‘চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে’ বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে অনবদ্য উৎসব

0
218

‘চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে’Ñ এই শ্লোগানে এবার বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে আনন্দে মেতে উঠবে যশোরবাসী। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে যশোর জেলা ও উপজেলায় ২১ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর শহরে ৭ দিন এবং অপর ৭টি উপজেলায় দুদিন করে ১৪ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখা নেতৃবৃন্দ উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন। জানান, ৫ ডিসেম্বর ৫০ জন চিত্রশিল্পী পৌরপার্কে আয়োজিত আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোড’ শিরোনামে ছবি আঁকবেন। যশোর শহর ছাড়াও বৃহত্তর যশোর জেলা, খুলনা ও ঢাকার শিল্পীদের অনেকেই ইতিমধ্যে যশোর এসে পৌঁছেছেন। ৬ ডিসেম্বর টাউন হল ময়দানে যশোর মুক্ত দিবস উদযাপন ও ২১ দিন ব্যাপী বিজয় উৎসবের উদ্বোধন এবং শোভাযাত্রা বের করা হবে। এখানে বিজয়ের ৫০ উপলক্ষে ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৫০টি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যসহ সংসদ সদস্যরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান।
১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভার দিন জেলা সদরের সপ্তাব্যাপি উৎসব আয়োজন শেষ হবে। এদিন সংস্কৃতি সমাবেশে যোগ দেবেন সংস্কৃতিজন লিয়াকত আলী লাকী ও নাট্যজন রুহুল কুদ্দুস। সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন আমাদের জীবনে এক অনন্য প্রাপ্তি। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সর্বোপরি বিজয়ের ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে এ উৎসব মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে নেতৃবৃন্দ জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব উদযাপন পর্ষদের চেয়ারম্যান হাবিবা শেফা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও উৎসব পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার দাস, হারুন অর রশীদ, দীপংকর দাস ও ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সদস্য সচিব ও জোট সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, উপদেষ্টা সাজেদ রহমান বকুল ও এসএম তৌহিদুর রহমান, অনুষ্ঠান উপ-পর্ষদের আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান বুলু, অর্থ উপ-পর্ষদের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারু, প্রচার উপ-পর্ষদের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম ও আপ্যায়ন উপ-পর্ষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজয়ের ২০ বছর উদযাপনের ৩০ বছর পর এই প্রথম যশোরে এত বড় সম্মিলিত উৎসব হতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিককালের সেরা উৎসবেও পরিণত হতে যাচ্ছে এটি। কারণ উৎসবে শুধু যশোর শহরেরই নয়, বরং ৭টি উপজেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা, লোকজ গান, বাউল গানের আয়োজন রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচি রদবদল হতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ জানান। তারা আরও জানান, বিজয়ের ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে তথ্যসমৃদ্ধ একটি অনবদ্য স্মরণিকাও প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে আর্ট ক্যাম্পের ছবিসমূহ নিয়ে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরিতে ৬ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীর ছবিসমূহ বিক্রি করা হবে। উৎসবের নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে : ৬ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় টাউন হল ময়দানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক উৎসব উদ্বোধন করবেন। ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৫০টি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং ৫০ জন শিল্পী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করবেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের উজ্জীবনী সংগীত ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ পরিবেশন করবেন ৫০ শিল্পী। সমবেত সংগীতের শিল্পীদের মধ্যে থাকবেন : রফিকুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, পার্থ, রনি মন্ডল, অমিতাভ দাস, মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন, মানিক বর্মন, দিলীপ, শোভন, সুস্মিতা, আমিন বাবু, রিপন এবং সুরবিতান, উদীচী, সুরধুনী ও পুনশ্চের ৫ জন করে মেয়ে ছেলে শিল্পী। ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টা থেকে ৫.১০ মিনিট শিশু শিল্পীদের পরিবেশনা থাকবে। এর মধ্যে ভৈরব, স্পন্দন ও তির্যক ১০ মিনিট করে এবং পুনশ্চ ১৫ মিনিট পরিবেশন করবে। থাকবে পুনশ্চের শিশু বিভাগের নাটক। বিকাল সোয়া ৫টা থেকে বড়দের অনুষ্ঠানে সুরবিতান ৩০ মিনিট, স্পন্দন ও উৎকর্ষ ১৫ মিনিট করে, নৃত্যবিতান ৩০ মিনিট, মণিরামপুর জোট ৩০ মিনিট, বাঘারপাড়া ৩৫ মিনিট অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। থাকবে তির্যক যশোরের নাটক। এছাড়া এদিন মণিরামপুরের ২ ঘণ্টার কবিগান পরিবেশিত হবে। এদিন বেলা পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শ্রেষ্ঠা ও শিমু বিশ^াস এবং সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কামরুল হাসান রিপন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন। ৮ ডিসেম্বর বুধবার পৌনে ৪টা থেকে শিশু শিল্পীদের অনুষ্ঠানে যশোর শিল্পী গোষ্ঠী, শিশু একাডেমি, উৎকর্ষ ১০ মিনিট করে, শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য ১০ মিনিট, সুরনিকেতন, সুরবিতান, স্বরলিপি, সপ্তসুর ১০ মিনিট মিনিট পরিবেশন করবে। বিকাল সোয়া ৫টা থেকে বড়দের অনুষ্ঠানে সুরধুনী ৩০ মিনিট, শীলা রানী দাস, কাজী শাহেদ আহমেদ ও আব্দুল আফ্ফান ভিক্টর আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। স্বরলিপি ও কিংশুক ২০ মিনিট করে, স্বরগম ১০ মিনিট, আশাবরী ৫ মিনিট, নন্দন ১৫ মিনিট, অগ্নিবীনা ১০ মিনিট, শার্শা ও ঝিকরগাছা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ৩০ মিনিট করে অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। থাকবে উদীচী যশোর ও যশোর শিল্পী গোষ্ঠীর নাটক এবং সদর উপজেলার একঘণ্টার লোক সংগীত। এদিন বেলা পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আফরোজা নাসরিন নিলিমা এবং সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত শর্মিষ্ঠা ভট্টাচার্য্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন। ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টা থেকে শিশু শিল্পীদের অনুষ্ঠানে শেকড়, চাঁদের হাট ও সুরধুনী ১৫ মিনিট করে, সন্ধ্যায় বড়দের অনুষ্ঠানে উদীচী ৩০ মিনিট, বিবর্তন ৭ মিনিট আবৃত্তি, মাইকেল সংগীত একাডেমি ও ভৈরব ১৫ মিনিট করে, সৃষ্টিশীল ও অগ্নিবীনা ১০ মিনিট করে, তির্যক ২০ মিনিট ও চৌগাছা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ৩০ মিনিট অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। ডায়মন্ড কাব ও শিল্পী সৃষ্টি পরিবেশন করবে নাটক। থাকবে সদর উপজেলার দেড়ঘণ্টার বাউল গান। এদিন বেলা পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রুহিনা শারমিন এলিস এবং সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত শুভঙ্কর গুপ্ত অনুষ্ঠান উপস্থাপন করবেন।
১০ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল সোয়া ৩টা থেকে কবিকন্ঠে কবিতা থাকবে একঘণ্টার। বিকাল সোয়া ৪টা থেকে শিশু শিল্পীদের অনুষ্ঠানে নৃত্য বিতান ও উদীচী ১৫ মিনিট করে, বিবর্তনের ১০ মিনিটের আবৃত্তি রয়েছে। বিকাল সোয়া ৫টা থেকে বড়দের অনুষ্ঠানে পুনশ্চ ৩০ মিনিট, সুরনিকেতন ১০ মিনিট, শেকড় ২০ মিনিট, চাঁদের হাট ও কেশবপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ৩০ মিনিট করে অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। এদিন থাকবে বিবর্তন যশোরের নাটক এবং সদর ও কেশবপুর উপজেলার একঘণ্টা করে লোক সংগীত। এদিন বিকাল সোয়া ৩টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত শাহরিয়ার সোহেল, সোয়া ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শাহরিন সুলতানা নিশি এবং সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শীলা রানী দাস অনুষ্ঠান উপস্থাপন করবেন। ১১ ডিসেম্বর শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে সংস্কৃতি সমাবেশ। এতে আলোচক থাকবেন সংস্কৃতিজন লিয়াকত আলী লাকী ও নাট্যজন গোলাম কুদ্দুস। উৎসব পর্ষদের চেয়ারম্যান হাবিবা শেফার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেবেন সানোয়ার আলম খান দুলু। বিকাল ৫টা থেকে সমবেত সংগীত অনুষ্ঠানে সুরধুনী, উদীচী, সুরবিতান ও পুনশ্চের শিল্পীরা ২টা করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন। একক আবৃত্তি করবেন কামরুল হাসান রিপন, শ্রাবনী সুর, সাধন বিশ^াস ও জাহিদুল ইসলাম যাদু। একটা করে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করবে শেকড়, উদীচী ও নৃত্য বিতান। অভয়নগর জোটের পরিবেশনা থাকবে ৩০ মিনিট। ঢাকাস্থ যশোরের শিল্পীরা পরিবেশন করবেন একঘণ্টার অনুষ্ঠান। যশোর ইনসটিটিউট নাটক এবং অভয়নগরের বাউল গান থাকবে একঘণ্টার। এদিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজী শাহেদ নেওয়াজ, ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আমেনা খাতুন ও আব্দুর নুর অনুষ্ঠান উপস্থাপন করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here