কন্যা পাচারের প্রতিবাদ করায় গৃহছাড়া দিঘীরপাড়ের ফজিলা

0
236

মালিক্জ্জুামান কাকা, যশোর : সৎ পিতা কতৃক যশোরের অভয়নগর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক বিবাহিত তরুনী ভারতে পাচার হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ঐ তরুনীর মা গৃহবধূ ফজিলা বেগম স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে পিতার বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। কন্যাকে বোম্বে পাচারের প্রতিবাদ করায় স্বামী তাকে নির্যাতন করে গৃহ হারা করেছে। পাঁচদিন আগে অভয়নগর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ অভিযোগ আমলে আনছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, উল্লেখিত গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর কন্যা ফজিলা বেগম (৪৭) এর সাথে একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার পুত্র আজিবর মোল্যার বিবাহ হয় ১১/০৩/১৩ তারিখে। তার পূর্ব স্বামী আফজাল সরদারের মৃত্যুর পর তার ওরসজাত কন্যা নাজমা খাতুন ও রিক্তা খাতুন কে নিয়ে নতুন সংসার শুরু হয়। ইতিমধ্যে বড় ও ছোট কন্যার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্ত তার স্বামী আজিবর মোল্যা শশুরবাড়ি থেকে ছোট কন্যা রিক্তাকে এনে আটকে রাখে এবং শঙ্করপাশা গ্রামের বাবর আলী ওরফে সিংগির পুত্র কুদ্দুস বিশ্বাশ (২৫) ডেকে এনে তার হাতে কন্যাকে তুলে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। আজিবর মোল্যার আরো একজন সহযোগি ছিল দিঘীর পাড় গ্রামের শুকুর আলীর পুত্র মামুন শেখ। পরবর্তীতে মামুনের স্ত্রী প্রদত্ত তথ্যে জানা যায়, রিক্তা বোম্বে পাচার হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ও কন্যাকে ফেরৎ চাওয়ায় আজিবর মোল্যা স্ত্রী ফজিলাকে গত ১লা নভেম্বর মারধোর করে তাড়িয়ে দেয়। তার জামাতা জিল্লুর ভ্যানচালক খবর পেয়ে শাশুড়ীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শঙ্করপাশার মৃত মোজাহারের পুত্র জিল্লুর, পোড়াখালি গ্রামের মৃত হামিদ মোল্যার পুত্র আজিজুর রহমান, মৃত আক্কাস আলীর পুত্র আব্দুল জব্বার শেখ, মৃত মজের ফকিরের পুত্র আবু বক্কার ফকির এসব ঘটনার স্বাক্ষী। হাসপাতাল থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ফজিলা বেগম আজিবর মোল্যা, মামুন শেখ ও কুদ্দুস বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় অভিযোগ করেন। কিন্ত অভিযোগ পেশের পর পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ এখনো কন্যা রিক্তা পাচার ও গৃহবধূ মা ফজিলা কে নির্যাতনের ঘটনাটি আমলে আনেনি। এসআই তিতাস অভিযোগটি তদন্ত করার কথা। তবে এখনো তাকে এ বিষয়ে মামলা রজ্জু করতে বা আসামিদের আটকে ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছেনা। পুলিশের অবহেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আসামিরা বহাল তবিয়তে ঘর বাড়িতে বসবাস করছেন আর ফজিলা ও তার পিতার বাড়ির লোকজনকে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্বামীর নির্যাতনের শিকার ফজিলা এখনো তার কন্যার কোন হদিস পাননি। আর পুলিশ এখনো পর্যন্ত বিষয়টি আমলে আনেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here