জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডকৃত জমিতে চলছে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ

0
324
রানা আহম্মেদ অভি, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের মহেশপুরের দত্তনগর বাজারে স্থানীয় ক্ষমতাশীল একটি সিন্ডিকেট সরকারী জমি দখলে নিয়ে অবৈধভাবে রমরমা বানিজ্য চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই চক্রটি সরকারী জমির উপর গড়ে ওঠা মার্কেটের দোকান ইচ্ছামতো বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতিমধ্যে দত্তনগর পুলিশ ফাড়ির সামনে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট নামে পরিচিতি মার্কেটের দুইটি ঘর ২৩ লাখ টাকা বিক্রি করে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে মহেশপুরের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভ ও অসোন্তষ ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ১০/১২ বছর আগে বাজারের একটি প্রভাবশলী সুবিধাবাদী চক্র বিএডিসির জমি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে। এই নামের প্রতি প্রশাসনের সম্মান থাকায় চক্রটি জমিটি দখলে নেয়। গড়ে ওঠে ৪৪ জনের একটি সিন্ডিকেট। এই কমিটিতে ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা রাখা হয়। বাকীরা সব অমুক্তিযোদ্ধা। ২০১৫ সালে মার্কেট তুলে ৪ জনকে ভাড়া দেওয়া হয়। এই ঘরের ভাড়ার টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে এই মার্কেটের দুইটি ঘর আব্দুল হালিম ও জুবায়েরের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ২৩ লাখ টাকায়। ফলে আগের ভাড়াটিয়াদের ২৮ ফেব্রয়ারির মধ্যে ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। ঘর ছাড়তে বলায় ভাড়াটিয়া পড়েছেন বিপাকে। এতো টাকা দিয়ে তাদের দোকানের পজিশন কেনার ক্ষমতা নেই। এখন তার চোখেমুখে সরিষার ফুল দেখছেন।
আরও তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এক সময় বিএডিসির এক একর জমিতে দত্তনগর বাজার গড়ে ওঠে। আস্তে আস্তে এখন তিন একর জমির উপর বাজার বিস্তার লাখ করেছে। বাজারের অনেকেই ডিসিআর কেটে ব্যবসা করলেও বেশির ভাগ অবৈধ দখলদার। সরকার তাদের কাছ থেকে কিছুই পায়না। প্রভাবশালী মহল সরকারী হাটের জমি করায়াত্ত করে দেদারছে বেচাকেনা করে যাচ্ছে। কিন্তু মহেশপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্বরুপপুর ভুমি অফিস একেবারেই নির্বিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারটির জমি এখন সরকারের নামে রেকর্ড বলে জানা গেছে।
 বিষয়টি নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান জানান, প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এই মার্কেট কমিটি গঠিত হয়। এতোদিন তারাই নিয়ন্ত্রন করে আসছিল। এখন লোকমুখে শুনছি মার্কেটের দোকান বিপুল অংকের টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি মার্কেট কেনাবেচার মতো অন্যায় কাজের ঘৃনা করি বলে তাদের সঙ্গে আমি এখন আর নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি এক্সিডেন্ট করে যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।
দত্তনগরে বিএডিসির উপ-পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সরকারী জমির উপর গড়ে ওঠা মার্কেট বেচাকেনা কার্যত অবৈধ। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। এই জমি এক সময় বিএডিসির ছিল, এখন জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহের নামে রেকর্ড। মহেশপুরের এসিল্যান্ড কাজী আনিসুল ইসলাম জানান, এধরণের অর্গানিক বাজার সরকারী জমির উপর গড়ে ওঠে। সরব সময় জনসাধারণের সে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সরকারী জমিতে মার্কেট তুলে কারো বিক্রি করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি আমি স্থানীয় ভুমি অফিসের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here