নারীকে জুতাপেটার ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্যসহ অভিযুক্তরা আটক

0
257

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি॥ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুরে ইতি খাতুন (২০)এক নারীকে জুতাপেটাসহ নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চুড়ামনকাটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (আব্দুলপুর,পোলতাডাঙ্গা ও সাজিয়ালী) মেম্বার আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে ওই নারীকে নির্যাতন করা হয়। শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারীর পিতা আব্দুলপুর গ্রামের সাহেব আলী বাদী হয়ে মেম্বার আনিসুর রহমানসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৬২।পুলিশ শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমানসহ অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।ইতি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।মামলার বাকি ৩ আসামি হলেন আব্দুলপুরের আবু নাছেরের ছেলে ভুট্টো, আব্বাস আলীর ছেলে আজিম আলী ও জাহাঙ্গীরের ছেলে তেীহিদ হাসান।
মামলায় উল্লেখ্য করা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ ইতি খাতুন তার পূর্ব পরিচিত বাগডাঙ্গা গ্রামের সরদারপাড়ার সাঈদ হাসানের (২২) সাথে এনায়েতপুর গ্রামের ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। মাহফিল শেষে তিনি সাঈদের সাথে বাইসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন।রাত ৭ টার দিকে আব্দুলপুরের রশিদের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে আসামিরা ইতিকে খারাপ কথা বলে। এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা ুব্ধ হয়ে ইতি ও সাঈদকে ধরে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানী ঘটায়। এসময় ইতির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সোনার চেইন ও নগদ ১ হাজার ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
হাসপাতালের মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ইতি খাতুন সাংবাদিকদের জানান, সাঈদ হাসানের সাথে খারাপ সর্ম্পকের অপবাদ দিয়ে মেম্বর আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে জনসম্মুখে তাকে জুতা ও লাঠিপেটা করা হয়। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। তার সাথে মেম্বর ও গ্রামবাসী চরম অন্যায় করেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মেম্বর আনিসুর প্রথমে ইতিকে পায়ের জুতা দিয়ে মারছেন। এরপর তাকে লাঠিপেটা করা হচ্ছে। এ সময় ইতি চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি করছেন। প্রথমে ঘটনাটি গোপন থাকলেও ভিডিও ভাইরালের পর তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক লোকজন জানান,পুরো ঘটনা ভিডিও দেখলে বুঝতেন ইতিকে কিভাবে পিটিয়েছে মেম্বর ও কয়েকজন যুবক। তার চিৎকারে পাষানদের মন গলেনি।দ্রুত আসামীদের আটক করায় এলাকাবাসী খুশি। তারা অভিযুক্তদের কঠিন শাস্তি দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকার কয়েকজন সাঈদ হাসান ও ইতিকে ধরার পর মেম্বারের কাছে নেন। পরে হাবীবুর রহমান নামে একজন মেম্বর পীয়দের ম্যানেজ করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সাঈদকে মুক্ত করে নিয়ে যান। পরে ইতিকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। যোগাযোগ করা হলে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন জানান, এক নারীকে জুতাপেটার ভিডিও ভাইরালের ঘটনা শুনেছি। তবে নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই ধরণের আচরণ কখনো কাম্য নয়। ওই নারী খারাপ হলে মেম্বার তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে পারতেন। ঘটনার তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান চেয়ারম্যান। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তাইজুল ইসলাম জানান,রাতেই পুলিশের কয়েকটি টিম নামে অভিযুক্তদের আটকের জন্য। অভিযানে রাতেই তাদের আটক করা হয়।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই ওয়াসিম আকরাম জানান, মেম্বার আনিসুর রহমানসহ অন্য আসামিদের গতকাল রাতে আটক করা হয়েছে।
আজ দুপুরে আটকৃতদের নিয়ে যশোর জেলা পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দ্দার সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
এদিকে মেয়ের পিতা আসামীদের চরম শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন তার মেয়ের সাথে যা করা হয়েছে এটা চরম জঘন্য ও ঘৃনিত কাজ। তবে আসামীরা প্রভাবশালী হওয়াই তিনি শংকায় রয়েছেন। ইতি খাতুনের মা কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার মেয়েকে এমনভাবে পেটানো হয়েছে তার সমস্ত শরীরের কালো দাগ হয়ে গেছে। সে এখনো রাতে ভয়ে কেপে উঠছে।
এলাকাবাসী ইউপি সদস্য আনিসুর রহমানসহ সকলকে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here