বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ আর নেই

0
334

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ আর নেই। শুক্রবার বেলা ১ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শুক্রবার বাদ এশা যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে নামাজের জানাযা শেষে কারবালা কবর স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে বিকালে ঘোপ স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানা কমান্ডারের দায়িত্ব থাকা এই মুক্তিযোদ্ধাকে। মরহুমের বড় ছেলে ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ মুন জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সকালের নাস্তার পর রাজেক আহমেদ অসুস্থবোধ করতে থাকে। ১ টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিজুর রহমানের স্নেহধন্য রাজেক আহমেদ ১৯৭১ সালে বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলী রেজা রাজুর ছোট ভাই। এদিকে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডারের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ তার বাসভবনে ছুটে যান যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, যশোর পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনি খাঁন পলাশ, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি ও যুদ্ধকালীন যশোরের মুজিববাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার এএইচএম মুযহারুল ইসলাম মন্টু , প্রেসকাব যশোরে সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু ও রাজেক আহমেদ : বঙ্গবন্ধুর একান্ত সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সেই সময়কার ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাজেক আহমেদ। তিনি এই মহাপুরুষের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অনেকবারই খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। তিনি বলেছিলেন স্বাধীনতার আগে এবং পরে খুলনায় প্রেগাম থাকলে বঙ্গবন্ধু বিমানে চড়ে যশোর হয়ে যেতেন। এসময় হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে আমিও উপস্থিত হতাম সেখানে। তিনি বলেছিলেন, আমার পরিচিত এক রিক্সাচালক (নাম মনে নেই), বাড়ি গোপালগঞ্জ, ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিল বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখবার। একদিন তার কথা মতো যশোর বিমান বন্দরে নিয়ে গেলাম। সেই রিক্সাচালককে বঙ্গবন্ধুর সামনে নিয়ে বললাম বঙ্গবন্ধু এ আপনাকে দেখতে এখানে এসেছে। ও আপনার দেশের লোক, এসময় বঙ্গবন্ধু রাজেক আহমেদের পিঠে আদর করেই একটা চড় দিয়ে বলেন, তুই কোন দেশের? রাজেক আহমেদ বঙ্গবন্ধুকে বর্ণনা করতে যেয়ে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে ছবিতে যেমন দেখা যায় বাস্তবে তিনি ছিলেন আরো আকর্ষণীয়। তাঁর সামনে দাঁড়ালে মনে হতো অনেক আগে থেকেই সে সম্পর্ক, অনেক আপনজন। তাঁর কাছ থেকে সরতে ইচ্ছে করতো না। রাজেক আহমেদ আর একদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন একবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়েছি বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে। বঙ্গবন্ধুর কাছে বঙ্গবন্ধুর বঙ্গবন্ধুর যেতেই আমার ছিপছিপে শরীর দেখে বঙ্গবন্ধু বুকে হাত বুলিয়ে বলেন তোর অবস্থা এমন কেন? শরীরটা খারাপ নাকি ? সাথে সাথে তোফায়েল আহমেদ (সেসময়ে বঙ্গবন্ধুর এপিএস) কে ডেকে তিনি বলেন এই দেখ আমার সোনার ছেলে ওর হাড্ডি বেরিয়ে গেছে, ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা কর। এসময় অশ্রুসজল হয়ে পড়েন রাজেক আহমেদ। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে অন্যদেশের চক্রান্তে এদেশের কিছু মানুষ হত্যা করেছে।
এদিকে বীরমুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদ এর নামাজে জানাযা গতকাল বাদ এশা ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। ঘোপ স্টাফ কোয়াটার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল হক জানাযার নামাজ পড়ান। জানাযায় যশোর জেলা আওয়ামীলীগ ও এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিষ্টপাটি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, প্রজš§ একাত্তরসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাযার শুরুতে মরহুমের বড় ছেলে মুন পিতার জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আবেগঘন বক্তৃতা করেন। এর আগে যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহিন চালকাদার, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আসাদুজ্জামান আসাদ,সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা জাসদের পক্ষে এ্যাড. রবিউল আলম ও বাবু অশোক দত্ত, প্রেসকাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবীর, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, উদীচী যশোর জেলা সংসদ, অগ্নিবীনা যশোর জেলা সংসদ, সাবেক এমপি এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, পৌর মেয়র হায়দার গণিখান পলাশসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জানাযার নামাজ শেষে ঘোপ কবরস্থানে মরহুমের দাফন সম্পন্ন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here