সার্কাস বন্ধ হওয়ায় মণিরামপুরের প্রতিবন্ধী নজরুলের মানবেতর জীবন যাপন

0
288

মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে দি-লাইন সার্কাসে চাকরি করে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করে আসছে। করোনার সময় সার্কাস বন্ধ করে দেওয়ার কারণে সংসার চালানোর জন্য প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে খেলা দেখিয়ে ৫ জনের সংসার চালাতে গিয়ে বড় কষ্টের মধ্যে আছে। তার জীবনে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও জুটিনি বলে আভিযোগ।
সূত্রে জানাযায়, মণিরামপুর উপজেলার ভরতপুর গ্রামের মৃত সলেমান বিশ্বাসের ছেলে প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম (৫০)। সে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দি-লাইন সার্কাসে চাকরী করে সুন্দর ভাবে সংসার পরিচালনা করে আসছিল। ২০১৯ সাল থেকে করোনার কারণে দেশে সব সার্কাস সরকার বন্ধ করে দেওয়ায় বড় কষ্টের মধ্যে আছে তার পরিবার। তার বড় ছেলে নয়ন হোসেন (১৯) গত বছর এইচ এস সি পাশ করেছে, মেঝে ছেলে মোহাম্মাদ ওল্লা (১৪) নবম শ্রেনীতে পড়ে ও ছোট মেয়ে জান্নাতী মাদ্রসায় পড়া লেখা করে আসছে। শারিরীক প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলামের বর্তমান সংসারে ৫ জন সদস্য হওয়ার কারণে প্রতিদিন চাউল, ডালসহ ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ ৫/৬ শত টাকা প্রয়োজন। করোনা কালীন সময় ধরে বসে বসে খেয়ে অনেক তিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে তিনি। প্রতিদিন সকাল হলে প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম তার ছোট বাইসাইকেলটিতে খেলা ধুলা সামগ্রী বেধে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের ছোট বড় বাজার ও পাড়া মহাল্লায় গিয়ে সার্কাসের কিছু খেলা দিখেয়ে মানুষের মন জয় করে প্রতিদিন ২/৩ শত টাকা আয় করে কোন রকম সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দেখলে মায়া লাগে। দুঃখের বিষয় তার জীবনে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও জুটিনি। প্রতিবন্ধী নজরুল ইসলাম জানায়, বর্তমান আমার বয়স ভারি হয়ে গেছে। সংসারে ৫ জন মানুষ, বাজারে মালের যে দাম ও ছেলে, মেয়েদের লেখা পড়া, ওষুধ পত্রসহ প্রতিদিন ৫/৬ শত টাকা দরকার। কিন্তু বসে থেকে কি করবো ভাই গ্রামে গিয়ে খেলা দেখিয়ে মানুষের মন জয় করে প্রতিদিন ২/৩ শত টাকা আয় করে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে আল্লাহর রহমতে বেচে আছি। তিনি বড় কষ্টো করে বলেন, এই পর্যন্ত আমার একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড হয়নি বলে তার দাবী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here