অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন/ চৌগাছায় ইউপি নির্বাচনে এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল ঘোষণার দাবি

0
123

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক মেম্বর প্রার্থী। সংবাদ সম্মেলনে ইউপি নির্বাচনে রেজাল্টশীটে এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফল ঘোষনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। সোমবার বেলা ১১ টায় প্রেসকাব চৌগাছায় তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ও বর্তমান মেম্বর প্রার্থী তৌফিকুজ্জামান মিঠু লিখিত অভিযোগে বলেন, গত ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪ নং ধুলিয়ানী ইউনিয়ন থেকে ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে (সিলিং ফ্যান) প্রতীকে আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি। আমার নির্বাচনী কেন্দ উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছিল। নির্বাচন পরিচালনা করতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনী কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্ট হিসেবে দ্বায়িত্বে ছিলেন রফিকুল ইসলাম, পিতাঃ মনিরুদ্দিন গাজী, আফগান হোসেন, পিতাঃ লোকমান হোসেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪.২০ মিনিট থেকে কেন্দ্রে দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা ভোট গণনা শুরু করেন। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার নিজের ইচ্ছে মতো ফলাফল ঘোষণা করেন। আমার দ্বায়িত্বরত এজেন্ট রফিকুল ইসলাম ভোট গণনায় সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ভোট গণনার জন্য অনুরোধ করলে, প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্রে দ্বায়িত্বরত পুলিশ অফিসার ও তালা মার্কার এজেন্টদের দিয়ে আমার এজন্টদেরকে হুমকি দিয়ে জামার কলার চেপে ধরে রুম থেকে বের করে এনে রুমের বাইরে বসিয়ে রাখেন। ভোট গণনায় রেজাল্ট শীটে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৪ জন, সংরিক্ষত মহিলা আসনে ৩ জন ও সাধারণ সদস্য ৪ জনের কারো শীটে নির্বাচনী এজেন্টদের স্বাক্ষর নেই। এছাড়া ভোটের ফলাফল শীটে নিজের ইচ্ছে মতো চেয়ারম্যান রেজাল্ট শীটে ভোটার উপস্থিতি দেখিয়েছেন ১০৩৮, অনুপস্থিতি ভোটার সংখ্যা ২৬২, সাধারণ সদস্যপদে উপস্থিত ভোটার সংখ্যা ১০৩৩, অনুপস্থিতি ভোটার সংখ্যা ২৬৭, সংরক্ষিত মহিলা আসনে উপস্থিত ভোটার সংখ্যা দেখিয়েছেন ১০৪১, অনুপস্থিত ২৫৯। রেজাল্ট শীটে ভোটার উপস্থিথির তারতম্য ও কোনো প্রার্থীর এজেন্টের স্বাক্ষর না করিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছে মতো ফলাফল ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টেরা প্রতিবাদ করলে প্রিজাইডিং অফিসার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আমার কর্মী ও সমর্থকদের শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। আমি দ্বায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসার মেহেদী হাসানকে অবহিত করলে তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় তিনি পুনরায় ভোট গণনার দাবী জানান। একই সাথে নির্বাচনী কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্থ করতে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা করার পর আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে হবে না । অভিযোগ করতে হবে ট্রাইব্যুনালে। এজন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নি। এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কেউ পাশ করে আনন্দে ছিলো আবার কেউ ফেল করে দুঃখে ছিলো এজন্য রেজাল্ট শীটে স্বাক্ষর করানো হয় নি। স্বাক্ষর ছাড়া তিনি কিভাবে রেজাল্ট ঘোষনা করলেন এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর তিনি দিতে পারেন নি। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রবীণ নেতা আয়ুব হোসেন, পোলিং এজেন্ট রফিকুল ইসলাম, আফগান হোসেন, যুবলীগ নেতা ফারুক আহমেদসহ অন্যান্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট, আক্তার হোসেন, শরিফুল ইসলাম, জনি হোসেন, রিপন হোসেন, শিবলু রহমান, মশিয়ূর রহমান, লিটন হোসেন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here