মালিকুজ্জামান কাকা : যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া বাজারের গোলাম রসুল এখন জীবনের শঙ্কায় চরম আতঙ্কে বসবাস করছেন। তার জ্ঞাতি লোকজন পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে সকল জমাজমি জবর দখল ও আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এরা জোর পূর্বক তার কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে। একই সাথে তার দলিলাদি পড়চা, সহি মহুরির কাগজ, খতিয়ান, মাঠ পড়চা, জরিপ পড়চা ও প্রিন্ট পড়চা কেড়ে নিয়েছে। এসব কাগজ পত্র ফেরত চাওয়ায় তাকে প্রানে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী কোতয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ পেশ করেছেন। জানা গেছে, ১৪ নং নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রুপদিয়ার মৃত মোজাহার আলীর ছোট ও ৪র্থ পুত্র এই গোলাম রসুল। তিনি এলাকায় গোলাম রসুল বা মাস্টার নামে পরিচিত। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার জন্ম তারিখ ১২ জুলাই ১৯৮০ সাল। তার মাতা আমেনা বেগম। তার আদি বাড়ী যশোর শহর থেকে পূর্বে রুপদিয়ায়। রুপদিয়া বাজার এলাকায় ১১টি দাগে তার জমাজমির অবস্থান। রুপদিয়া মৌজায় জে এল নং ২২২ খতিয়ান ১১১, ৯ ও ২৪৬। ১১১ খতিয়ানে দাগ নং ২৮৭। ৯ নং খতিয়ানে ২৬৪, ২৬৬ ও ২৬৭ দাগ। ২৪৬ খতিয়ানে ২৬৪, ২৬৬, ২৮৭, ২৮৮, ২৯০, ২৯২, ২৯৪ দাগে তার জমি রয়েছে। ২৬৪, ২৬৬ পুকুর ও ২৬৭ এর ২৯০ শতক জমির মালিক গোলাম রসুলের পিতা মোজাহার আলী খলিফা। এই জমির ওয়ারেশ তিনি ও তার ভাইবোনেরা। দুটি জমি ফারাজ অনুযায়ি ২৬৭ ও ২৬৬ পুকুর অংশে তিনি ৪২ পয়েন্ট ৫০ শতক জমির মালিক। গত বছরের ১০ নভেম্বর তার জ্ঞাতি আত্মীয় ১) মোঃ ওহাব খলিফা (৬৩), পিতা- মৃত হোসেন খলিফা ২) মোঃ সুমন হোসেন (৩০) ৩) মোঃ রাকিব হোসেন, উভয় পিতা ওহাব খলিফা ৪) জিয়াউল হক, পিতা- মৃত: আব্দুল কাদের, সর্ব সাং- রুপদিয়া বাজার, থানা- কোতয়ালী, জেলা- যশোর গোলাম রসুল কে বাড়ি থেকে ডেকে বলে জমির অরিজিনাল কাগজপত্র নিয়ে আয় দেখা হবে কতটুকু জমি পাবি না পাবি। তিনি সরল বিশ্বাসে সকল কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে তারা নির্জন স্থান খোজার অভিপ্রায়ে তাকে বাড়ির পিছনের দিকে কবরস্থানে দিকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে জোর পূর্বক কয়েকটি সাদা লাল সীলমোহরযুক্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরা তাকে তার সকল জমি থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে বিভোর। আসামিরা ভয়ঙ্কর প্রকৃতির লোক।
গোলাম রসুল জানান, গত ৩০ জানুয়ারি কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া, সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং তাকে হত্যার হুমকি ধামকি দেওয়ায় তিনি উল্লেখিত চার বিবাদির নামে কোতয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে জানাজানি আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে তারা কিছু কাগজ ফিরিয়ে দিতে ১৬৮০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। তিনি মনে করছেন আসামিরা কয়েকটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এফিটডেফিট সীলযুক্ত সাদা কয়েকটি স্ট্যাম্পে জোর পূর্বক তার স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে নওয়াপাড়ার সাংবাদিক বদরুজ্জামান তাকে পুলিশের স্মরনাপন্ন হতে পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে জানাজানি হলে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি থানা পুলিশকে অভিযোগ করেছেন। তার দুই মেয়ে একপুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে তার পরিবার। তারাও তাকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কেননা আসামিরা তাকে হত্যার হুমকী ধামকি দিচ্ছে এবং তা প্রকাশ্যেই। তার পেশকৃত অভিযোগপত্রটি এখন হাটবিলা পুলিশ ক্যাম্প এর এস আই সুপ্রভাত তদন্ত করছেন। বিষয়টি তিনি ইউপি চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের, মেম্বর রফিক, বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী নুর সর্দার, শফি মুন্সীর পুত্র কাপড় ব্যবসায়ী কুতুব, সিরাজুল ইসলামের পুত্র কাপড় ব্যবসায়ী মুকুল বিষয়টি জানে। এছাড়া নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্য্য সহকারী-সাংবাদিক আলমগীর কবিরসহ স্থানীয় অনেকেই বিষয়টি জেনেছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয়রা জানানা পেশাগত কাজে গোলাম রসুল নওয়াপাড়া ও রুপদিয়া দুটি স্থানে বসবাস করেন। সহজ সরল হওয়ায় জমা জমির মালিক হয়েও তিনি দর্জী পেশায় ছিলেন দীর্ঘদিন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এই গোলাম রসুল। বীর মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাহত অভয়নগর মশরহাটীর জালাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহাব মুন্সীর সহযোগী ছিলেন। এদের কমান্ডার মোশারেফ হোসেন ছিলেন। তবে গোলাম রসুল সার্টিফিকেট নিতে আগ্রহী হননি। পাশাপাশি তিনি একজন ভাল গায়ক। বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে তার গাওয়া গান যে কারো মনে রেখাপাত করবে। এই সহজ সরল মানুষটি তার বংশের লোলুপ মানুষদের আপন হতে পারেননি। তারা তার জমা জমির কাগজ পত্র কেড়ে নিয়েছে।















