স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর প্রথমে যশোরে আশা বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া সেই অজিত চক্রবর্তীর খোজ রাখেনি কেউ

0
359

আনিছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার : স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর সর্ব প্রথম বঙ্গবন্ধু যশোর পৌর পার্কে সমাবেশ করেন। ঐ সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকে ফুল দিয়ে বরণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক বঙ্গবন্ধুর স্নেহের যশোর মনিরামপুর উপজেলার সাবেক জনপ্রিয় সংসদ প্রয়াত এ্যাড খাঁন টিপু সুলতান। তিনি ফুলের প্রয়োজনে ছুটে যান পুরাতন কসবার জোয়াকিম অজিত চক্রবর্তীর বাসায়। এবং ফুলের প্রয়োজনের বিষয় খুলে বলেন। বলা মাত্রই ফুল বাগানের মালিক জোয়াকিম অজিত চক্রবর্তীর বড় বোন প্রিয় নেতার জন্য ফুল বাগান থেকে অনেক গুলো ফুল তুলে এনে একে একে পাচটি মালা তৈরী করে দেন। পাঁচটি মালা ও অজিত চক্রবর্তী কে সাথে নিয়ে খান টিপু সুলতান বঙ্গবন্ধুকে বরণ করতে সমাবেশে যান। তিনটা মালা নিয়ে যশোরবাসীর পে বরণ করলেন স্নেহের টিপু এবং দুইটা মালা নিয়ে যশোরবাসীর পে বরণ করলেন অজিত চক্রবর্তী। যার শুভেচ্ছা সনদ প্রদান করেছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যশোর জেলা ইউনিট কমান্ড এর কমান্ডার রাজেক আহমেদ ও সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ এবং বাংলাদেশে খ্রিস্টান এসোসিয়েশনের যশোর জেলার সভাপতি। অথচ আজ সেই জোয়াকিম অজিত চক্রবর্তীর খোজ খবর কেউ রাখেনি। নিরুপায় হয়ে তিনি এখন যশোর শহরের পুরাতন কসবার বাসা বাড়ির পাশে একটি হোমিও চেম্বার করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন। গত কয়েকদিন পুর্বে যশোর শহরের পুরাতন কসবার কারবালা রোর্ডে শুমঙ্গলা হোমিও চেম্বারে বসলে অজিত চক্রবর্তী আপে ভরে তার জীবন কাহিনী প্রতিনিধির সামনে তুলে ধরেন । এ সময় অজিত চক্রবর্তী বলেন, ৭২ এর ২৬ ডিসেম্বর ফুলের মালা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নেওয়ার পর তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করার পর জীবনের সব কিছু ত্যাগ করে মানব সেবায় ব্রত হই। প্রথম জীবনের কাজের দতায় ১৯৮৩ সালে যশোর ক্যাথলিক চার্চ থেকে বেষ্ট বয় হিসাবে ফাদার ভিক্টর এর কাছ থেকে পুরুষ্কার প্রাপ্ত হই। ১৯৮৬ সালে যশোরে ফাদার তেরেসার অনুষ্ঠানটি যুব প্রতিনিধি হিসাবে পরিচালনা করার সুযোগ পায়। জাতীয় টিকাদান কার্যক্রমে (ইপিআই) দীর্ঘ ১০ বছর অংশ গ্রহন করে সফল দতায় পুরুষ্কার প্রাপ্ত হই। এইচ আই ভি, এইডস এর সচেতনা বুদ্ধির উপর আট বছর কাজ করে সনদপ্রাপ্ত হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের শিা ও পরিচর্যার উপর ১০ বছর কাজ করেছে। রোটারি ইন্টারন্যাশনাল যশোরের এক চু চিকিৎসার সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এর উপর ট্রেনিং প্রাপ্ত ছিলেন তিনি। শিশু পাচার প্রতিরোধ মূলক কর্মকান্ডে এনজিও ও জিও হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি গাছ লাগাও দেশ বাঁচাও ব্যানারে যশোর জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী হিসাবে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যশোরে প্রথম আশা বঙ্গবন্ধুকে নিজ বাড়ির ফুল বাগানের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া ও জনসেবার কাজে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেওয়া সেই অজিত চক্রবর্তীর আজ কেউ খোজ রাখেনি। নিরুপায় হয়ে মায়ের নামে করা যশোর পুরাতন কসবা কারবালা রোর্ড এর পাশে শুমঙ্গলা হোমিও চেম্বার করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করে মানবতায় জীবন যাপন করছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here