ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা চৌগাছায় হঠাৎ বেড়েছে ভিক্ষুক ॥ অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী উদ্বিগ্ন সচেতন মহল

0
243

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা যশোরের চৌগাছায় হঠাৎ করেই ব্যাপক ভাবে বেড়েছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। সপ্তাহের প্রতি দিনই বাজারে ভিক্ষুকের আনাগোনা দেখা গেলেও সাপ্তাহিক হাটের দিন শুক্র ও সোমবার এই সংখ্যা কয়েক গুন বেড়ে যায়। ভিক্ষুকদের কারনে বাজারের ব্যবসায়ীরাও বলাচলে অতিষ্ঠ।
সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষনা করেন সরকার। সে সময়ে উপজেলা প্রাসনের পক্ষ হতে ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরী করার পর বেশ ঘটা করেই তাদের মাঝে নগদ অর্থ, ছাগলসহ নানা ধরনের উপকরণ বিতরণ করা হয়। উদ্যোশ্য একটিই ওই সকল ব্যক্তি যেন আর ভিক্ষবৃত্তি না করে, তারা যেন স্বাবলম্বি হয়। সরকারের এই কার্যক্রমের পর বেশ কিছুদিন বাজারে ভিক্ষুক বলাচলে দেখাই যায়নি। কিন্তু সম্প্রতিকালে ব্যাপক ভাবে বেড়েছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। চৌগাছা উপজেলার ভিক্ষুকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও বিভিন্ন জেলা উপজেলা হতে প্রতি দিনই এখানে ভিক্ষুক আসছে এবং দিনভর প্রতিটি দোকানে যেয়ে তারা হাত পাতছেন। দিন শেষে ৫শ থেকে ৮শ টাকা রোজগার করে তারা বাড়িতে ফেরেন। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে চৌগাছা স্বর্ণপট্টিতে ভিক্ষাবৃত্তি করা ৬৮ বছরের বৃদ্ধ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মিছরিদেওয়াড়া গ্রামের আতাউল হকের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, সরকার থেকে বয়োস্কভাতা পাই কিন্তু তাতে চলেনা, তাই ভিক্ষার জন্য বাড়ি হতে বের হতে হয়। মহেশপুর উপজেলার বাতানগাছি গ্রামের ৫৫ বছরের বৃদ্ধা ছবেদা বেগম বলেন, কোন জায়গাজমি নেই, কাজ করেও খেতে পারিনা তাই ভিক্ষা করছি। চৌগাছার পাশাপোল গ্রামের ফুলছদ্দিন (৫৮) বলেন, সংসারে আয় রোজগার নেই, মাঠে জায়গা জমিও নেই। এক ছেলে যা রোজগার করে তাতে চলে না, তাই এই পেশা বেছে নিয়েছি। আমি শারীরীক ভাবে প্রতিবন্ধি বেশি হাঁটতে পারিনা, তাই সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত হেঁটেছি ৪শ টাকার মত আয় হয়েছে। কিছু কেনা কাটা করে এখন বাড়িতে যাব। বাজারের ব্যবসায়ী হোসেন আলী, আজিজুর রহমান, ইউছুপ আলী, মোহন, কামাল হোসেন, মহিদুল ইসলাম জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব কেটে যাওয়ার পর বাজারে আশংকাজনক হারে ভিক্ষুক বেড়েছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৮০ জন কোন কোন দিন ১শ’র উপরে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিতে হয়। অনেকে ১ টাকা নিতে চাইনা, আবার কেউ কেউ কন্যাদান, ছেলের চিকিৎসা, মায়ের চিকিৎসা সহ নানা ধরনের কথা বলে সাহায্য দাবি করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে, দোকানে বেচাকেনা হোক আর না হোক দোকান খুললেই তাদের টাকা দিতে হবে। ভিক্ষুকের সংখ্যা দিনদিন বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন উপজেলার সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here