জমে উঠেছে ১০ নং চাঁচড়া ইউপি নির্বাচন

0
232

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : চাঁচড়া ইউনিয়নের নির্বাচন জমে উঠতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক পেতে ১০ জন মাঠে রয়েছেন। ২৫ নভেম্বর যশোার সদর উপজেলার চাঁচড়া ও দেয়াড়া ইউনিয়নের বর্ধিত সভা থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়। চাঁচড়া ইউনিয়নে মনোনয়ন চান জেলা শ্রমিকলীগের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা পান্নু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুরে মাহবুব, সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামিম রেজা, সদর উপজেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদিয়া মৌরিন, ফিরোজ কবির পিকুল, কবিরুজ্জামান কাজল, সাজ্জাদুর রহমান বাবু। গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পরাজিত প্রার্থী আনোয়ারুল করিম আনু বর্ধিত সভা থেকে তার নাম উল্লেখ করে রেজুলেশন করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা প্রার্থী হতে পারেন।
যশোর সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ন একটি ইউনিয়ন ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ। শহর জেলা ও উপজেলার রাজনীতিতে অবদান রয়েছে এই ইউনিয়নের। জেলার বলিষ্ঠ অর্থনীতির ধারক এখানকার মৎস্যখাত। জেলার সিংহভাগ মৎস্য হ্যাচারী এখানেই অবস্থিত। তহসীল আফিস ঃ ১টি, আশ্রায়ন কেন্দ্র ঃ ১টি, ব্রীজ ঃ ৪টি, নদী ঃ ১টি, ইটভাটা ঃ ৫টি, গুদাম ঘর ঃ নেই, পুকুর ঃ ১৫০ টি, খাল : ৮টি, বিল ঃ ৫টি, গভীর নলকুপ ঃ ৬৬ টি, অগভীর নলকুপ ঃ ১৭৬ টি, ইউনিয়নের আয়তন ঃ ৩,১৯৮ হেক্টর, গ্রামের সংখ্যা ঃ ১৭ টি, পরিবারের সংখ্যা ঃ ৫,৪৬১ টি, বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঃ ৮টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪টি, কিন্টার গার্ডেন ঃ ২ টি, দাখিল মাদ্রাসা ঃ ৪ টি, আলিম মাদ্রাসা ২টি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সঃ ১টি, মসজিদ ঃ ৭৩ টি, ব্যাংক ঃ ১টি, গন পাঠাগার ঃ ২টি, মৌজা সংখ্যা ঃ ১৫ টি, জন সংখ্যা ঃ ৪৩,০০০ জন, মোট ভোটার সংখ্যা: ২৮,৬০০ জন, বিদ্যালয় মাধ্যমিক ঃ ৮টি, সিনিয়ন ফাজিল মাদ্যাসা ঃ ২ টি, এবতেদায়ী মাদ্রাসা ঃ ২টি, কমিউনিটি কিনিক ঃ ৬টি, কবরস্থান ঃ ১৪ টি, শ্বসান ঃ ৫টি, হাটবাজার ঃ ৫টি, কলেজের সংখ্যা ঃ ২টি, পাকা রাস্তার পরিমান ঃ ১২ কি: মি:, কাচা রাস্তার পরিমান ঃ ৩০০ কি: মি, হেরিংবোন রাস্তার পরিমানঃ ১০ কি: মি:, আবাদযোগ্য জমির পরিমান ঃ ২,৭৫২ হোক্টর, অনাবাদি জমির পরিমান ঃ ৬২৮ হোক্টর, সেচ আওতাধীন জমির পরিমান ঃ ২,৭৫২ হোক্টর, জে,এস,সি ও এস,এস,সি পরীার কেন্দ্র- ১ টি, কলেজ- ২টি । ইউনিয়নের প্রতিটি টি স্টল, হোটেল, হাট-বাজার এখন সরগরম। প্রত্যেকের আলোচনায় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বর প্রার্থী ও তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ড। ছেলে বুড়ো সকলেই আলোচনায় হয় নিজেরা বলছেন। নইলে মনোযোগ সহকারে শুনছেন।
ওয়ার্ড ভিত্তিক লোকসংখ্যা- সাড়াপোল ঃ মহিলা- ১৬৬০ জন, পুরুষ ১৭৮৭ জন, মোট ৩৪৪৭জন। বানিয়াবহুঃ মহিলা- ৩৯৯ জন, পুরুষ-৪২৬ জন, মোট ৮২৫ জন। গোয়ালদাহ ঃ মহিলা ৯০৪ জন, পুরুষ- ৮৭০ জন, মোট ১৭৭৪জন। কল্যানদাহ ঃ মহিলা- ৩০৫ জন, পুরুষ- ২৯৭ জন, মোট ৬০২জন। রদ্রপুর ঃ মহিলা- ৫৩৯ জন, পুরুষ- ৫২১ জন, মোট ১০৬০ জন। করিচিয়া ঃ মহিলা- ১২০৬ জন, পুরষ- ১১৬৫ জন, মোট ২০১৮জন। তেঁতুলিয়া ঃ মহিলা- ৬৬৪ জন, পুরুষ- ৬৪৮ জন, মোট ১৩১২ জন। মাহিদিয়া ঃ মহিলা- ২৯৪১ জন, পুরুষ- ২৯৮৪, মোট ৫৯২৫জন। রুপদিয়া ঃ মহিলা- ১৮১১ জন, পুরুষ- ১৮৮৭ জন, মোট ৩৬৯৮ জন। বড় মেঘলা ঃ মহিলা- ১৩৪৫ জন, পুরুষ- ১৩০৫ জন, মোট ২৬৫০ জন। ছোট মেঘলা ঃ মহিলা- ৭৭০ জন, পুরুষ- ৮০২ জন, মোট ১৫৭২ জন। বেড়বাড়ী ঃ মহিলা- ৬০২ জন, পুরুষ- ৭৪৬ জন, মোট ১৩৪৮ জন। ভাতুড়িয়া ঃ মহিলা- ১৮৭০ জন, পুরুষ- ১৯৮৭ জন, মোট ৩৮৫৭ জন। চাঁচড়া ঃ মহিলা- ৪৮১৯ জন, পুরুষ- ৪৯৭২ জন, মোট ৯৭৯১ জন। তপস্বীডাঙ্গা ঃ মহিলা- ১৯৮৮ জন, পুরুষ- ২০১৯ জন, ৪০০৭ জন। চাঁচড়া ইউনিয়নে হত দরিদ্রের সংখ্যা ৩৯৪ জন। ভিজিএফ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫৫২ জন। ভিজিডি উপকারভোগী মহিলার সংখ্যা ৯২ জন। ৫০ জন নারী বিধবা ভাতা উপকার ভোগী। ৪১ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে চাঁচড়া ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নের ৪৩৫ জন বিদেশে রয়েছেন। বুড়ির পাড় গ্রামের ২৪ জন দেশের বাইরে রয়েছেন। ১২টি প্রকল্প কাজ হয়েছে এই ইউনিয়নে।
আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম রেজা প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের পুত্র। তার প্রতি ভোটারদের একটি সফট কর্নার রয়েছে। গোলাম মোস্তফার উপরও আস্থা আছে অনেকের। কেননা চেয়ারম্যান থাকা কালীন তিনি সাধারন মানুষের উপকারের প্রচেষ্টায় ছিলেন। দরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাকে অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দ করেন। তবে এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে অনুমিত হচ্ছে। কেননা যশোর-৩ সদর আসনের এমপির যেমন প্রভাব এখানে, তেমনি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপির অনুসারিদের প্রভাব খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই। অন্যদিকে প্রয়াত আলহাজ্ব ইকরামুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, আব্দুর রাজ্জাক ফুল ছিলেন বিএনপি মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান। তারও আগে মল্লিক ছিলেন এখান বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে গোলাম মোস্তফার বিজয়ের সম্ভাবনা প্রবল। এসবই সাধারন ভোটারদের বক্তব্য। নইলে কে জানে ৫ জানুয়ারি এই ইউপি থেকে কোন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাগ্যে শিঁকে ছিড়বে বিজয়ের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here