জসিম উদ্দিন : হত্যা মামলার তদন্তে ২০১৮ সালের চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করলো যশোর ডিবি পুলিশ। এঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার সহ প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার, ভাঙ্গা তালা, তালা ভাঙ্গার শাবল জব্দ করেছে ডিবি কর্মকর্তা। ডিবি পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিবারণে জানা যায়, গত ০১/০৯/২০২১ তারিখে শার্শা থানাধীন কাশিয়াডাঙ্গা বড় কবরস্থান থেকে ইস্রাফিল নামের এক বিড়ি শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৭/০৮/২০২১ তারিখ রাত ০৯:০০ ঘটিকা থেকে ঐ বিড়ি শ্রমিক ইস্রাফিল নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজি করে না পেয়ে গত ২৯/০৮/২০২১ তারিখে শার্শা থানায় সাধারণ ডাইরী করেন। উক্ত নিখোঁজ জিডি তদন্তের জন্য জেলা পুলিশ সুপার জনাব প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয় নির্দেশ প্রদান করলে ওসি ডিবি জনাব রুপণ কুমার সরকার, পিপিএম এঁর দিক-নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম তদন্ত পূর্বক আসামী নুরে আলম সহ ০৩ জন আটক করে ইস্রাফিলের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই সংক্রান্তে শার্শা থানার মামলা নং-০২ তাং-০১/০৯/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম তদন্তকালে এজাহারভুক্ত আসামী মেহেদী হাসানকে ইং ১৫/১০/২০২১ তারিখে ঢাকা আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে জানতে পারেন উক্ত হত্যার পিছনে একটি চুরির কাহিনী রয়েছে। জানা যায়, একই গ্রামের ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুসের বাড়ীতে ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ২৩ তারিখ রাতে ঘরের তালা ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা চুরি করে হত্যার আসামী নুর আলমের ভাতিজা জনি ও মফিজ। নুর আলম ও আঃ আজিজ উক্ত চুরির স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়। এই ঘটনায় নিহত ইস্রাফিল জেনে তাদেরকে সমাজে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। যার প্রেেিত এবং অন্যান্য কারনের সাথে এই চুরির কারণ যুক্ত হয়ে ইস্রাফিলকে মারার পরিকল্পনা করে আসামীরা। ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রুহুল কুদ্দুসের বাড়ীতে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া যায় এবং ঘটনার রহস্য জেনে রুহুল কুদ্দুস বাদী হয়ে শার্শা থানায় এজাহার দিলে শার্শা থানার মামলা নং-০৯, তাং-১৬/১০/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড রুজু হয়। উক্ত মামলাটিও এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম তদন্তভার গ্রহন করে এবং হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের রিমান্ডের আবেদন দিলে বিজ্ঞ আদালত মঞ্জুর করেন। ২৭/১০/২০২১ তারিখ রিমান্ডে এনে তাদের দেওয়া তথ্য মতে উক্ত তারিখ বিকালে শার্শা থানাধীন নাভারণ রেল বাজারস্থ সানজিদা জুয়েলার্সে ও বাগআঁচড়া অনিতা জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালনা করে মোট ১ ভরি ১১ আনা ৪ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ভাঙ্গা তালা ও তালা ভাঙ্গার শাবল জব্দ করা হয়। আসামী ০৩ জনসহ ০২ জন সাী বিজ্ঞ আদালতে কাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো,১। মোঃ জনি (২১), পিতা- আনিছুর রহমান, ২। নুর আলম (৪২), পিতা- নুর মোহাম্মদ, উভয়ই কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। এবং ৩ নং আসামী মেহেদী হাসান (২৯), শার্শার রাড়ীপুকুর গ্রামের মৃত- শাহজাহান মীরের ছেলে।















