যশোরে কৃষকের কাছে ঝিঙ্গা চাষ জনপ্রিয়

0
348

মালিকুজ্জামান কাকা: যশোর জেলার আট উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ঝিঙ্গা চাষ। এই অঞ্চলের সবজি চাষিরা ঝিঙ্গা চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ছে এ সবজির চাষ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে ঝিঙ্গা চাষ হয়েছে। বাজারে দাম ভালো তাই এ অঞ্চলের সবজি চাষিরা ঝিঙ্গা চাষে ঝুঁকছেন। যশোর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের সবজি চাষিরা জানান, গ্রামের অন্তত ২০ জন চাষী মাথাপিছু প্রায় ২০/২৫ শতক জমিতে গত পাঁচ বছর ধরে ঝিঙ্গা চাষ করছেন। বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙ্গা বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ সবজি চাষে তেমন কোন খরচ নেই এবং উৎপাদিত ঝিঙ্গা বিক্রি করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, সারা দেশের মধ্যে যশোর জেলা বিভিন্ন প্রকার সবজি উৎপাদনে সেরা। এ জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। এ জেলার ঝিঙ্গা সবজিও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। জনপ্রিয় এই সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, সহজ চাষ পদ্ধতি, সবজি হিসেবে ঝিঙ্গার বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় এবং উৎপাদিত ঝিঙ্গা ভালো দামে বিক্রি করতে পারায় সবজি চাষিদের কাছে ঝিঙ্গা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক চন্ডীদাস কুন্ডু জানান, ন্বল্প বিনিয়োগে এ অঞ্চলের প্রান্তিক ও ুদ্র চাষিরা ঝিঙ্গা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ায়, এই সবজি চাষে কোন ঝুঁকি না থাকায় প্রতি বছর দণি-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঝিঙ্গা চাষ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের ৭ জেলায় প্রায় ১হাজার হেক্টর জমিতে অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধ এ সবজির চাষ হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে; যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর। চৌগাছায় ঝিঙ্গা চাষে অভাবনীয় সাফল্য: যশোরের চৌগাছা উপজেলার কৃষকরা চলতি মৌসুমে ঝিঙ্গা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। বিশেষ করে লালতীর ঝিঙ্গা চাষে কৃষক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। ঝিঙ্গা চাষে তুলনামূলক ব্যয় কম আয় বেশি। তাই চাষী ঝিঙ্গা চাষে বেশ মনোযোগী। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ঝিঙ্গা চাষ হয়েছে। সকল ইউনিয়নে কমবেশি ঝিঙ্গা চাষ হলেও হাকিমপুর, পাতিবিলা, জগদীশপুর, নারায়নপুর, স্বরুপদাহ ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি চাষ হয়েছে। উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের কান্দি, মির্জাপুর, স্বর্পরাজপুর, জগদীশপুর গ্রামের মাঠে যেয়ে দেখা যায় বিঘার পর বিঘা জমিতে কৃষক ঝিঙ্গা চাষ করেছেন। মাচায় চাষ করা এই সবজি এখন বাজারজাত করনের উপযুক্ত সময়। প্রতি েেত্র ঝিঙ্গার ব্যাপক ফলন হয়েছে। কোন কৃষক তে পরিচর্যা করছেন আবার কেউ বাজারজাত করতে ঝিঙ্গা তে থেকে তুলছেন। মির্জাপুর গ্রামের চাষিরা জানান, চৌগাছার মেসার্স বুলু বিজ ভান্ডার হতে লালতীর কোম্পানীর বিজয় জাতের ঝিঙ্গা বীজ সংগ্রহ করে কেউ ২০ শতক, কেউ ১০ শতক আবার কেউ বা ৮ কাঠা জমিতে রোপন করেছেন। গত মার্চের মাঝামাঝি হতে এ পর্যন্ত ২০ শতক জমি হতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ঝিঙ্গা বিক্রি হয়েছে। সপ্তাহের দুই দিনে ৬ থেকে ৭ মন করে ঝিঙ্গে বিক্রি করা যায়। একই মাঠে কৃষক শাহীনুর রহমান কৃষক ঠান্ডু মিয়া, মিঠুন, রমজান আলীসহ অনেকে জানান ঝিঙ্গা গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি তরকারী, তাই বাজারে এর রয়েছে চাহিদা। এ কারনে ঝিঙ্গা চাষ করে কৃষক বেশ লাভাবান হচ্ছেন। লালতীর কোম্পানীর যশোরের ডিভিশন্যাল ম্যানেজার কৃষিবিদ এসএম হামিদুল ইসলাম ও রিজিওনাল ম্যানেজার খন্দকার বায়জীদ বোস্তামী বলেন, লালতীর দীর্ঘদিন ধরে কৃষকের মাঝে গুনগত মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করে। প্রতিনিয়ত গবেষণার মাধ্যমে পরিবর্তিত আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে মানানসই নতুন নতুন ফসলের বীজ সমূহ উদ্ভাবন করেছে। আমাদের নতুন উদ্ভাবনের মধ্যে অন্যতম একটি বীজ হচ্ছে ঝিঙ্গা, বিজয় জাত ইতোমধ্যে উচ্চ ফলনশীল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, আমি জেনেছি চৌগাছার মাটি সব ধরনের ফসল উৎপাদনে বরাবর বিখ্যাত। এ জনপদের কৃষক নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে বেশ পারদর্শী। সব ধরনের ফসল উৎপাদনে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষককে সার্বিক সহযোগীতা অতীতে যে ভাবে করে এসেছে বর্তমানেও করে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here