চৌগাছায় প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

0
332

চৌগাছা(যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছার মাকাপুর-বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ৪জন শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগে উঠেছে।
রবিবার সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব চৌগাছায় এক সংবাদ সন্মেলনে ওই স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই সকল অবৈধ নিয়োগসহ অন্যান্য অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।
সংবাদ সন্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমার মেয়াদে বিদ্যালয়ে কোন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। অথচ সেই সময়ে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেখানো হয়েছে। আন্য আরো এক শিক্ষককে ২০০৫ সালে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এই চার শিক্ষক নিয়োগে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম অন্তত ৫০-৬০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এছাড়াও সর্বশেষ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওই প্রধান শিক্ষক উপর মহলকে ম্যানেজ করে ওই চারজন শিক্ষকের এমপিভুক্ত করিয়েছেন। অবৈধভাবে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত হওয়া ওই চার সহকারী শিক্ষক হলেন-দেলোয়ার হোসেন (ইনডেক্স নম্বর এন-৫৬৮০৮৩০৪), লিপিয়ারা খাতুন (ইনডেক্স নম্বর এন-৫৬৮০৮৩০৩), আনন্দ কুমার বিশ্বাস (ইনডেক্স নম্বর এন-৫৬৮০৮৩০৬) ও মমতাজ খাতুন (৫৬৮০৮৩০৫)। এর মধ্যে ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি মমতাজ খাতুনকে সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। আর ২০১৫ সালের ৭ জুন তারিখে দেলোয়ার হোসেনকে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান), লিপিয়ারা খাতুনকে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) ও আনন্দ কুমার বিশ্বাসকে সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) পদে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। অথচ তারা কোন দিন বিদ্যালয়ে আসেননি। সেপ্টেম্বর মাসে এমপিও শিটে স্বাক্ষর করতে গিয়ে শিক্ষক কর্মচারীরা হতবাক হয়েছেন। কারণ এমপিও শিটে নাম আসা ওই চার শিক্ষককে কখনো বিদ্যালয়ে দেখেননি। সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও শিট স্বাক্ষর করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক কর্মচারী প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ধমক খেয়েছেন। প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম সম্পূর্ণ গোপনে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতি সীমাহীন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তার হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা। জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের স্ত্রীকে সহকারী শিক্ষক (লাইব্রেরিয়ান),ভাতিজাকে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এবার তার ছেলেকে বিদ্যালয়ে নিয়োগের পায়তারা করছেন। নুরুল ইসলাম নিজে পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্তকৃত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও এই প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অনুদান, বরাদ্দ ও শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন চার্জ, পরীক্ষা ফি বাবদ উত্তোলিত টাকা নিজেই পকেটস্থ করে আসছেন। একই সাথে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন।
অপরদিকে সরেজমিন তদন্তে মাকাপুর বল্লভপুর স্কুলে পৌছালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে স্থানীয় গ্রামবাসিরা তৎক্ষনাত মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ওই স্কুলে ১১বছর ফ্রি শিক্ষকতা করা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী মোছা.মুসলিমা খাতুন বলেন, নুরুল ইসলাম চাকরির জন্যে আমার কাছ থেকে সাড়ে ৩লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে আমার নিবন্ধন ভূয়া বলে চাকরি দেননি। আর যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের এলাকার কেউ এমনকি কোনো ছাত্রছাত্রীও সেই শিক্ষদের চেনে না।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই চার জন শিক্ষকের বিভিন্ন সময়ে নিয়োগের কথা নিশ্চিত করে বলেন,আমি নির্বাচনে ব্যস্ত আছি। ১১ নভেম্বরের পরে কথা বলবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here