছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, আজিজুল ওরফে আজিদ ওরফে আজিজ এবং মিন্টু ওরফে কালু আলমডাঙ্গার রায় রায়লীপুর গ্রামের দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এ ঘটনায় ২০০৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। দীর্ঘ স্যা-প্রমাণ শেষে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই আজিজুল ও মিন্টু ওরফে কালুকে মৃত্যুদন্ড এবং এ দুইজনকেই দুই লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। এরপর আসামিপ হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর নি¤œ আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। আসামিপ মামলাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। চলতি বছরের ২৬ জুলাই সেখানেও নি¤œ আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ হয়। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিা চাওয়া হলেও তা নামঞ্জুর হয়। চলতি মাসের ৬ তারিখে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয় স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়ের সুরা সেবা বিভাগ। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ৮ সেপ্টেম্বর সেই চিঠি গ্রহন করে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর তুহিন কান্তি খান বলেন, ফাঁসি কার্যকর করতে কেটু কামার, মশিয়ার রহমান, লিটু ফকির তিন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়। ফাঁসি কার্যকরের সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মনোনীত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আসামীদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির শেষ ইচ্ছা তাদের স্বজনদের সাথে শেষ দেখাও সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কাঁন্নায় ভেঙে পড়েন। প্রসঙ্গত, আলমডাঙ্গা উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রায়লীপুর গ্রামের মাঠে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাদের দুজনকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলাকাটা হয় ওই দুই নারীকে। এ ঘটনায় নিহত কমেলা খাতুনের মেয়ে নারগিস বেগম ঘটনার পর দিন আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ওই দুজনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর দুজন হলেন একই গ্রামের সুজন ও মহি। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মহি মারা যান। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। এর পর আসামিপরে লোকজন হাইকোর্টে আপিল করেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর নি¤œ আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দুই আসামির রায় বহাল রাখেন এবং অপর আসামি সুজনকে বেকসুর খালাস দেন। এ বছরের ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সুজন।















