মোংলা বন্দর উন্নয়নের সহায়তার লক্ষে চুক্তি স্বার

0
244

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা বন্দরকে আরো গতিশীল ও ব্যাবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে খুলনা শিপইয়ার্ড’র ও বন্দর কর্তৃপেক্ষর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বন্দর জেটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জাহাজ ভিড়তে নতুন সরাঞ্জম স্থাপন করতে এ কাজের জন্য শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত করেছে। আর দেশী-বিদেশীদের সাথে আমদানি রপ্তানি বানিজ্যে গতিশীলতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপ। প্রথমে বন্দরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর জেটিতে রাবার ফেন্ডার (শিপ ঢালাই প্লেট সিস্টেম) স্থাপন কাজ হাতে নেয় তারা। রোববার সকাল ১০টায় বন্দরের সম্মেলন কক্ষে শিপইয়ার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বন্দর সুত্রে জানায়, দেশী-বিদেশীদের ব্যাবসায়ীক আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যের প্রসার ও বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের সুরায় প্রথমে মোংলা বন্দর জেটিতে রাবার ফেন্ডার স্থাপন ও বিভিন্ন কর্মকান্ডে বন্দরের সহায়তার জন্য কার্যক্রমের চুক্তি স্বারিত হয়েছে। ২৩ জানুয়ারী রবিবার সকাল ১০টায় বন্দর কর্তৃপরে সম্মেলন কে বন্দর কর্তৃপ ও খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের মধ্যে পশুর নদী সংলগ্ন বন্দর জেটির সামনে অংশে রাবার ফেন্ডার স্থাপনের চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ কাজের জন্য ৮ কোটি ৫০ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে এ রাবার ফেন্ডার স্থাপনের জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডকে নির্ধারিত করেন বন্দর কর্তৃপ। মোংলা বন্দর কর্তৃপরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার ও খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম সামছুল আজজি এই চুক্তিতে স্বার করেন। এসময় খুলনা শিপইয়ার্ডের ক্যাপ্টেন এম ফিদা হাসান, বন্দর কর্তৃপরে প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক্স) মোঃ শওকত আলী, পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মোস্তফা কামাল, মোংলা বন্দরের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল হক, বন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লা আল মেহেদি, বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাকরুজ্জামান ও বন্দর ব্যবহারকারী আলহাজ্ব এইচ এম দুলালসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন । মোংলা বন্দর কর্তৃপরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার বলেন, বন্দরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর জেটিতে প্রায় ১০ বছর আগে রাবার ফেন্ডার লাগানো হয়েছিলো, যার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। তাই জেটিতে বিদেশী জাহাজ ভিড়তে তিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যদিও এর আগে জেটিতে কাঠের লগ ব্যবহার করা হতো যা লাগানো কিছুদিন পর পচে ও জাহাজের আঘাতে নষ্ট হয়ে যেত। এ সকল সমস্যার সমাধানে কাঠের লগের পরিবর্তেব নতুন করে রাবার ফেন্ডার স্থাপন করা হচ্ছে। যার জন্য খুলনা শিপইয়ার্ড লিঃ প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারন করা হয়েছে। এটির স্থাপন সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরে আসা দেশী-বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজগুলো জেটিতে নিরাপদে ভিড়তে বা আগাম-নির্গমন করতে পারবে বলেও জানান তিনি। খুলনা শিপইয়ার্ড’র ব্যাবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম সামছুল আজজি বলেন, আমরা আনন্দিত যে, মোংলা বন্দরের মতো একটি সফল ব্যাবসা বান্ধব প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যাবসায়ীক চুক্তি করতে পেরে। আমরা খুলনা শিপইয়ার্ডে যে রাবার ইন্ডাট্ট্রিজ তৈরী করেছি, এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। আমরা আশা করছি, মোংলা বন্দরের জেটিতে রাবার ফেন্ডার স্থাপনের যে কাজ হাতে নিয়েছি, সেটি টেকসই মজবুত হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। মোংরা বন্দরের রাবার ফেন্ডারের এ কাজ শেষ হতে আমাদের পক্ষে মাত্র ৪ মাস সময় লাগবে। খুলনা শীপইয়ার্ড ১৯৫৭ সালে যাত্রা শুরু করে, কিন্ত লোকসানের কারনে ১৯৯১ সালে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে পুনরায় প্রান ফিড়ে পায় এ শীপইয়ার্ড। প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃস্টিতে লোকসানের প্রতিষ্ঠান আজ দক্ষিন বঙ্গের মধ্যে সর্বাচ্চ আয়করের স্রেষ্ট এ শীপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠান। খুলনা শীপইয়ার্ডে তৈরীকৃত পন্য শুধু দেশে নয়, বিদেশেও রপ্তানী করে সুনাম অর্জন করবে বলেও জানায় এ কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here