শনি ও মঙ্গলবার ১২ জ্বীনের উপস্থিতি ভন্ড কবিরাজের তেলেসমাতি ঝাড়-ফুঁকে ক্যান্সার বন্ধ্যাত্বসহ জটিল রোগের চিকিৎসা

0
520

জি এম অভি : যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়ায় কথিত এক কবিরাজের আস্তানায় দিনভর চলে ঝাড়-ফুঁক। জ্বীন তাড়ানো থেকে শুরু করে ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্বসহ জটিল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছে এ কবিরাজ । আর এ জন্য রোগীদের গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তবে যশোরের সিভিল সার্জন ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেছেন,এই ধরনের চিকিৎসায় মানব দেহের কোন উপকার হয়না। যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে কথিত কবিরাজ মোঃ ফারুক হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়-ফুঁক ও গাছ-গাছড়ার মাধ্যমে জটিল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এভাবেই রোগীদের ধোঁকা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। এদিকে সরজমিনে গেলে দৈনিক যশোরের প্রতিবেদককে ৮ নং দেয়াড়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান ও সচিব মোঃ আক্তারুজ্জামান স্বারিত একটি ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে ভন্ড কবিরাজ ফারুক হোসেন বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের এই কাগজ থাকলে আরকিছু লাগেনা। ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসার ধরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- তান্ত্রিক, আয়ুরবেদিক ঔষধ ও কবিরাজি দাওয়াখানা। সপ্তাহে ২ দিন শনি ও মঙ্গলবার কবিরাজের আস্তানায় মানুষের ঢল নামে। এর মধ্যে কারো শরীরে দুষ্টু জ্বীনের আবির্ভাব, কারো বা সন্তান হচ্ছে না, কেউ আবার প্যারালাইসিসে কিংবা ক্যান্সারে আক্রান্ত। লাঠির মাথায় আগুন ধরিয়ে পেটে শিল নোড়া রেখে এসব রোগীদের জ্বীন-ভূত তাড়ান কবিরাজ ফারুক হোসেন । এ কাজে সহযোগিতা করেন বেতনভুক্ত দুইজন মহিলা কর্মচারী। পানিপড়া কিংবা শিকড়-বাকড়ের মাধ্যমেও দেয়া হয় চিকিৎসা এছাড়া কবিরাজের আস্তানায় রয়েছে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানির সিরাপ ও ট্যাবলেট ক্যাপসুল। তবে কথিত কবিরাজ ফারুক হোসেনের দাবি, তিনি মানুষের কাছ থেকে বেশী টাকা-পয়সা নেন না, ভারনের জন্য ২০ টাকা আর হাদিয়া হিসেবে কেউ কিছু দিয়ে গেলে সেটাই নেন। কবিরাজি চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন জানান, লোকমুখে শুনে তার বাবাকে নিয়ে এসেছেন কবিরাজ ফারুক হোসেনের আস্তানায়। চিকিৎসা দেয়ার পর কবিরাজ আশ্বাস দিয়েছেন রোগী সুস্থ হবেন। ভন্ড কবিরাজ ফারুকের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা তুলারামপুরের এক বৃদ্ধা জানান, তিনি ও তার পুত্র বধুকে দেখাতে আসছেন। তাদের সমস্যা সমাধান না হলেও হাল ছাড়েনি ভন্ড কবিরাজ ফারুক হোসেন। কবিরাজ ফারুক হোসেন বলেন, আমি আল্লাহর কালামের মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক দেই। রোগীদের ট্রিটমেন্ট দেন বাবাজি এই বাবাজি হলো জীন তাকে দোয়ার মাধ্যমে ডেকে এনে রোগিদের সেবা দেই। আমার এখানে অনেক রোগী এসে সুস্থ হয়েছেন। যাদের বাচ্চা হয়নি, তাদের হয়েছে। এছাড়া কাউকে জ্বীনে ধরলে আমি সেই জ্বীন তাড়াই। জ্বীন আমার কথা শোনে। সপ্তাহে দুইদিন ৮ থেকে ১২ জন জ্বীন আসে আমাদের আস্তানায় তবে এই জ্বীন বাবাজিদের আনতে আমার অনেক কষ্ট হয়। খুব সহজে তারা আসেননা। অনেক দোয়া কালামের মাধ্যমে বাবাজিদের ডেকে আনতে হয়। ফরিদপুরের নতুন ও পুরাতন বাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, ভন্ড ফারুকের কবিরাজি ব্যবসা অনেকদিন ধরে চলছে অনেকে সুস্থ না হলে কবিরাজের আস্তানায় হট্টগোল করেন তখন আমরা জানতে পারি।এই ভন্ড কবিরাজের আস্তানায় প্রেস ও সংবাদপত্র স্টিকার লাগানো মটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন যুবক প্রায়ই আসেন। ভন্ড কবিরাজের আস্তানায় প্রসাশন একটু দৃষ্টি রাখলে অবশ্য ফারুকের ভন্ডামি বন্ধ হতো। এবিষয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান মুঠোফোনে দৈনিক যশোরকে বলেন, কবিরাজের ট্রেড লাইসেন্সের ব্যাপারে আমার জানা নাই এবিষয় সচিব সাহেব বলতে পারবেন। সচিব মোঃ আক্তারুজ্জামান বলেন, এধরনের কোন ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছি কিনা আমার খেয়াল নেই তবে আপনার মাধ্যমে যখন জানতে পেরেছি তখন অবশ্যই খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here