আজ বাঘারপাড়ার ৯ ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন

0
199

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : আজ রোববার যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলায় ভোট নয় ইউপিতে। ৮১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে আজ। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। নিরাপত্তা জোরদার করতে টহলে নেমেছেন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলযোগের আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। প্রথমবারের মতো উপজেলার রায়পুর ইউপিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। ইতোমধ্যে শুক্রবার ভোটারদের প্রশিণের জন্যে স্ব স্ব কেন্দ্রে দিনব্যাপী অনুশীলন ভোটের (মকভোট) আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। জহুরপুর ইউনিয়নে সাতজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের আসাদুজ্জামান মিন্টু, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোটরসাইকেল প্রতীকের বদর উদ্দীন মোল্যা, আনারস প্রতীকের বিএনপি নেতা আবু তালেব ও চশমা প্রতীকে কাজী মনিরুজ্জামান, ঘোড়া প্রতীকে তরুণলীগ নেতা আলমগীর হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে শেখ রকিবুল ইসলাম আরজু এবং জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে রফিকুল ইসলাম। এই সাতজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও নির্বাচনে লড়াই হবে নৌকা ও মোটরসাইকেল প্রতীকের মধ্যে। জহুরপুর ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৬,৬৩৫ জন।
বন্দবিলা ইউনিয়নে নয়জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে সনজীত কুমার বিশ্বাস, ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ঘোড়া প্রতীকে মাসুম রেজা খান, বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢোল প্রতীকে জিয়াউর রহমান জয়, আনারস প্রতীকে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান তপন ও চশমা প্রতীকে আনোয়ার হোসেন ভুট্টো, মোটরসাইকেল প্রতীকে সাবেক চেয়ারম্যান কাজী কামরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে আনিসুর রহমান এবং জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকে আবু বক্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে ঘোড়া প্রতীকের মাসুম রেজা খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই ইউনিয়নে ৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকলেও নৌকা, আনারস ও হাতুড়ি প্রতীকের ত্রিমুখি লড়াই হবে। ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২৩,৭০৮ জন। রায়পুর ইউনিয়নে ছয়জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে মঞ্জুর রশিদ স্বপন, স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকে সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হক ও মোশারেফ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে জাহিদ হাসান এবং জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকে আবুল কাশেম মোল্যা। এই ছয়জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারেফ হোসেন ও জাকের পার্টির আবুল কাশেমের প্রচার-প্রচারণা নেই। নির্বাচনে লড়াই হবে নৌকা, আনারস ও চশমা প্রতীকের মধ্যে। ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২১,২১৪ জন। ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে চারজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে বাবলু কুমার সাহা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে আবু তাহের আবুল সরদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে ওয়াদুদ খান এবং জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকে জমির উদ্দীন মোল্যা। এই চারজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও ভোটে লড়াই হবে নৌকা ও আসারস প্রতীকের মধ্যে। ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২০,৭৫৮ জন। ধলগ্রাম ইউনিয়নে দুইজন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে রবিউল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে আতিয়ার রহমান সরদার। পরিচয়ে তারা চাচা-ভাইপো। নির্বাচনের প্রথম থেকে দুইজনের মধ্যে লড়াই থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভাইপো নৌকা প্রতীকের রবিউল ইসলামকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চাচা। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৫০২১। দরাজহাট ইউনিয়নে আটজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল প্রতীকে আয়ুব হোসেন বাবলু, আনারস প্রতীকে কৃষকলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী, ঘোড়া প্রতীকে জেলা পরিষদ সদস্য ইকবাল হোসেন, টেবিলফ্যান প্রতীকে রফিকুল ইসলাম, চশমা প্রতীকে বিএনপি ঘরনার গোলাম মোস্তফা ফুলমিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান ও জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের ওমর আলী। এ ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে নৌকা ও আসারস প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই হবে। এখানে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১৫,৪৬০ জন। বাসুয়াড়ি ইউনিয়নে পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে আমিনুর সরদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান আনারস প্রতীকে আবু সাঈদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকে জামায়াত নেতা মশিয়ার রহমান, মোটরসাইকেল প্রতীকে মিজানুর রহমান ও ঘোড়া প্রতীকে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান। এ ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে নৌকা ও ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই হবে। এখানে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১৮,২৭৯ জন। দোহাকুলা ইউনিয়নে চারজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান আবু মোতালেব, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা অরুন কুমার অধিকারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের রুহুল কুদ্দুস ও জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতিকের নুর জালাল। এ ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে নৌকা ও আনারস প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই হওয়ার কথা ছিল তবে ভোটের আগের দিন বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা অরুণ কুমার অধিকারী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়া, জামদিয়া ইউনিয়নে পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নৌকা প্রতীকে আরিফুল ইসলাম তিব্বত, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে বিএনপি নেতা এফএম আসলাম হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংদেশের হাতপাখা প্রতীকের খাইরুল ইসলাম মিঠু ও ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমান লাল। এ ইউনিয়নে নৌকা ও আনারস প্রতীকের মধ্যে মূল লড়াই হবে। এখানে ভোটার সংখ্যা ১৮,৯৭৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here