মহেশপুরে কাঠ পোড়াতে ভাটার সঙ্গেই করাতকল

0
292

মহেশপুর (ঝিনাইদহ)অফিস : ইটের ভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পোড়াতে হবে, কাঠ পোড়ানো যাবে না, সরকারের এমন কঠোর আইন থাকলেও ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামে এক ইট ভাটার রয়েছে করাতকল। এই করাতকল থেকে কাঠ কেটে ভাটাই ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অবস্থা দীর্ঘ কয়েক বছর চললেও কারো কোনো পদপে নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যে মতে মহেশপুরে ২২টি ইট ভাটা রয়েছে যার মধ্যে ২টি ভাটার লাইসেন্স রয়েছে। ইট ভাটাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্রের মতে মহেশপুর উপজেলায় প্রায় ২২টি ইট ভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইটভাটায় বছরে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ ইট তৈরী করে। আর এই পরিমান ইট পোড়াতে অবৈধ্য ও ব্যারেল চিমনীর ভাটা গুলোতে কাঠের ব্যবহার করতে হয় হাজার হাজার মন । বিপুল পরিমান কাঠের সবই কাঠুরে দিয়ে দুর থেকে ফাঁড়াই করে আনতে হয়। যা অনেক ভাটা মালিকদের পে কষ্টকর হয়ে যায়।এই কারনে রাফি ব্রিকস্ ভাটার সঙ্গেই করাতকল স্থাপন করে নিয়েছে। এই করাতকলে কাঠ কাটা হচ্ছে আর ভাটাই ব্যবহার হচ্ছে। সরেজমিনে ভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পদ্মপুকুর-শ্যামকুর সড়কের পাশে পদ্মপুকুর গ্রামের মাঠে বিশাল জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত রাফি ব্রিকস্। এই ভাটায় গোটা এলাকা জুড়েই রাখা হয়েছে কাঠ আর কাঠ। নানা প্রজাতির বড়-ছোট গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। ভাটাটির দনি পাশে বসানো হয়েছে করাতকল। করাতকলের চারিপাশে কাঠের স্তুপ। এই করাতকলে কাঠ ফাঁড়াই করা হচ্ছে আর তা ফেলা হচ্ছে ভাটায় চুলায়। জ্বালানি হিসেবে কাঠই তাদের ভরসা। পদ্মপুকুর গ্রামের এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে জানান, বেশ কয়েক বছর এরা এভাবে ভাটার সঙ্গে করাতকল রেখে সেটাতে কাঠ কেটে ভাটায় ব্যবহার করছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মন কাঠ ব্যবহার করা হয়। ভাটার মালিক স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। যে কারনে তারা বড় বড় গাছ কেটে নিজেদের প্রয়োজন মতো ফাঁড়াই করে চুলায় ব্যবহার করছেন। ভাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাফি ব্রিকসসহ অধিকাংশ ইট ভাটা কাঠের উপর নির্ভর করেই চলছে। এখানে কয়লার ব্যবহার হয় না। একটি ভাটায় বছরে আনুমানিক ৫০ হাজার মন কাঠের প্রয়োজন হয়। যা বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। তিনি আরো জানান, এই গাছ ইচ্ছামতো ফাঁড়াই করে ভাটায় ব্যবহারের সুবিধার জন্য ভাটার সঙ্গেই করাতকল বসিয়ে নিয়েছে রাফি ব্রিকস । এ ব্যাপারে রাফি ব্রিকস্ এর মালিক ও ইটভাটা সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন জানায়, কাজের সুবির্ধাতে সব কিছুর প্রয়োজন সে কারণে করাত কলটিও রাখা হয়েছে। তিনি আর বলে এর আগে অনেকে এসেছিলো ছবি তুলে নিয়ে গেছে কিন্তুু কিছুই করতে পারেনি,আপনিও ছবি তুলে নিয়ে যান! সচেতন মহলরা বলছেন, ওই ভাটাগুলোর মালিকরা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে আইনের প্রতি তার বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর বিষয়টি। তাদের এই মতার উৎসাহ কোথায় তা খুজে বের করা জরুরী। তারা অবিলম্বে ভাটাগুলো বন্ধসহ মালিক পরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন,আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি,তবে অবৈধ্য ইট ভাটা গুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের প থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here