প্রবাসে থাকলে আপনজনদের কথা বেশি মনে পড়ে -আফরোজা বানু

0
526

বিনোদন ডেস্ক : বেতার, টেলিভিশন, মঞ্চ ও রূপালী পর্দায় যার অভিনয় দেখে দর্শকরা বিমোহিত হতেন তিনি আফরোজা বানু। অভিনয়ের বাইরে তার আরও পরিচয় রয়েছে উপস্থাপিকা ও লেখক হিসেবেও। টেলিভশনের প্রথম ধারাবাহিক ‘সকাল-সন্ধ্যা’র শিমুকে আজও দর্শক মনে রেখেছে। সেই চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন আফরোজা বানু। ২০১৯ থেকে এই গুণী অভিনেত্রী কানাডায় বসবাস করছেন। এবার দুই বছর পর তিনি দেশে এলেন। কেমন আছেন আফরোজা বানু? উত্তরে তিনি বলেন, ভালো আছি। এই করোনাকালে ভালো থাকাটাই একমাত্র কাম্য।
দীপ্ত টেলিভিশনের ডেইলী সোপ ‘ভালোবাসার আলো আঁধার’ আপনাকে দর্শকরা শেষ অভিনয় করতে দেখেছিল।হঠাৎ এই চির চেনা, ভালোবাসার জায়গা ছেড়ে প্রবাসী হলেন কেন? আফরোজা বানু বলেন, আমার তো বয়স হয়েছে। একটা সময় সন্তানরাই আমাদের মা-বাবার জায়গায় চলে আসে। তাদের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিতে হয়। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই প্রবাসী। অবশ্য ওই অর্থে আমাকে পুরোপুরি প্রবাসী বলা যাবে না; কারণ আমি দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকি। করোনার জন্য এবার দীর্ঘদিন পর দেশে এলাম।
আমি তো এখন নানি-দাদি হয়েছি। তারাই করোনাকালীন গত দু’বছর আমাকে দেশে আসতে দেয়নি। কেমন কাটে সেখানে সময়? এ অভিনেত্রী বলেন, প্রবাসে থেকে যখন শুনেছি আমাদের সহকর্মী ফিরোজ ভাই, এনাম ভাই, সাজ্জাদ ভাইসহ আরও অনেকেই করোনাকালীন আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, সত্যি মনটা দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়েছে। ফিরোজ ভাই, সাজ্জাদ ভাই কি সুসাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু করোনার কাছে হার মেনে নেন। সত্যি বলতে প্রবাসে থাকলে বেশি আপজনদের কথা মনে পড়ে।
কানাডায় আপনার বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কী যোগাযোগ রয়েছে? এ অভিনেত্রীর উত্তর- সেভাবেতো প্রবাসে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড খুব কম। কানাডায় দূতাবাসের আয়োজনে বিশেষ বিশেষ দিবস যেমন ২১শে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। সে সঙ্গে টেলিভিশন আয়োজিত মাতৃভাষাকে নিয়ে নির্মিত নাটিকায় অংশ নিয়েছি- যেখানে আমি নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষা সম্পর্কে গল্প বলি।
ছোট পর্দার বাইরে তো আপনি রূপালী পর্দায়ও অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়েছেন? আফরোজা বলেন, খুব যে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছি বলা যায় না। তবে যে কটি সিনেমায় অভিনয় করেছি উল্লেখ করার মতোই সেসব। যেমন দারুচিনি দ্বীপ, নন্দিত নরকে, অধিকার চাই, কে অপরাধী, ভুলো না আমায় প্রভৃতি।
সকাল-সন্ধ্যা নাটকের শিমু চরিত্রে এত প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন। দর্শকরা আজও আপনাকে শিমু নামেও জানে? তিনি বলেন, সত্যি বলেছেন দেশ-বিদেশে যেখানেই যাই আজও অনেক দর্শক আমার সঙ্গে গল্প করে বলেন, জানেন আপনার শিমু নামের সঙ্গে মিল রেখেই আমার মা-বাবা আমার নাম রেখেছেন। সম্প্রতি শেষ হলো টেলিভিশন অভিনয় শিল্পী সংঘের নির্বাচন। নির্বাচিত নতুন এই কমিটির প্রতি আপনার প্রত্যাশা কি? এ অভিনেত্রী বলেন, প্রথমেই তাদের প্রতি প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
নাসিম তো আপদমস্তক ভদ্র, নম্র একজন মানুষ। খুবই সজ্জন ব্যক্তি। শিক্ষকতার মতো মহান পেশা যার মধ্যে রয়েছে সে অবশ্যই এই সমিতির জন্য মঙ্গলময়। রওনক তো আমার অনুজ। নতুন প্রজন্মের উত্তরসূরি তারুণ্য আর নাসিমের মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মিলে সমিতির সুনামকে আরও উজ্জ্বল করবে, আশির্বাদ রইলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here