নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে আসতে নিষেধ করলেন ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান

0
315

স্টাফ রিপোর্টার ঃ আগামী ১১ নভেম্বর যশোরের ঝিকরগাছায় ইউপি নির্বাচন। নির্বাচন উপলে নৌকা মার্কার নির্বাচনী জনসভা থেকে ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, নৌকা মার্কায় যারা ভোট দেবেন না, তারা যেন সেদিন ভোটকেন্দ্রে না আসেন। ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বারিক ৭ নভেম্বর নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘণের অভিযোগ এবং তাদের পরে নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। ওই আবেদনের সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্কব্যের একটি অডিও কিপিংসও জমা দেয়া হয়েছে। আবেদনে মো. বারিক উল্লেখ করেছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ৫ নভেম্বর বিকেলে ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের লাউজানি স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন- কেউ নৌকা মার্কায় ভোট না দিলে তাদের ভোটের মাঠে আসার প্রয়োজন নেই। আর যদি কেউ আসে, তাহলে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। ১২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ওই অডিও কিপিংসে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ফিরিস্তিসহ আগামী ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বিষয়ে অনেক কথা বলেছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হচ্ছে, ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আমির হোসেনকে ভোট দিতে হবে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বারিককে উদ্দেশ করে বলেছেন- তিনি যেন খুব শিগগির সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন এবং নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দেন। ১১ তারিখের পর আর তাকে নৌকায় নেওয়া হবে না। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বারিকের পেছনে স্থানীয় একজন বিএনপিনেতা ও একজন জামায়াত নেতার ইন্ধন রয়েছে। তিনি ওই দুই নেতার উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা ভিন্ন ভিন্ন দল করেন; নিজেদের দলীয় শৃঙ্খলা রয়েছে। আপনাদের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন বর্জন করেছেন, আপনারা ভোটের মাঠে থাকবেন না। দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্যে তিনি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন। তিনি নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা সবাই জামায়াত-বিএনপিনেতাদের বাড়িঘর চেনেন। সবাই তাদের বাড়ি বাড়ি যাবেন, তাদের মিষ্টি করে বলবেন- ভোটের দিন মাঠে আসার দরকার নেই। তাদের বলবেন, ওইদিন আপনারা বাড়িতেই অবস্থান করবেন, না হলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে মুরগির মাংস খাবেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বিএনপি-জামায়াতনেতাদের উদ্দেশ্য করে তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন, আমরা অশান্তি চাই না। আপনারা যদি অশান্তি সৃষ্টি করেন, তাহলে এই যে এখন আপনারা ভালভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ব্যবসা বাণিজ্য করছেন- সেগুলোতে সমস্যা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বারিক এই বক্তব্য উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম এটি তার বক্তব্য নয় বলে এই প্রতিনিধিকে জানান। তিনি বলেন, আমি এ ধরনের কোনও বক্তব্য দিইনি। আমার বক্তব্য টেম্পারিঙ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা অফিসার মো. মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে এমন একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তার অনুলিপি আমার কাছে এখনও আসেনি। অনুলিপির কাগজ এলে আমার উপর যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক জায়গা থেকে কমবেশি অভিযোগ আমার কাছে আসছে। প্রতিটি অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here