স্টাফ রিপোর্টার : ঘাতকদের বিচারের দাবিতে ৬মার্চ ১৯৯৯ এ উদীচীর জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলার ২৩তম বার্ষিকীতে ‘যশোর হত্যাকাণ্ড দিবস’ পালিত হয়েছে।
সংস্কৃতিকর্মীদের রক্তস্নাত এইদিনে ইতিহাসের বর্বরোচিত এ পৈচাশিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আলোচনায় বক্তারা এদিনকে সংস্কৃতি রক্ষা দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। একইসাথে এ মামলার পুনঃতদন্ত দাবি জানানো হয়।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের উদ্যোগে সেদিনের ১০ শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রকৃত ঘাতকদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে রোববার বিকেলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রতিবাদী গান, আলোচনা সভা, ‘১০ শহীদ স্মরণ স্মারক স্তম্ভে’ শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ও মশাল প্রজ্বালন।
বিকেলে ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয় এ কর্মসূচি। এরপর আলোচনাসভার আগে সেদিনের ১০ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচক ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জাসদের কার্যকরী সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. রবিউল আলম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, উদীচী যশোরের সহসভাপতি আমিনুর রহমান হিরু, কাজী বর্ণ উত্তম। সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু। সঞ্চালনা করেন কাজী শাহেদ নেওয়াজ ও শুভঙ্কর গুপ্ত।
আলোচকবৃন্দ বলেন, সংস্কৃতি কর্মীদের উপর এ বর্বোরোচিত হামলার ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের রাষ্ট্র আজও চিহ্নিত করতে পারেনি। নৃশংস পৈশাচিক এ ঘটনার ঘাতকেরা আড়ালেই রয়ে গেছে। যা এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।
বক্তারা অবিলম্বে সেদিনের ঘাতকদের চিহ্নিত করতে মামলার পুনঃতদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। কারণ সংস্কৃতির উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে মুখোশ উন্মোচন করতে না পারলে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা কঠিন হবে।
আলোচনার পরে ‘১০ শহীদ স্মরণ স্মারক স্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান জেলা আওয়ামী লীগ, জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী), একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, জনউদ্যোগ, জেলা মহিলা পরিষদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, সুরবিতান, সুরধুনী সংগীত নিকেতন, বিবর্তন যশোর, চাঁদেরহাট, তির্যক, শেকড়, স্পন্দন, মুন্সী রইস উদ্দীন সংগীত আকাদেমি, অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদ, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়, ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলন যশোর, যশোর রোড পাঠাগার, যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত পরিবেশ নাটক ‘কঙ্কালভূমি’ নাটকের নির্দেশকসহ কুশিলববৃন্দ।















