ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শার্শায় রক্তয়ী সংঘর্ষ চলছে

0
232

শার্শা প্রতিনিধি : যশোরের শার্শায় প্রতিদিনই ঘটছে নির্বাচনী সহিংসতা। আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচন কে কেন্দ্র করে রক্তয়ী সংঘর্ষ এখন যেন প্রতিদিনের বাস্তব চিত্র। সহিংসতায় হতাহতের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করছে গোগা ইউনিয়ন, বাগআচড়া ইউনিয়ন, উলাসী ইউনিয়ন, ডিহি ইউনিয়ন এবং পুটখালী ইউনিয়ন। আর এই হামলায় রক্ত ঝরছে অনেক নিরিহ মানুষের। গত ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় শার্শা উপজেলায় নিহত হয়েছে দুইজন। এঘটনায় আহত প্রায় অর্ধশতাধিকেরও বেশি। গত ১২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এই নির্বাচনী সহিংসতা ও হতাহতের মাত্রা যেন ক্রমশ বেড়েই চলছে। আসন্ন নির্বাচনে নৌকার উপযুক্ত মাঝি না হওয়ায় আওয়ামী লীগের মধ্যে প বিভক্ত কে এর কারন বলে মনে করছে ইউনিয়নের সাধারণ জনগন। আবার অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন যারা নৌকার বিপে লড়ছেন তারা আওয়ামী লীগ করে না। তারা জামাত বিএনপির ছায়াতলে প্রকৃত আওয়ামী লীগের সুনাম কে হটাতে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিরোধিতা করছেন। যশোর থেকে বাড়ী ফেরার পথে গোগা বাজারে রশিদ চেয়ার ম্যানেরের সমর্থকের সাথে তবিবর রহমান সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষে ১২জন আহত হয়। আহত ১২ জনের মধ্যে ১১ নভেম্বর আলী ফকির মারা যান। আহত আলী ফকির শার্শা থানায় রশিদ চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি মামলাও করেছিলেন। এদিকে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সহিংসতা ও অস্ত্রের মহড়ায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে শার্শার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন। প্রতীক বরাদ্দের পর শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়ন গত ১৬ নভেম্বর দুই ইউপি সদস্য খানজাহান আলী ও কামরুজ্জামান জজ মিয়ার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে উভয়পরে ২২ জন কর্মী আহত হয়। জানা যায় এ দিন তালা প্রতীকের কামরুজ্জামান জজ মিয়ার সমার্থকরা নির্বাচনী কার্যলয়ে বসে মিটিং করছিলেন। এমন সময় প্রতিপ মোরগ প্রতীকের খানজাহান আলীর কর্মীরা অতর্কিত ভাবে রাম দা, সহ বিভিন্ন রকম ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ২২ জন রক্তাক্ত হলে তাদের শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায়ও উভয়প শার্শা থানায় অভিযোগ করেছিলো। একই দিনে অর্থাৎ গত ১৬ নভেম্বর শার্শার বাগআঁচড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেক ও নৌকার প্রার্থী ইলিয়াছ কবির বকুলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আনারস প্রতীকের সমর্থক মোস্তাক ধাবকসহ উভয় গ্রুপের সাতজন আহত হন। আহত সবাইকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মোস্তাক ধাবকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৭ নভেম্বর তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাত অর্থাৎ ২০ নভেম্বর ভোর ৪ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পর ওই এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিােভ করেন সমর্থকেরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনেন। এ ঘটনার পরের দিনই গত ১৭ নভেম্বর বাগআঁচড়া ইউনিয়নে রাত ১১ টার দিকে সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস প্রতীকের আব্দুল খালেকের কর্মীদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় আনারস প্রতীকের ৭ কর্মী রক্তাক্ত হয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। মিছিল চলাকালে দুই গ্রুপ মুখোমুখি হলে এ সংঘর্ষ হয়। এর পরের দিন আব্দুল খালেকের লোকজন বাগআঁচড়া সড়ক অবরোধ করে প্রায় ১ ঘন্টারও বেশি অবরোধ বিােভ চালায়। একই দিনে (১৭ নভেম্বর) দুপুর নাগাদ উপজেলার উলাশী বাজারে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকেরা সতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর ও কর্মী সমর্থকদের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। একই সাথে সম্বন্ধকাঠি মোড়ের মেম্বর পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলামের নির্বাচনী অফিসটিও ভাংচুর করে গুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় সতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব আয়নাল হকের কর্মী নজরুল ইসলাম সহ ৭ কর্মী আহত হয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়। এখন ভয়ে আতঙ্কে সাধারণ মানুষেরা কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সর্বশেষ গত ১৯ নভেম্বর শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী তবিবর রহমানের আনারস প্রতীকের ৩ কর্মী আশরাফুল,ফজের আলী,ও রবিউল কে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রশিদের কর্মী শাবুমদ্দি ও নেছার গুলি করে আহত করেছে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয় ও একজন আহত হয়। জানা যায়, এ ঘটনার আগের দিন রাতে নৌকার কর্মীরা আনারস প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। পরের দিন সকালে ইউনিয়নের পাঁচ ভুলট দাখিল মাদ্রাসা বল ফিল্ডে আনারস প্রতীকের কর্মীরা আগের রাতে ভাংচুর করা অফিস দেখতে গেলে হঠাৎ নৌকা প্রতীকের দুই কর্মী আনারস প্রতীকের প্রার্থী ও কর্মীদের ল করে বোমা ও গুলি ছোড়ে। এসয়ম আনারস প্রতীকের ২ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয় এবং কয়েকজন জখম হয়। পরে গুলিবিদ্ধ দুই জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এছাড়াও প্রতীক বরাদ্দের আগ মুহুর্তে অর্থাৎ গত ৭ নভেম্বর উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়ন এর ৪নং ওয়ার্ডের সোনাতনকাটি বামুনিয়া বাজারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাওয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গত ২ বারের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুলের সমর্থকেরা নৌকার মিছিল করতে গেলে সংঘর্ষে জামাত বিএনপি সমার্থিত কথিত আওয়ামী লীগ নেতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেক, ও তার ভাই রনকুল, আব্দুস সাত্তার, ভাইপো শিপলু, আনোয়ার হোসেন, আব্বাস আলী, আব্দুল মজিদ, আলতাফ হোসেন, সহ ১৫ থেকে ২০ জন গুরুতর আহত হয়। গতকল রবিবার সকালে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল গফফারের সমর্থকদের সাথে সতন্ত্র প্রার্থী নাসির উদ্দীনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারী সহ ৫ জন আহত হয়েছেন। বাড়ি ঘর ভাংচুর, অগ্নি সংযোগ সহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী এ সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের উভয় পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গত কয়েকদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা চাই যেন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তবে অনান্য বারের তুলনায় এ বছর বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে যেটি আমদের কাম্য নয়। পুলিশের সজাগ দৃষ্টি দিতে হবে এবং সহিংসতায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান বলেন, নির্বাচনী সহিংসতা যাতে আর না হয় সেজন্য পুলিশ তৎপর আছে। সুষ্ঠ নির্বাচন করতে প্রশাসন নিবিড় ভাবে কাজ করবে। ২৮ তারিখ নির্বাচনে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here