অবৈধভাবে চলছে কুন্দিপুর হীরা ব্রীকস্ প্রভাব খাটিয়ে মালিকানাধীন গাছ কাটার অভিযোগ

0
413

শার্শা প্রতিনিধি : পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকা অবৈধ ইট ভাটায় হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন নিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ ও গাছের ডালপালা কেটে উজার করার অভিযোগ উঠেছে ভাটা মালিকের বিরুদ্ধে। গাছের প্রকৃত মালিক জহিরুল আলম লিন্টু ইট ভাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আ : গফুর টিটুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে পরিবেশের কোন ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে হীরা ব্রীকস্ নামে একটি ইট ভাটা। জনবসতি ও ফসলি জমির মাঝে গড়ে উঠেছে ইট ভাটাটি। যার খুব কাছেই কুন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে ভাটার কার্যক্রম চালুর মাঝে কয়েকবার পত্র পত্রিকায় লেখালেখি হলেও অদৃশ্য কারনে তা বন্ধ হয়নি। এলাকার মানুষ সহ ফসলি জমি তির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিার্থীরাও ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় জীবন যাপন করছে বছরের পর বছর। এলাকাবাসী অনেক বার বিভিন্ন দপ্তরে এই ভাটা থেকে পরিত্রান চেয়ে উপর মহলে দরখাস্ত করলেও হীরা ব্রীকস্ ও মালিক প রয়েছে বহাল তবিয়তে। সম্প্রতি ভাটায় হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ নেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করেছেন ভাটা মালিক আ: গফুর টিটু। লাইনটি পাশ হওয়ার আগেই নিজের স্বার্থসীদ্ধির জন্য সড়কের পাশে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রকার মোটা গাছ ও ডালপালা কেটে উজার করে দিয়ে ব্যাপক তি সাধন করেছেন। গাছের মালিক জহিরুল আলম লিন্টু গাছ কাটার বিষয়টি ভাটা মালিক আ: গফুর টিটুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও গাছ কাটার বিষয়টি অকপটে অস্বীকার করেন তিনি। গাছের মালিক জহিরুল আলম লিন্টু বলেন, ভাটায় হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন নেওয়ার জন্য আমার গাছের ডালপালা কাটার অনুমতি চান ভাটা মালিক। গাছ ও গাছের ডালপালা যেন না কাটা হয় সেজন্য আমি নিষেধ করি। কিন্তু পরে আমার অনুমতি ব্যতিতে ভাটা মালিক আ: গফুর টিটু তার লোকজন দিয়ে আমার আম, শিশু, মেহগনি গাছ সহ বিভিন্ন প্রকার গাছ ও গাছের ডালপালা কেটে ব্যাপক তি সাধন করেছে। তার জন্য আমি উর্দ্ধতন কতৃপরে কাছে আশু হস্তপে কামনা করছি। অভিযুক্ত হীরা ব্রীকস্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আঃ গফুর টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন গাছের ডালপালা কেটেছে বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ এর জোনাল অফিসের ডিজিএম আলমগীর হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার কোন লোকজন সেখানে গাছ কাটতে যায়নি। দ্বিতীয় বারের মতো ভাটা মালিক আ : গফুর টিটুর কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের কথা জানানো হলে তিনি বলেন, ঠিকাদার মিজানুর রহমান লোকজন দিয়ে গাছ কেটেছেন বলে জানান। জানতে চাইলে ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, আমি বা আমার কোন লোকজন গাছ কাটিনি ভাটা মালিকই হয়তো এটা কেটে থাকবে। তৃতীয় বারের মতো ভাটা মালিক টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাছ গুলো জেলা পরিষদের আওতায় রয়েছে এজন্য জেলা পরিষদ থেকে গাছ ও ডালপালা কেটেছে বলে এভাবে টালবাহানা করেন। সর্বশেষ সরেজমিনে আ: গফুর টিটুর কাছে সরেজমিনে সাাৎ দিলে তিনি বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করার জন্য সাংবাদিকদেরকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এবং বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি না করার জন্য অনুরোধ করে বক্তব্য না দেওয়ার জন্য কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন। অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনার পাশাপাশি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ ও গাছের ডালপালা কেটে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে একের পর এক মিথ্যা টালবাহানা করে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন হীরা ব্রীকস্ এর মালিক প। অবৈধ এই ইট ভাটা এবং আনিত চলতি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কতৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গাছ মালিক ও এলাকার সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here