মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : ভবদহ অঞ্চলকে মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প বাতিলের দাবি উঠেছে। একই সাথে মাঘী পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালুর দাবি জানানো হয়। অদূ্েরই এই দাবি মানা না হলে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যশোর ডিসি অফিস চত্বরের অবস্থান কর্মসূচি পালনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। রবিবার ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের আগে সংপ্তি বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন। জেলা প্রশাসকের পে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহবায়ক রনজিত বাওয়ালী, যুগ্ম আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ গাজী, শিবপদ বিশ্বাস, অনিল বিশ্বাস, কার্তিক বকশী, অমিতাভ মল্লিক, সাধন বিশ্বাস, রাজু আহমেদ, মনিমোহন মন্ডল, রবি সরকার প্রমুখ। স্মারকলিপিতে বলা হয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজসে ভবদহবাসীকে ডুবিয়ে মারার একের পর এক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা বার বার এবং সর্বশেষ গত ৯ নভেম্বর স্মারকলিপির মাধ্যমে আপনার হস্তপে কামনা করেছি। আমরা দাবি করছি আমডাঙ্গা খাল প্রস¯স্ত করে খনন, বিল কপালিয়ায় টিআরএম এবং পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম চালু করে নদীর নাব্যতা রা ও জলাবদ্ধতার অবসান এবং উজানে পদ্ম-মাথাভাঙ্গা-ভৈরবের নদী সংযোগের সাথে মুক্তেশ্বরী নদীকে যুক্ত করে প্রবাহমান করা। যা নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে প্রতিশ্রুতি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মাধ্যমে জনগণের সাথে অব্যাহত প্রতারণা করা হচ্ছে। আন্দোলনের চাপে সম্প্রতি একনেকে আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের বরাদ্দ হয়েছে বলে আমরা অবহিত হয়েছি। যা অবশ্যই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু সে কাজ দ্রুত ও লুটপাট বর্জিত স্বচ্ছভাবে হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। এই পথে পানি যেতে পারবে সর্বোচ্চ ২৫ ভাগ। তাতে উপরের পানির চাপে একাংশ নামবে এবং কিছুটা হলেও স্বস্তির সৃষ্টি হবে। তবে চূড়ান্তভাবে সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য দরকার টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন। টিআরএম প্রকল্প গ্রহণ না করায় ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে প্রায় ৫০-৬০ কিলোমিটার নদী মেরে ফেলা হয়েছে। এেেত্র পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারের নদী বাঁচানোর গৃহিত নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা জনগণকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার হাতে জিম্মি করে অর্থ লোপাটের স্থায়ী পরিকল্পনা ফেঁদেছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সহজ ও পরীতি সমাধান টিআরএম না করার জন্য জেদ ধরেছে। এজন্য তিগ্রস্ত এই জনপদের মানুষের জন্য বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে প্রয়োজন বলে অনুধাবন করছে ভবদহের ভূক্তভোগী মানুষ। যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, ঝিকরগাছা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা থানা এলাকার ৫২টি বিল এলাকা ভবদহ নামে পরিচিত। এসব অঞ্চলের পানি বের হওয়ার জন্য বিরাট একটি স্লুইস গেট আছে। কিন্তু পলি পড়ে স্লুুইস গেটের দুই পাশে ভরাট হয়ে গেলে আশির দশকে এই অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেই থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতা নিরসনে শত শত কোটি টাকা খরচ করেছে। গত অর্থ বছরেও এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু তার কোনো ইতিবাচক ফল হয়নি। গত কয়েক দিনের বর্ষণে ফের ডুবতে বসেছে ভবদহ অঞ্চল। ভবদহ অঞ্চলের ১৩০ গ্রাম প্লাবিত : পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, গত অর্থ বছরে এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য হরিহর নদীর পলি অপসারণে ৮০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। ভবদহ স্লুুইস গেটের উজান ও ভাটিতে ব্যয় করা হয়েছে আরো অর্ধকোটি টাকা। স্থানীয়রা বলেছেন, জ্যৈষ্ঠে দুই দফা ভারি বৃষ্টিতে ভবদহ অঞ্চলের সব বিল পানিতে ভরে যায়। সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে ঘের তৈরি ও নদীগুলো পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বিলের মধ্যে পানি জমে যায়। সর্বশেষ বর্ষায় ভারী বর্ষণে অধিকাংশ এলাকায় বিলের পানি উপচে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। কোনো কোনো এলাকার রাস্তাও তলিয়ে গেছে। মণিরাপুর, অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মণিরাপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়ন, নেহালপুর ইউনিয়ন, কুলটিয়া ইউনিয়নের প্রায় সব গ্রামই এখন পানিবন্দি। শ্যামকুড় ইউনিয়নের হাসাডাঙ্গা গ্রামবাসী বলেন, গত বছর পানিতে বাড়ি ঘর সব ভেঙে যায়। কয়েক মাস রাস্তার উপর ছিলেন অনেকেই। এখনো সেই তি পুষিয়ে নিতে পারিনি এরা। এরই মধ্যে আবার পানি বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেছে। গরু, ছাগল নিয়ে আবার রাস্তার উপর থাকতে হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, হরিহর নদীর পানি উপচে পড়ে এলাকা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। উপজেলার পাজবাড়িয়া গ্রামের বাদল মাল্লিক, কুমার মল্লিক, কুমারসীমা গ্রামের গৌতম মল্লিক, তাপস কুমার রায়, প্রণব রায় বলেন, শুনেছি আমাদের জলাবদ্ধতা নিরসনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু জল তো বাড়ি উঠে গেছে। গত বছরের মতো এবারও দুই এক দিনের মধ্যে রাস্তায় যেতে হবে। একই অবস্থা কেশবপুরে। কেশবপুর পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষই এখন পানিবন্দি। এছাড়া উপজেলার পাজিয়া, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের অনেক গ্রামের মানুষ বিপদের মুখে পড়েছে। পৌর এলাকার মধ্যকুল গ্রামবাসী জানান, গ্রামের অনেকেরই ঘরের মধ্যে পানি জমে আছে। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। অভয়নগর উপজেলার ডাঙ্গামশিয়াহাটি, বেদভিটা, সুন্দলী, ফুলেরগাতি, বারান্দি, দিঘলিয়াসহ এ অঞ্চলের প্রায় সব গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেকে বাড়ি ঘর ছেড়ে রাস্তায় চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন এই মৌসুমে।
তালা থেকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পাইকগাছার আগড়ঘাটায় উদ্ধার
কাজী লিয়াকত হোসেন,তালা : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদ পারাপারের সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিউল ইসলাম (৫০)-এর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। রোববার সকালে খুলনার...
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোংলায় দোয়া অনুষ্ঠানে ড. লায়ন ফরিদুল ইসলাম— বিএনপি...
মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী বলেছেন, লায়ন ড. ফরিদুল ইসলাম বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয়...
নির্বাচনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চৌগাছায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ও চেকিং
চৌগাছা পৌর প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তল্লাশি কার্যক্রম...
ঝিনাইদহে মাটি খুঁড়তে গিয়ে দুটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড উদ্ধার
স্টাফ রিপোটার,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বড় গড়িয়ালা গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে অবিস্ফোরিত অবস্থায় দুইটি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা...
যশোরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
যশোর অফিস : যশোর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের...















