যশোর সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচন-২০২১ আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ৩৮ প্রার্থীই নৌকার মাথাব্যাথা

0
194

মালিকুজ্জামান কাকা : কেন্দ্র থেকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন যশোর সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। প্রতীক প্রাপ্ত নৌকার ১৫ জনের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের ৩৮ প্রার্থী এখন প্রবলভাবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। আগামী ৫ জানুয়ারির ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোর সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের লড়াই করতে হবে দলের নেতাকর্মীদের সাথে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন মূলত তারাই তির কারণ হবেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জন্য। এমনটিই মনে করছেন ভোটাররা। ১৫ টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের দলের ৩৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এটি তাদের জন্য কিছুটা হলেও বিব্রতকর বলে মনে করছেন কোনো কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী। সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ১৫ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে। অথচ সকল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর সংখ্যা গুনে গুনে ৩৮ জন। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের অন্যান্য দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি নিজ দলের এই ৩৮ জনের সাথে লড়াই করতে হবে।
হৈবতপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে আবু সিদ্দিক কে। এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু বক্কার গাজী, আওয়ামী লীগ কর্মী হরেণ কুমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট নেতা আহম্মদ আলী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোমিনুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অন্যান্য দলের প্রার্থীদের সাথে এসব প্রার্থীর সাথে লড়তে হবে আবু সিদ্দিককে। লেবুতলায় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আলীমুজ্জামান মিলন। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলাম। ইছালীতে আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন ফেরদৌসী ইয়াসমিন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়ুব হোসেন, আওয়ামী লীগ কর্মী শাহানারা খাতুন ও আজিজুর রহমান।
নওয়াপাড়ায় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রাজিয়া সুলতানা। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন ইউনিয়ন যুবলীগের অহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর তুহিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য কাজী আলমগীর হোসেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক মোশারফ হোসেন, জেলা যুবলীগের সদস্য কেরামত আলী মোল্লা ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান। রাজিয়া সুলতানাকে দলের পাঁচজন প্রার্থীর সাথে লড়াই করতে হবে। উপশহরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এহসানুর রহমান লিটু। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন রত্ন। রত্ন যদি প্রার্থী না হতেন তাহলে লিটু বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হতেন। সেই পথ এখন বন্ধ।
কাশিমপুরে আওয়ামী লীগের নৌকা পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এই ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মেহেদী খালিদ হোসাইন ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএম সাইফুল স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দাউদ হোসেন। তার বিপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মুন্না, প্রজন্ম লীগ নেতা আলমগীর কবির, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ও শ্রমিক লীগ নেতা মোহাম্মদ বাদশা। দেয়াড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত আলী। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান। আরবপুরে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মীর আরশাদ আলী রহমান। এখানে একই দলের পে নুরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান ও খন্দকার ফারুক আহমেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। চাঁচড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শ্রমিক লীগ নেতা সেলিম রেজা পান্নু। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আব্দুল আজিজের ছেলে শামীম রেজা ও তাঁতি লীগের সাবেক নেতা ফারুখ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। রামনগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজনীন নাহার। এখানে আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল হোসেন, জেলা তরুণ লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান লাইফ, আওয়ামী লীগ কর্মী জুলেখা বেগম ও শেখ জামাল উদ্দিন টুটুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফতেপুরে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন শেখ সোহরাব হোসেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কর্মী ফাতেমা আনোয়ার, আবু তাহের সনু, আলমগীর হোসেন ও শিল্পী খাতুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কচুয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফর রহমান ধাবক। এখানে আওয়ামী লীগ কর্মী শেখ মাহমুদ হোসেন ও আব্দুর রশীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। নরেন্দ্রপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোদাচ্ছের আলী। এই ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা রাজু আহমেদ, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসেন ফেরদৌস আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এবং বসুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল। এই ইউনিয়নে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজিজুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
ভোটাররা জানান, একই দলের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। কোন কোন ইউনিয়নে মনোনয়ন বঞ্চিতরা যোগাযোগ করছেন ভিন্ন দলের প্রার্থীদের সাথে। বিশেষ করে স্বতন্ত্রের মোড়কে বিএনপি থেকে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের সাথে লিয়াঁজো করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দল থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যা দলের জন্য মোটেই সুখকর নয়। কিছুতেই একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এটি ভাল খবর হতে পারে না বলে মতামত ব্যক্ত করছেন অনেকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here