কুষ্টিয়া কুমারখালীতে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

0
357

ইসমাইল হোসেন, কুষ্টিয়া ঃ কুমারখালীতে পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। এখন মাঠে মাঠে পড়েছে পেঁয়াজের চারা রোপণের ধুম। কৃষকেরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজ করেছেন। এ বছর পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের খরচ পূর্বের থেকে দুই থেকে তিন গুণ কমেছে। সরেজমিন উপজেলার চাপড়া, যদুবয়রা, বাগুলাট, পান্টি ও চাঁদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২০ জন দলবদ্ধভাবে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। একজন লোহার ছোট লাঙল দিয়ে সারি কাটছেন আর অন্যরা সেই সারিতে চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল বছর পেঁয়াজের খোলা বীজ প্রতিকেজি ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর তা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকায়। আর পেঁয়াজের চারা গেল বছর প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আরও জানা যায়, বীজ, চারা, সার, পরিচর্যাসহ এবার বিঘা প্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের খরচ হবে ২৮ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এ বছর মাঠে মাঠে বিদেশি কিং জাতীয় চারা রোপণ করা হচ্ছে। এ জাতের পেঁয়াজ বিঘায় ৪৫ থেকে ৬০ মণ উৎপন্ন হয়। যার বাজার মূল্য ৪০ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হতে পারে। এ বিষয়ে চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া মোল্লা পাড়া গ্রামের কৃষক ফজলুল হক (ফজু) বলেন, ‘তিন বিঘা জমির জন্য বীজ কিনেছিলাম দুই কেজি ১৬ হাজার টাকা দিয়ে। এবার চারা ভালো হয়েছে। আশা করছি গত বছরের চেয়ে অর্ধেক খরচে পেঁয়াজ ঘরে তুলতে পারব। যদুবয়রা ইউনিয়নের কৃষক আকমল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ চাষে খরচ কমেছে দ্বিগুণের বেশি। বিঘা প্রতি খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছি। প্রায় নয় হাজার টাকার চারা লেগেছে। বরইচারা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজই কৃষকের সবচেয়ে লাভজনক ফসল। এবারও তিনবিঘা জমিতে চারা লাগিয়েছি। ভালো দাম ও ফলন পাব আশা করছি। লাহিনী পাড়ার কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন। কৃষি অফিস থেকে এবার সময়মতো বীজ পেয়েছি। তাঁদের দিকনির্দেশনায় চারা ভালো হয়েছে। এখন রোপণের কাজ চলছে। এবারও ভালো ফলন হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। গত বছর পেঁয়াজের ল্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৯০ হেক্টর এবং পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টরে। যা কৃষিজমির ১৯ শতাংশেরও বেশি। এ বছরও ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৯০ হেক্টর। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, এ অঞ্চলের মাটি পেঁয়াজ চাষে উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে। আশা করছি এবারও ভালো ফলন ও কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here