মোংলায় আওয়ামী লীগ নেতার চিংড়ি ঘের যুবলীগ নেতার দখলে

0
297
মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় আওয়ামীলীগ নেতার একটি চিংড়ী মৎস্য ঘের জোর পুর্বক দখল করে নিয়েছে যুবলীগ নেতা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আওয়ামীলীগ নেতার ক্রয়কৃত এ চিংড়ি ঘেরটি তার দখল থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য থানা পুলিশ ও স্থানীয় ভাবে শালীস বেঠক করে চেষ্টা করেও ক্ষমতার কাছে হেড়ে গিয়ে ব্যার্থ হয়েছে ওই নেতা। উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নে উলুবুনিয়া গ্রামে ১৮ একর ২০ শতক জমির চিংড়ি ঘেরটি নিজের জমি না থাকলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দখল করে রেখেছে দোদান্ড প্রভাবশালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি তারিকুল শেখ। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে কোন মূহুর্তে রয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেয়া ভুক্তভোগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল মান্নানের দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০১৪ সালের ২৫ মে ও ২০ আগষ্ট সোনাইলতলা ইউনিয়নের উলুবুনিয়া মৌজার উলুবুনিয়া গ্রামে দলিল মূল্যে জমি ক্রয় করে শেখ আব্দুল মান্নান। এর সাথে আরো কিছু জমি লিজ (বর্গা) নিয়ে মোট ৪২ বিঘার জমিতে সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি তারিকুল শেখের সঙ্গে ভাগাভাগি করে চিংঘি ঘেরে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু কৌশলে ২০১৬ সাল থেকে অধ্যবদি শেখ আব্দুল মান্নানের ১৮ একর ২০ শতক জমি জবর দখল করে নিয়ে চিংড়ি চাষ করে আসচেন যুবলীগ নেতা তারিকুল।
এনিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দিলে স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতারা বিরোধপূর্ণ এই ঘেরটি বিরোধ মিট মিমাংশা করার জন্য সালিশ বৈঠক করেন। সালিশ বৈঠকে ভুক্তভোগী শেখ আব্দুল মান্নান প্রতিনিয়ত উপস্থিত হলেও প্রতিপ তারিকুল প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের সালিশে তারিকুল উপস্থিত হলেও থানায় উপস্থিত হননি একবারও। আওয়ামী লীগ নেতাদের সালিশির রায়ের দিন উপস্থিত না হয়ে সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে অজ্ঞাত প্রভাবে উলুবুনিয়া গ্রামের মৃত শাকেম আলী শেখের ছেলে ও যুবলীগ নেতা তারিকুল শেখ বিবদমান ঘেরটি জবর দখল করে মাছ চাষ করে যাচ্ছেন।
উলুবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম, আল-আমিন শেখ ও মিজানুর রহমান বলেন, এই ঘেরি তে আগে মান্নান সাহেব মাছ চাষ করতো। ঘেরের বেশির ভাগ জমিই তার। কিন্তু গত কয়েক বছর দেখছি ঘেরটি তারিকুল জোর পুর্বক মাছ চাষ করে আসছে। কিভাবে মাছ চাষ করছে তা আমরা জানিনা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই গ্রামের আরো কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঘেরের মধ্যকার অধিকাংশ জায়গা মান্নান সাহেবের। এর আগে ঘেরটি তিনি মাছ ছেড়ে আসছিলেন। এখন জোর খাটিয়ে তারিকুল ঘেরটি জবর দখল করে খাচ্ছে। এ  বিষয়ে তারিকুল বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সালিশ আমি মানি না, আমি মানি গ্রামের/এলাকার সালিশ। আর মান্নান সাহেবের যদি এ চিংড়ি ঘেরে জমি থাকে তাহলে সে ঘেরে মাছ ফেলতে আসবে তা আমি দেখবো।
বিরোধপূর্ণ এই চিংড়ি ঘেরের সালিশকারী মোংলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুনীল কুমার বিশ্বাস, চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলামসহ আরো নেতাদের নিয়ে আমরা কয়েকবার সালিশ বৈঠক করেছি। তাতে ওই চিংড়ি ঘেরে শেখ আব্দুল মান্নানের ১৮ একর ২০ শতক জমির মালিকানা রয়েছে। কিন্তু এই সালিশি তারিকুল মানেনি। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিনে মান্নান সাহেব হাজির হলেও তারিকুল আসেনি।
এ বিষয়ে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, চিংড়ি ঘের জবর দখল নিয়ে তারিকুলকে অনেকবার ডাকা হয়েছে কিন্তু সে আসেনি। তবে এ নিয়ে এখন ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করলে আদালতই এর ফয়সালা করে দিবে বলে জানান তিনি। তবে এবিরোধটি পুনরায় মিট মিমাংশার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো এস আই রাজ্জাক সাহেবকে, তিনি বলতে পারবেন সর্বশেষ অবস্থা। এসআই আঃ রাজ্জাক বলেন, মান্নান ও তারিকুলের ঘেরের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কোন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু জমিজমার ব্যাপার তাই উভয় পক্ষকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here