ভিড় লেগেছে রূপদিয়ার মানুষ বেঁচাকেনার হাটে

0
244

রাসেল মাহমুদ : সাধারণ নিয়মে টাকার বিনিময়ে পণ্য বিক্রি হলেও যশোর সদর উপজেলার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রূপদিয়া বাজারের হাটের বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে জড়ো হওয়া মানুষ নিজেই নিজের বিক্রেতা বা পণ্য। নির্ধারিত একটি সময়ের জন্য তারা নিজেদের’কে কামলা হিসাবে বিক্রি করে দেন। বোরো রোপন মৌসুমকে সামনে রেখে তাই যশোর জেলার অন্যতম প্রাচীনতম রূপদিয়ার এই মানুষ বিক্রির হাট এখন জমজমাট। সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার এই দুইদিন সকাল থেকে মানুষের হাট শুরু হয়। চলে রাত অবধি। আশপাশের কয়েক ইউনিয়নের গৃহস্থরা এসে এই শ্রমজীবী মানুষদের ক্রয় করে নিয়ে যায়। বতর্মানে বোরো রোপন মৌসুম চলছে। দিগন্ত জুড়ে ধানের চারা রোপনের তোড়জোড়। অঞ্চলের গৃহস্থদের যেমন কাজের প্রয়োজন তেমনি বহু দূরদূরান্ত থেকে কর্মজীবী এসমস্ত দিনমুজরদেরও কার্মের প্রয়োজন। এ কারণে অত্রাঞ্চলের গৃহস্থদের কাছে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে অনেক। তাছাড়াও অন্যান্য কাজেও শ্রমিকদের চাহিদাও রয়েছে। তাই শ্রমিকের দামও থাকে বেশ চড়া। প্রতিটি শ্রমিকের মূল্য কাজের ধরন ও চাহিদা অনুযায়ী ৪’শ টাকা থেকে পাঁচ ও ছয়’শ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। হাটে ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কৃষি শ্রমিক দেখা যায় বেশি। সরেজমিনে হাটে গিয়ে দেখা যায়, সবার হাতের ব্যাগে কাপড়-চোপর আর কাঁচি ও কোদাল। কেউ বসে আছে, কেউ দাঁড়িয়ে। হাটের ভেতরে ঢুকতেই কতিপয় শ্রমিক বলেন ‘মামা কামলা লাগবে নাকি? কত দিবেন?’
সাতীরার শ্যামনগর দিক থেকে আসা শ্রমিক আবদুর রশিদ (৪৫) সহ সাতজনের একটি দল রূপদিয়ার এই হাটে আসেন। এ সময় তাকে জিজ্ঞাস করলে সে জানায়, সংসারে বিধবা মা, ৩টি বোন সহ স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে রয়েছে। তাদের ভরণপোষণের জন্য তাকে কর্মের পথ বেচে নিতে হয়েছে। ১৭ বছরের কিশোর জেলহক জানায়, আমার বাড়ীতে মা রয়েছে। তাকে ভরণপোষনের জন্য এই কর্মের পথ আমাকে বেছে নিতে হয়েছে। ছোট বলে কেউ আমাকে কিনতে চায় না। অল্প দামে বিক্রি হতে হয়। ৬০ বয়সের বৃদ্ধ সিরাজ মিয়া জানায়, ছেলেরা যার যার মতো সংসার পেতে নিয়েছে। আমাদের ভরণপোষনের সময় তাদের নেই। তাই বৃদ্ধ বয়সে বাড়ী থেকে বের হয়ে বিক্রির জন্য যশোরে এই হাটে উঠেছি। জানা গেছে, এখন একজন শ্রমিকের দাম ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। তাতে তিনবেলা খাবারসহ এক কামলার দাম পড়ে কমপে ৭-৮’শ টাকা। জনৈক আব্দুস সালাম নামক এক গৃহস্থ জানান, ‘কামলার দাম গত বছরের চেয়ে এবার বেশি। তবু কিছু করার নেই। তাই বেশি দাম দিয়েই কামলা কিনতে হচ্ছে। কামলাদের কাজের মান ভালো। কাজে কোনো ফাঁকি দেয় না। তাদের তিনবেলা খাবার দিতে হয়। আর কাজ করে ভোর থেকে একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here