কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোল্যা আমিরসহ ১০ কর্মকর্তার নামে দুদকে মামলা

0
408

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারী অর্থ তছরুপের দায়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডঃ মোল্যা আমির হোসেনসহ ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল। তিনি বাদী হয়ে গতকাল ২ মার্চ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর-০৪। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন বিগত ৩ অর্থ বছরে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও প্রিন্টার ক্রয়ের নামে আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে বোর্ডের বিপুল পরিমান অর্থ তছরুপ ও আত্নসাৎ করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৬৮১৫ অর্থনৈতিক কোডে কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও প্রিন্টার ক্রয় বাবদ ৩ কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৬ টাকা ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭৬২ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১ কোটি ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৩২ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ প্রাপ্তির পর যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক মহোদয় সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবালকে ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। দীর্ঘ তদন্তের অনুসন্ধানে বাজার মুল্য যাচাই করে গতপূর্ত বিভাগ যশোর সার্কেলের একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে উক্ত পণ্যের প্রকৃত বাজার মুল্য নির্ধারন করে দেখা যায়, শিক্ষা বোর্ড কতৃপক্ষ যে মালামাল ক্রয় করেছেন তার প্রকৃত বাজার মুল্য ১ কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৬ টাকা। অর্থাৎ যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিক ও চেয়ারম্যান মোল্যা আমির হোসেনসহ আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে উক্ত পণ্য ক্রয়ে ১ কোটি ২০ লাখ ১৪ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে সমুদয় অর্থ তছরুপ করেছেন। এছাড়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এ্যাক্ট (পিপিএ)-২০০৬ এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন (পিপিআর) -২০০৮ এর ৬৯ বিধি লংঘন করে ৬৮১৫ অর্থনৈতিক কোডে কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও প্রিন্টার ক্রয় বাবদ প্রকৃত বাজার মুল্যের অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ ১৪ টাকা তছরুপ করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রনালয়ের বাজেট অনুবিভাগ-২, শাখা-১১ এর স্মারক নং- ০৭.১১১.০৩১.০১.০০.০১৩.২০১০- ৫৭৬, তারিখ – ১৬/০৮/২০১৫ খিঃ মুলে জারিকৃত আর্থিক ক্ষমতা অর্পন পরিপত্রের সংযোজনী তালিকায় ৪নং ক্রমিকে বর্ণিত নির্দেশনা উপেক্ষা ও লংঘন করে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার মানসে এই ধরনের পন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহবান ব্যতিরেখে উক্ত কাজ ছোট ছোট আকারে বিভক্ত করে ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মোট ১১৫টি রিকোয়েস্ট ফর কোটেশান( আরএফকিউ) এর মাধ্যমে সরকারী বিধিবিধান লংঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। উক্ত ক্রয় কমিটির প্রধান ছিলেন বোর্ডের সাবেক সচিব ও চেয়ারম্যান ডঃ মোল্যা আমির হোসেন। বোর্ডের কমন সার্ভিস বিভাগের সহকারী সচিব জাহাঙ্গীর আলম, নিরাপত্তা অফিসার মনির হোসেন, উপ সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন, ক্রীড়া অফিসার আ.ফ.ম আসাফুদ্দৌলা টিটো, অডিট অফিসার আব্দুস সালাম, হিসাব অফিসার মিজানুর রহমান, কমন সার্ভিস বিভাগের সহকারী সচিব আশরাফুল ইসলাম, সিস্টেম এ্যানালিষ্ট শরিফ সালমা কহিনুর ও হিসাব অফিসার জাহানারা খাতুন। কমিটির এসব সদস্যগণ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এ্যাক্ট এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন এর ধারা ও বিধিবিধান লংঘন করে নিজেরা লাভবান হওয়ার মানসে সরকারের ১ কোটি ২০ লাখ ৪ টাকা তছরুপ ও আত্নসাৎ কওে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে দুদক যশোরের উপ পরিচালক আল আমিন জানান, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মাহফুজুল ইকবাল মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তকালে উক্ত অপরাধের সাথে অপর কারোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য চেক জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তছরুপের দায়ে এর আগেই যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডঃ মোল্যা আমির হোসেন ও বোর্ডের সচিবসহ বেশ কয়েকজনের নামে দুদক মামলা করলে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে সাময়িক চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে মোল্যা আমির হোসেন সাসপেন্ডে আছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here