১৭ বছর আগে নিখোঁজ চৌগাছার সেই মান্নান কোথায় ?

0
1969

রায়হান হোসেন,চৌগাছা পৌর প্রতিনিধি ঃ ১৭ বছরেও সন্ধান মেলেনি চৌগাছার নিখোজ মান্নানের। ২০০৪ সালের কোরবানি ঈদের পরে বন্ধু সলেমানের সাথে নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এ পর্যন্ত খোজ নেই তার। দুই সন্তানের জনক নিখোজ মান্নান (২৬) উপজেলার গরীবপুর গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে। সলেমান (২৬) একই গ্রামের মৃত জাহ বক্সের ছেলে। জানা যায় উপজেলার গরীবপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী মান্নান ১৭/১৮ বছর যাবত নিখোঁজ। মান্নানের স্ত্রী চায়না বেগম জানালেন, সেদিন দুপুরের দিকে সলেমানের সাথে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান মান্নান। পরে সলেমান একা ফিরে আসে। সে সময় মান্নান ফিরে না আসায় তার বাবা সায়েদ আলী সলেমানের বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় একটি জিডি করেন। জিডির বিষয়টি সলেমানের ভাই ভাদুড়ি নিশ্চিত করেছেন। মান্নান নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে সে সময়কার মতাশীন উপজেলা বিএনপির নেতারাও গ্রামে মিটিং করেছিলেন। সেদিনের সেই মিটিং এর বিষয়টি গ্রাম পুলিশ শাহাজাহান আলী নিশ্চিত করেছেন। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সলেমানেরও কোনো খোজ নেই। নিজের বাবা মায়ের মৃত্যুতেও সলেমানকে দেখা যায়নি। সলেমানের বিষয়ে তার বড় ভাই সুলতান ওরফে ভদুড়ি জানালেন, মান্নান হারানোর ৫/৭ দিন প্রচন্ড ঝামেলায় সৃষ্টি হয়। তখন সলেমানকে আমাদের এলাকার বিএনপির নেতাদের কাছে হাজির করেছিলাম। কিন্তু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক ইউনুচ দফাদার ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুসাইন আহমেদ বলেন সেই মিটিং এ সলেমান উপস্থিত ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (শার্শা উপজেলার বাসিন্দা) একজন প্রত্যদর্শী বলেন, ঘটনার দিন আমি, সলেমান, মান্নান এবং ধূলিয়ানীর মোস্ত অবৈধভাবে ভারতের বয়রা থেকে বাসে করে গাড়াপোতায় যায়। সেখানে শামীমের সাথে দেখা হলে সে আমাদেরকে মিষ্টি খাওয়ায়। পরে আমাদেরকে মাধবের বাড়িতে নিয়ে মদ খাওয়ায়। সেখানে কিলার শামীম, বেনাপোল কাগজপুকুরের আমিরুল আর গাড়াপোতার আরো দুইজন ছিল। মদ খাওয়ার পরে আমার আর কিছু মনে নেই। সকালে ঘুম ভাঙ্গলে আমি বুঝতে পারি কিছু একটা হয়েছে। তখন আমি আর সলেমান সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসি। মোস্ত ওখানেই থেকে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সকালে মান্নানকে আর দেখিনি। অপর এক প্রত্যদর্শী চৌগাছা কুঠিপাড়া গ্রামের আমিন বলেন কিলার শামীম, বেনাপোল কাগজপুকুরের আমিরুল গাড়াপোতার ইউনুচ এবং খলিল মিলে সেই মাধবের বাড়িতে মদ খাওয়ার পরে মান্নানকে গলায় গামছা পেচিয়ে হত্যা করে। সেসময় সেখানে সলেমান, মান্নান এবং ধূলিয়ানীর মোস্তসহ আরো একজন ছিল। পরে ওই রাতেই গাড়াপোতার অজিতের মটর সাইকেল করে মান্নানের লাশ (ভারতের) হেলেঞ্চা আর অসাড়ু বাজারের মাঝে রাস্তার ডানপাশে ফেলে রেখে আসে কিলার শামীম। উল্লেখ্য জোট সরকারের আমলে কিলার শামীম ২টি হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় ফেরারি হয়ে ভারতের গাড়াপোতায় থাকতেন। আর রাজনৈতিক কারনে কুঠিপাড়া গ্রামের আমিনসহ আরো অনেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেসময় কিলার শামীমের সাথে তাদের সখ্যতা ছিল। প্রত্যদর্শীরা, স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি এবং কিলার শামীমের কিছু নিকটজন জানান, জোট সরকারের আমলেই মান্নানের সাথে কিলার শামীমের প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্ব ছিল। প্রতিপ মান্নানকে ঘায়েল করতেই তার কাছের বন্ধু সলেমানকে ম্যানেজ করেছিল কিলার শামীম। মান্নানের নিখোজের সেই জিডিই পরবর্তীতে অপহরন মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় বলে জানা যায়। থানা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের একটি অপহরন মামলায় সলেমানের ৫ বছর সাজা হয়। চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ সলেমানের গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এবিষয়ে আদালতসূত্রে জানা যায়, একটি অপহরন মামলায় ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ ২য় আদালতে দোষ প্রমানিত হওয়ায় সলেমান ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হন। সাজাপ্রাপ্ত সলেমান কি নিখোজ জানতে চাইলে চৌগাছা থানার বর্তমান ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন ঘটনা অনেকদিন (১৭ বছর) আগের হওয়ায় এবিষয়ে তেমন কিছু অবগত নয়। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছেন,“সলেমান বেচে আছেন। ৪/৫ বছর আগে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। সলেমান দ্বিতীয় বিয়ে করেছে বলেও শুনেছি”। মান্নানের স্ত্রী চায়না বেগমের দাবী,“ আমার স্বামী কোনো দিন বাড়ির বাইরে রাত কাটাতো না। যেহেতু দীর্ঘ সময় পার হয়েছে তাই ধরে নিচ্ছি তিনি বেচে নেই।” তবুও আমার স্বামীর কপালে সেদিন কি ঘটেছিল আমি তা জানতে চাই?” সেই সঠিক সত্য জানতে তিনি যথাযথ কর্তৃপরে হস্তপে কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here