রাসেল মাহমুদ ॥ মাঠের পর মাঠ এখন সোনালি রঙের পাকা ধান। যতদূর চোখ যায় ধানের েেত পূবালী বাতাসে দোল খেলানো অপরূপ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন চাষিদের ধান কাটার উৎসব। যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর, কচুয়া, বসুন্দিয়াসহ আশপাশের গ্রাম অঞ্চলের মাঠে জুড়ে চলছে ধান কাটে ঘরে তোলার তোড়জোড়। চাষি-গৃহস্থ সবাই এখন ব্যস্ত মাঠের পাকা ধান গোলায় তুলতে। রূপদিয়া এলাকার জিরাট গ্রামের আমন চাষি ফারুক হোসেন বলেন, এ এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আমন ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে। এবছর আল্লাহর রহমতে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে, এতে আমরা খুব খুশি। কিন্তু ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতায় ফসলের কাক্সিত মূল্য পাওয়া নিয়ে বেশ শঙ্কা রয়েছে। তার মতো আরো অনেক কৃষকের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে তারা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রকৃত কৃষক বা চাষিদের কাছ থেকে সরকার ধান ক্রয় করলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যেত। সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বহু গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে সোনালি রঙের পাকা আমন ধানে পরিপূর্ণ। যতদূর চোখ যায় দেখা মেলে পাকা ধানের সমারহ। কোনো কোনো েেত কৃষকরা ধান কাটছেন। কৃষকেরা কেউ ধান কাটায় ব্যস্ত, কেউ আঁটি বাঁধায়। আবার কেউ মাথায় করে ধানের আঁটি নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির উঠানে। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই কারোর’ই। হালকা শীতের মিষ্টি সকাল থেকে পড়ন্ত বিকাল পর্যন্ত মাঠে মাঠে ফসল কাটছেন কৃষকরা। একদিকে কৃষকরা ধান কেটে বাড়ির আঙিনায় জড়ো করছেন। অন্যদিকে মেশিন দিয়ে ধান ঝাড়ার কাজ করছে চাষি। সাথে সাথে ধান মাড়াই শেষে বাতাসে উড়িয়ে বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করে গোলায় তোলার কাজে বেশ ব্যস্ত কৃষাণিও। এসব এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার আমন ধানের দাম আগে ভাগে নির্ধারণ করে দিলে তাদের উপকার হতো। গত কয়েক বছর তারা আমনের ন্যায্যমূল্য পাননি। আশা করছেন এবার ন্যায্যমূল্য পাবেন। বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও পোকার আক্রমণের পরও এবার আমন চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতিমা রানী জানান, এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে। যশোর জেলার রূপদিয়া অঞ্চল তথা নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৬’শ হেক্টর জমিতে এবার আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে”















