শৈলকূপায় ছাত্রবাসে ইবি শিার্থীদের উপর হামলা

0
358

শৈলকূপা প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকূপায় একটি মেসে এলাকাবাসীর হামলার শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পড়ুয়া শিার্থীরা। এঘটনায় অন্তত ছয়জন শিার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) মধ্যরাতের দিকে ১ নং ত্রিবেনী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের সাকসেস কোচিং সংলগ্ন রবিউল ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আনন্দনগর গ্রামের স্থানীয় ও ইবির আল-কোরআন বিভাগের কর্মকতা জাহিদুল ইসলাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিয়ে এই অনাকাঙ্তি ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের সদস্য রেজাউল করিম খাঁন ঘটনাস্থলে এসে পরিবেশ কিছুটা শান্ত করেন। এছাড়াও একাধিক শিার্থীরা দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালেও তারা ঘটনাস্থলে অনেক দেরিতে পৌঁছায়। কিছুণ পর শিার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে ক্যাম্পাসে আসার পর ইবি থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয় । তাতনিক আহতদের বিশ্বদ্যিালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার জেরে গভীর রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইবি ক্যাম্পাস। প্রত্যদর্শী ও ভূক্তভোগীরা জানান, ত্রিবেনী রোডের সাকসেস কোচিং সংলগ্ন রবিউল ইসলাম মেসে ১২ জন শিার্থী অবস্থান করেন। গুরুতর আহত হওয়া আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৪-১৫ শিাবর্ষের কামাল উদ্দীনের মাস্টার্স শেষ হয়েছে। এজন্য গতকাল সোমবার রাতে তারা মেসে সবাই মিলে ট্যুরের পরিকল্পনা করছিলেন। মেসের পাশেই বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলামের। পরে মঙ্গলবার রাতে জাহিদ তাদের মেসে আসেন এবং কামালকে ডাকেন। এরপর শিার্থীদের চিল্লাচিল্লির কারণে তার ঘুম ভেঙ্গে যায় বলে জানান। এর আগেও শিার্থীরা মেসে চিল্লাচিল্লি করেন বলে অভিযোগ করেন। পরে মেসে থাকা অন্য শিার্থীরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে জাহিদ চটে যান এবং শিার্থীদের শাসান। একপর্যায়ে জাহিদ শিার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর জাহিদ শিার্থীদের হুমকি ধামকি দিয়ে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মেস থেকে চলে যান। পরে তিনি অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জনকে নিয়ে শিার্থীদের উপর হামলা করেন। এসময় হামলাকারীদের হাতে লাঠি, বাঁশ, কাঠ, রড লাইট ছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যদর্শীরা। এরপর শিার্থীরা মেস থেকে পালিয়ে ক্যাম্পাসে চলে আসেন। এতে একজন গুরুতরসহ অন্তত পাঁচ জন শিার্থী আহত হয়েছেন। সাথে সাথে শিার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে জানালে কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি এবং পুলিশও অনেক পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শিার্থীরা। ভূক্তভোগী কামাল উদ্দীন বলেন, জাহিদ ভাই আমাদের পাশের মেসে থাকেন। রাতে আমাদের মেসে আসেন এবং আমরা প্রতিনিয়ত চিল্লাচিল্লি করি বলে অভিযোগ করেন। একইসাথে তিনি রাগারাগি করেন এবং আমাদের হুমকি ধামকি মেস থেকে চলে যান। পরে তিনি ৩০/৪০ জনকে নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করেন। তিনি (জাহিদ) নিজেও আমাকে মেরেছে।
অভিযুক্ত জাহিদ হোসেন বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। মারামারির ঘটনার সাথে আমার সংশিষ্টতা নেই। উল্টো শিার্থীরা আমাকে বিনা কারণে অভিযুক্ত করে আমার বাড়ির গেটে ইট পাটকেল মেরেছে। আমি বিষয়টি প্রক্টরকে জানিয়েছি। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মেস মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, শিার্থীরা আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমি বিচার চাইবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর নির্দেশনার অপোয় ছিলাম। তাই ঘটনাস্থলে যেতে দেরি হয়েছিল। প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর সহকারী প্রক্টর শফিককে ঘটনাস্থলে যেতে বলেছি এবং পুলিশকে জানিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here