১০ নং চাঁচড়া ইউপির নৌকা প্রতীকধারী চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিম রেজা পান্নুর পক্ষে বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলন

0
326

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোর সদর উপজেলার ১০নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীক প্রাপ্ত সেলিম রেজা পান্নু’র পক্ষে বিপক্ষে সোমবার সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। প্রেসকাব যশোরে এদিন প্রথম সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতা পান্নুর বিপক্ষে অবস্থানকারিরা তার নৌকা প্রতীক বাতিল দাবি করেন। দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে পান্নু পক্ষীয়রা নৌকা প্রতীক সঠিক ব্যক্তির কাছেই দেওয়া হয়েছে দাবি করা হয়। সকাল ১১ টায় চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব ওয়াজেদ আলী মোড়লের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সেলিম রেজা পান্নুর মনোনয়ন বাতিল দাবি করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান ভূইয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ফুল, গতবারের নৌকা প্রতীকধারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ারুল করিম আনু প্রমুখ। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইউপি আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, সেলিম রেজা পান্নু আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী। তার মা জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। তার মামা মোজাহার হোসেন নল্যা দীর্ঘদিন চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ভাতুড়িয়ায় নৌকার প্রচার মিটিং চলাকালে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা কবিরুজ্জামান কাজল কে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করে। এসময় কাজলের ভাই হাফিজুর ও রাজু আহম্মেদকেও তারা জখম করে। তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল আজিজ বিশ্বাস সেসময় উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই পান্নু বাহিনীর সন্ত্রাসীরা ভাতুড়িয়ার নুরু মহুরীর পুত্র মৎস্য ব্যবসায়ী ইমরোজ কে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। পান্নুর প্রতিষ্ঠান মা মনি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে ভায়গ্রা মাদক আমদানির বিভিন্ন সংবাদ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া চাঁচড়া ও আশেপাশের সকল ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ভ্যান চালকরা তার চাঁদাবাজির শিকার বলে সংবাদ সম্মেলনকারিরা অভিযোগ করেন। নেতৃবৃন্দ সেলিম রেজা পান্নুর মনোনয়ন বাতিল দাবি করেন। তারা মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্য থেকে অন্য কারো বাছাই করে নৌকা প্রতীক চাঁচড়ায় বরাদ্দ চান। পান্নু বিরোধীরা লিখিত বক্তব্যে চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান ভূইয়া উল্লেখ করেছেন। বিপরীতে পান্নু পক্ষীয়রা মশিয়ার রহমান কে চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক দাবি করেছেন। লিখিত বক্তব্যে দুজনরেই নাম ও দস্তখত যথারিতী রয়েছে। তবে কে প্রকৃত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক তা শেষ পর্যন্ত সুরাহা হয়নি।
সোমবার দুপুরে সেলিম রেজা পান্নুর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আজাহার মোল্যা, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মশিয়ার রহমানসহ পান্নু পক্ষীয়রা। নেতৃবৃন্দ বলেন, সেলিম রেজা পান্নু পেশাদার চালক হিসেবে ২০০৪ সালে যশোর জেলা মোটর ওয়ার্কার্স এসোসিয়েশনের সদস্য হন। এর মূল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন যার সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান খান। তার আগে ঐ সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন পাবনার সংসদ সদস্য ওয়াজি উদ্দিন খান। ২০১৮ সালে তিনি যশোর জেলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। নেতৃবৃন্দ আরো জানান, পান্নুর দুই মামার একজন শাহদাত রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। অন্যজন শাহজাহান হোল্ডিং মিস্ত্রি। প্রতিবেশী একজনকে তার মামা বানিয়ে তাকে বিএনপি সভাপতি আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এরা পান্নুর বিপক্ষে একটি মহলের উদ্দেশ্য প্রনোদিত অপপ্রচারের নিন্দা জানান। এছাড়া এরা জানান, পান্নুর বিপক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আব্দুর রাজ্জাক ফুল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন চাঁচড়ার বিএনপি মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান। ২০১৬ সালে এই ফুলের নেতৃত্বেই নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে প্রচারনা চালানো হয়েছিল। এছাড়া পান্নু বিরোধী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেকেই আগেও নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এরা বরাবর নৌকার বিরুদ্ধে থেকেও নিজেদের আওয়ামীলীগ দাবি করেন। নইলে চাঁচড়ার সাধারন নিবেদিত প্রাণ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা সেলিম রেজা পান্নুর প্রাপ্ত নৌকা প্রতীকের বিজয় চায়। তারা তাকে ৫জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে ১০নং চাঁচড়ার ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবেও দেখতে আগ্রহী। তারা সেই অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে বসে আছেন বলে পান্নু পক্ষীয়রা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চাঁচড়া ইউনিয়নের অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা সেলিম রেজা পান্নুর বিরুদ্ধে বেশকিছু মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগ অনুপ্রবেশকারী বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি যে যুবদলের নেতা ছিলেন তার কোন প্রমাণ তারা দাখিল করতে পারেননি। প্রকৃতপে তিনি কখনো যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। তার মাকে বলা হয়েছে, জামায়াতের সক্রীয় কর্মী। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার মায়ের বয়স ৭০ বছরের বেশি। তিনি ২০১৮ সালে পবিত্র হজব্রত পালন করে এসেছেন। তিনি গত বছর করোনা আক্রান্তও হয়েছিলেন। তিনি সব সময় বাড়িতেই থাকেন এবং তাদের বাড়িতে আসা মানুষকে নামাজ পড়ার দাওয়াত দেন। এটাকেই তারা জামাত কর্মী হিসেবে প্রমাণ করছে। সংবাদ সম্মেলনে চাঁচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাহার আলী মোল্ল্যা, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সভাপতি বেদারুল কাদের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সভাপতি বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লগের সহসভাপতি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদসহ বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here