যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ৭ কোটি টাকা গায়েব তদন্ত প্রতিবেদনে জড়িতদের জালিয়াতির দায়মুক্তির চেষ্টা

0
275

মালিকুজ্জামান কাকা : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিা বোর্ড যশোরের ৩৮টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সাত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জালিয়াতিতে জড়িতদের দায় মুক্তি দেওয়ার তথ্য মিলেছে। একমাসেরও বেশি সময় নিয়ে তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে অসম্পূর্ণতা রয়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতির অর্থের গন্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাসহ আরেক উপসহকারী প্রকৌশলীকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। চেক জালিয়াতির ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় গত ৭ অক্টোবর। এর প্রধান ছিলেন বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. বিশ্বাস শাহিন, সোনালী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. সালাহ উদ্দিন, বোর্ডের প্রোগ্রামার মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বোর্ডের উপসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। কমিটি চার দফা সময় বাড়িয়ে গত ১৪ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়ার পর বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন ও সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজাকে শিা অধিফতরের এক প্রজ্ঞাপনে ওএসডি করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়া তদন্ত কমিটির সেই প্রতিবেদনের একাংশে দেখা গেছে, এই প্রতিবেদন যথার্থ হিসেবে আমলে নিলে জালিয়াতিতে অভিযুক্ত বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়মুক্তি পাবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায় ৩৮টি চেকের মধ্যে দুইটিতে জালিয়াতি হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৩৬ চেক জালিয়াতির দায় প্রত্য বা পরো ভাবে বোর্ডের বরখাস্তকৃত হিসাব সহকারী কর্মচারী আব্দুস সালাম (পলাতক) এবং তার সঙ্গে ৩৪টি চেক জালিয়াতির ঘটনায় প্রত্য বা পরোভাবে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শেখ আশরাফুল ইসলাম বাবু জড়িত। তবে একজন কর্মচারী আর একজন বহিরাগত সরবরাহকারী কীভাবে বছরের পর বছর ৩৬টি চেকে বোর্ডের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে, তার সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা তদন্ত প্রতিবেদনে নেই। তদন্তে নাম উঠে আসা আশরাফুল ইসলাম বাবু অবশ্য কেবল ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং নয়, আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিজের বলে দাবি করেছেন। মোট ১০ প্রতিষ্ঠানের নামে সব চেক জালিয়াতি হলেও মেসার্স শাহীলাল স্টোর ছাড়া সবগুলোতে আশরাফুল ইসলাম বাবুর জড়িত থাকার বিষয়ে মত দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে এ সব জালিয়াতির মদদ দাতা বা সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা হয়নি। ১০টি জেলার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটিতে কীভাবে মাত্র দুইজন ব্যক্তি এভাবে এত বড় দুর্নীতি করেছেন, সে বিষয়েও কিছু বলা হয়নি।
সরকারের শিা সচিব এর আগে গণ মাধ্যমকে জানান, এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপোয় থেকে শিা মন্ত্রণালয় আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। কিন্তু এই তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জালিয়াতির অনেক তথ্য স্পষ্ট করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যশোর শিা বোর্ড ১০ জেলার উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত শিা ব্যবস্থা পরিচালিত করে। তারা প্রশ্নপত্র তৈরি করে, খাতা দেখে ও রেজাল্ট দেয়। প্রতিটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত গোপনীয়তায় হয়। এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মচারী ও একজন বহিরাগত যদি এভাবে নানা ধরনের জালিয়াতি করে থাকেন, তাহলে বোর্ডের সব কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। যশোর শিা বোর্ডের এই জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়লে শুরুতে বোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দাবি তোলে, আব্দুস সালাম ও আশরাফুল ইসলাম বাবুকে আইনি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত সত্য বের হবে। তখন জড়িত সবাইকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। তদন্ত কমিটি শেষ মুহুর্তে সেই সত্যটি স্বীকার করেছে। প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় দেখা যায়, আব্দুস সালাম ও আশরাফুল ইসলাম বাবু বোর্ডের চেক, অ্যাকাউন্টের টাকা ও কমিটির সঙ্গে একের পর এক ‘গেম’ খেলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রথম দফায় জিজ্ঞাসার সময় সালাম ও আশরাফুলকে তারা সামনা সামনি পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তাদের সাাৎ না পেলে মোবাইল ফোনে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ েেত্র সালাম একাধিকবার সময় ও সিম নম্বর পরিবর্তন করেছেন। তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে অজ্ঞাত থেকেছেন। এক পর্যায়ে এ-ও জানিয়েছেন, আদালতে তিনি নিজেকে প্রকৃত দোষী হিসেবে স্বীকার করে নেবেন, জড়িতদের নাম সেখানে প্রকাশ করবেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আশরাফুল ইসলাম বাবু নামে-বেনামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা হওয়ার কথা স্বীকার করলেও তিনি কোনো টাকা নেননি বলে দাবি করেছেন তদন্ত কমিটিতে। বলেছেন, সব টাকা আব্দুস সালাম নিয়েছেন। সরল বিশ্বাসে তিনি এসব কাজ করেছেন। এত টাকা সালাম কেন নিয়েছেন তদন্ত কমিটির এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তিনি সালামকে বিশ্বাস করতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের এই চেক জালিয়াতিতে মূলত আব্দুস সালাম ও আশরাফুল ইসলাম বাবু দায়ি। কয়েকটি চেক জালিয়াতিতে নূর এন্টারপ্রাইজের গাজী নূর ইসলাম সহযোগী ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তদন্ত কমিটির যে প্রতিবেদনটি শিা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে, সেটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যশোর শিা বোর্ডে প্রথম দফায় ৯টি, পরে একটি, এরপর ১৬টি এবং সবশেষ ১২টিসহ মোট ৩৮টি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এই চেকগুলো দুই ধরনের। কিছু চেক ভ্যাট আয়করের এবং কিছু চেক প্রতিষ্ঠানের নামে করা। এই চেক গুলো ঘষামাজা করে টাকার অঙ্ক পরিবর্তন করা হয়েছে। সালাম তদন্ত কমিটির কাছে ঘষামাজার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে চেকে স্বারকারী চেয়ারম্যান ও সচিব স্বীকার করেছেন, চেকের তিনটি অংশের টাকার পরিমাণ এক দেখে তারা সই করেছেন। এেেত্র আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, তিনি ব্যাংকের অংশে টাকা পরিবর্তন করে পরে চেক সই করিয়েছেন। প্রেস ব্যবসায়ী শেখ আশরাফুল ইসলাম বাবুও টেম্পারিংয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। কমিটি অবশ্য আব্দুস সালামের যুক্তির সঙ্গে কিছু কারণে একমত হননি। কমিটির মতে চেকগুলো টেম্পারিং করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ি ৩৬টি চেক ১০ প্রতিষ্ঠানের নামে গেছে বলে জানানো হয়েছে। এর ১৮টি চেকে ৩,৩৫,৬৪৫২ টাকা শেখ শরিফুল ইসলাম বাবুর মালিকানাধীন ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, সানিয়া ইলেকট্রনিক্স, শরিফ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেস ও মিম প্রিন্টিং প্রেসের নামে। এর মধ্যে কেবল ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামেই ১১টি চেকে ২,৫১,৫৩,৯২৭ টাকা লেখা হয়েছে। বাবু জানিয়েছেন, তিনি রাজারহাটে দেশ প্রিন্টার্সেও পরিচালক হিসেবে ওই অফিসে বসেন। স্থানীয় প্রেস ব্যবসায়ী ও শিা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে দেশ প্রিন্টার্সের লোক বলেই জানেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রত্যাশা প্রিন্টিং প্রেসের নামে সাতটি চেকে ১,৫০,৭৭০৩৭ টাকা লোপাট হয়েছে বলে উল্লেখ হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয় বাবু তার মালিকানাধীন ৪,৮৫,৮৩,৪৮৯ টাকা জালিয়াতির মাধমে নিয়েছেন। তবে বাবুর দাবি, সব টাকা নিয়েছেন সালাম। এদিকে নূর এন্টার প্রাইজের নামে শিক্ষা বোর্ডের আটটি চেকে ১,২৩,৯৬,৪০৮ টাকা জমা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক গাজী নূর ইসলাম এর পেছনে বাবুকে দায়ি করেছেন। তবে বাবুকে তিনি চেনেন না বলে দাবি করেছেন। তদন্ত কমিটির মন্তব্য, এই আটটি চেকের টাকা যোগ করলে ৬ কোটির বেশি টাকা লোপাটের সঙ্গে জড়িত এই আশরাফুল ইসলাম বাবু। তদন্ত রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, সবুজ প্রিন্টিং পেসের নামে প্রায় পৌনে ১২ লাখ টাকার একটি চেক জালিয়াতি হয়েছে। ওই প্রেসের মালিক অসীত খাঁ মারা গেছেন। বোর্ডে দাখিল করা দরপত্রে প্রোপ্রাইটরের নাম আশরাফুল লেখা। মিম প্রিন্টিং প্রেস ২০-২৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। তার মালিকও মারা গেছেন। নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে যে দরপত্র দাখিল করা হয়েছিল, তাতে আবুল কাশেমের সই দেওয়া হয়েছে। অথচ আবুল কাশেম ১৭/১৮ বছর আগে মারা গেছেন। এরকম কিছু ঘটনা উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নামের প্রতিষ্ঠানে এখনো কীভাবে কাগজ হালনাগাদ হচ্ছে, তা তদন্ত কমিটির কাছে বোধগম্য হয়নি। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে দাবি করেছেন ব্যাংকের গ্রাহক সুরা আইনে তথ্য পাওয়া যায়নি। কার নামে কোন কাগজের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট চলছে, তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। উল্লেখ করার মতো বিষয়, যে ১০ প্রতিষ্ঠানের নামে এই চেক জালিয়াতি হয়েছে, তার ২৭টি যশোরের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে জমা হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকে মিম প্রিন্টিং প্রেসের নামে ৯,৭৮,৫২৫ টাকার যে চেক জমা হয়েছে, সে বিষয়ে ওই প্রেস মালিক বলেছেন, গত ১৫ বছর তিনি বোর্ডের কোনো কাজ করেননি। অগ্রণী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে শেখ শরিফুল ইসলাম বাবু সম্পর্কে বলা হয়েছে, বোর্ডের কেউ না হয়েও বোর্ডের সব ট্যুর ও বার্ষিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন তিনি। চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেনের সান্নিধ্যে থাকতেন। করোনাকালে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন কোনো কর্মসূচিতে গেলে, বাবু ও কামাল তার সফরসঙ্গী হতেন। শুধু তাই নয়, শিা বোর্ডের ২০২১ সালের প্রকাশিত ক্যালেন্ডারে বোর্ড চেয়ারম্যানের ধান কাটার ছবিতে শেখ শরিফুল ইসলাম বাবু ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন রয়েছেন। বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাবুর এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বোর্ডের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকেই বলেছেন, চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর প্রত্য মদদে এসব দূর্নীতি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে চেয়ারম্যনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের দায় খুঁজে না পাওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা আরো জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব তথ্য ও সুপারিশ এসেছে সেগুলো প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট নয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বোর্ডের পে হারানো টাকা উদ্ধার সম্ভব নয়। যশোর শিা বোর্ডের এই জালিয়াতির তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তদন্ত প্রতিবেদন শিা মন্ত্রণালয় গণ মাধ্যমকে অবহিত করবে। শিা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। একই মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের। সেখান থেকে জানানো হয়েছে; ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্যগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই হয়ে গেলে প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গৃহিত হবে।’ গত ৭ অক্টোবর যশোর শিা বোর্ডে ভ্যাট আয়করের ৯টি চেকে জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। পরে আর একটি চেকসহ মোট ১০টি চেকে ২,৬২,৪২০২০ টাকা তুলে নেয়। এ ঘটনায় বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, ওই ১০টি চেক জমা হওয়া ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শেখ আশরাফুল ইসললাম বাবু, মেসার্স শাহীলালা স্টোরের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে আরও ২৮টি চেকে জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়। এ গুলোও আগের মামলার তদন্তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে দুদক যশোর অফিস। অন্যদিকে চেক জালিয়াতির মূল হোতা আব্দুস সালাম দুইটি বহুতল বাড়ি নিশ্চিন্তে তৈরি সম্পূর্ন করছেন বলে ই-ব্লকের বাসিন্দা আব্দুস সালামের পড়শীরা জানিয়েছেন। একজন পিয়ন হয়েও কিভাবে শিক্ষা বোর্ড হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম কোটি কোটি টাকা হ্যান্ডলিং করেছে তা তাদের কাছে চরম বিস্ময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here