২০২২ বর্ষবরণে ২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি গদখালিতে

0
320

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা পরিস্থিতিতে দুইবছর ঘরে আটকে ছিল মানুষ। নতুন বছর ২০২২ ইংরেজী বর্ষ বরণে উৎসবে মেতেছিল ফুলের রাজধানী যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি কেন্দ্রিক গ্রাম গুলোতে। বছরের প্রথম দিন থেকে নানা বয়সের মানুষ জড়ো হয়ে আনন্দ উল্লাস করেছেন। গদখালির বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন নানা রঙ-বর্ণ ও গন্ধের ফুলের ছড়াছড়ি। দেশের বিভিন্ন উৎসবে প্রয়োজনীয় ফুলের ৭৫ শতাংশই যায় এখান থেকে। এবারের ইংরেজি বর্ষবরণে গদখালি থেকেই দেড় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম। ২০২১ সালের কোভিড হতাশা, কান্তি, গ্লানি ও হতাহতের, সামাজিক আটকের দুঃখ ভুলতে বন্ধু পরিবার নিয়ে মানুষ জড়ো হয়েছিল এই ফুলের রাজ্যে। ঘুরেছেন ফুলের বাগানে। স্মৃতি ধরে রাখতে তুলেছেন ছবি। করছেন ভিডিও। যশোর সদরের টিউলিপ মেরিনা বলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনটা বাড়িতে কাটিয়েছি। ২য় দিনে দেশের ফুলের রাজধানী গদখালিতে এসে খুব ভালো লাগছে। ঝিকরগাছা পৌর শহরের মৌলী নাহিদা বলেন, দুইবছর ধরে ঘরবন্দি ছিলাম। কোথাও নির্ভয়ে বাইরে বেড়াতে পারিনি। এবার ছাড়া পেয়েই ফুলের রাজ্যে গদখালি আসতে পেরে বেজায় ভালো লাগছে। নাভারণ বুরুজবাগানের কাকলী বলেন, ফুলের রাজধানী যশোরের গদখালিতে এসে নতুন বছরের তৃতীয় দিনটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করতে পারছি। খুবই ভালো লাগছে। নাজমুন নাহার বলেন, তাই কয়েক বান্ধবী, বর সন্তানরা মিলে গদখালি এসেছি। আনন্দ উপভোগ করতে এর থেকে ভাল উপায় আর হাতের কাছে নেই। না আসা বান্ধবীদের উপহার দেওয়ার জন্য ফুল কিনেছি। ফুলের বাগানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি। সবাই মিলে বেশ আনন্দ করছি। তরুণ উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন, আমি গদখালি বাজারে ও অনলাইনে ফুল বিক্রি করি। গত পাঁচ দিনের বেচা-বিক্রি খুবই ভালো। বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে শত শত মানুষের সমাগম ঘটে গদখালিতে। তারা এসে ফুল কেনে, ফুলবাগানে গিয়ে ছবি তোলে। এসব দিনগুলোতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয় এই এলাকায়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার এখানে বর্তমানে মানুষের ভীড় দেখার মত। বাংলাদেশ ফাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, এবার ইংরেজি বর্ষবরণে পাঁচ দিনে দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছয় ইউনিয়নের প্রায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুলচাষের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কৃষক এবং প্রায় এক লাখ শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here