চৌগাছায় মুচলেকা দেয়ার একদিন পরই বিদ্রোহীর সঙ্গীকে মারপিট

0
284

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় ইউপি নির্বাচনে সহিসংতা থামছেই না। প্রার্থীদের অভিযোগ এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড হচ্ছে না। ফলে সহিংসতা বাড়ছে। নির্বাচনের দিন নিয়ে আংশকায় আছেন তারা। গত ১ নভেম্বর সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল ইসলামের উপর হামলা করে নৌকা সমর্থকরা। পুলিশের সহায়তায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তার পায়ে কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়। সেদিন তার প্রাইভেট গাড়িটি রড ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। কোনমতে দৌড়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে জীবন বাঁচান তিনি। এঘটনায় চৌগাছা থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন মামলা হয়নি। তবে নৌকা সমর্থক আটজনকে আটক করে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। আদালত মুচলেকা নিয়ে তাদের জামিন দেন। ২ নভেম্বর এ বিষয়ে চৌগাছা থানায় ডেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ-সহসভাপতি সহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে উভয় প্রার্থীর কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয় তারা নির্বাচনে কোন সহিংসতা করবেন না। এর একদিন পরই ৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে লিমন হোসেন (২২) নামে বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সফর সঙ্গীকে আহত করা হয়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন এ বিষয়েও তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি। একই রাতে নারায়নপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর বাজারে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুল ইসলাম ডাবলুর উপস্থিতিতে তার সমর্থকদের উপর হামলা করা হয়। এসময় তার দু’ সমর্থক আহত হন। তাদের মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয় এবং প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে একটি দোকানের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এরআগে ৩ নভেম্বর রাতে নৌকা সমর্থকরা স্বরুপদাহ ইউপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ আনোয়র হোসেনের খড়িঞ্চা বাজারের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে ভাংচুর করে। এক নভেম্বর রাতে নারায়নপুর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু হেনা মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে বাদেখানপুর বাজারে তার দুই সমর্থকের উপর হামলা করে তাদের মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। একই রাতে ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ৫ নং কুষ্টিয়া ফতেপুর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মফিজুর রহমানের এক সমর্থকের পানের বরজে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। ২৯ অক্টোবর জগদীশপুর ইউপির বিদ্রোহী প্রার্থী আজাদ রহমানের অফিসে হামলা চালিয়ে প্রার্থীসহ তিনজনকে মারাত্মক আহত করে নৌকা সমর্থকরা। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এঘটনায় মামলা না নেয়ায় প্রার্থী আজাদ থানার মধ্যে আত্মহত্যার হুমকি দেন। এরপর ৩১ তারিখে নৌকার প্রার্থী আজাদের আপন চাচা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে গেলে বিদ্রোহী প্রার্থী থানায় দেয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করেন। ২ নভেম্বর এক সমাবেশের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরে এসেছেন। একইদিন সুখপুকুরিয়ার বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে মারপিট করে নৌকা সমর্থকরা। এরআগে ২৬ অক্টোবর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে নারায়নপুর ইউপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও তার ছোট ভাইকে একই দিনে দু’বার হেনস্থা করে নৌকা সমর্থকরা। ফুলসার ইউপির ১নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মোঃ বাবুকে প্রার্থী হবার পর থেকেই হুমকি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ এক প্রার্থী। এমন হুমকি ও মারপিটের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটলেও কোন মামলা রেকর্ড না হওয়ায় তা দিনদিন বেড়েই চলেছে। সুখপুকুরিয়া ও স্বরুপদাহ ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। মৌখিকভাবে প্রার্থী জানিয়েছেন। আমরাও মৌখিকভাবে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেছি। এসব বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন নির্বাচনে সহিংসতা যেন না হয় সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। ভোট সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা সব প্রার্থী ও ভোটারদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। তিনি বলেন নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠ রাখতে আমরা প্রার্থীদের মুখোমুখি করাসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here