অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ায় নড়াইলে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

0
229

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কোটাকোল ইউনিয়নের মাইগ্রামের মোঃ বাচ্চু শেখ এর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস বর্ষা(১৯) তার বয়ফ্রেন্ডের দেওয়া অশ্লীল ছবি পেয়ে লজ্জায় ভয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ১৫/ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে ঘরের রডের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে জান্নাতুল ফেরদৌস বর্ষা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,জান্নাতুল ফেরদৌস বর্ষা খুলনার বয়রা মহিলা কলেজের ছাত্রী। সে এবছর এইচএসসি পাশ করেছে। নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস বর্ষার পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাচুড়িয়া গ্রামের থান্দারপাড়ার শহিদুল থান্ডারের ছেলে তাসরিফ থান্ডারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। কিছুদিন পর বিষয়টি দুই পরিবারের মাঝে জানাজানি হয়। নিহত বর্ষার বড় ভাই দাউদ শেখ বিষয়টি বর্ষাকে বুঝিয়ে মানানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাসরিফ কোনভাবেই বর্ষার পরিবারের কথা শোনেন না। উল্টো তাদের আরো বিভিন্ন ভয়-ভীতি দিয়েছেন। নিহত বর্ষার বড় ভাই দাউদ শেখ বলেন আমি পাঁচ ছয় মাস আগে জানতে পারি যে তাসরিফ নামে একটি ছেলের সাথে আমার বোনের প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে, পরবর্তীতে বোনকে অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু বোন লজ্জায় ভয়ে তার ছবিগুলোর কথা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে নাই,সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তাসরিফ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে আমার বোনের কিছু অশ্লীল ছবি তার বান্ধবীদের ফোনে দেয়। তখন বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। দাউদ আরও বলেন যখন আমরা আমার বোনের বান্ধবীর মোবাইল থেকে ওই অশ্লীল ছবি গুলো দেখতে পেয়েছি তখন আমার বোন বিষয়টি জানতে পেরে লজ্জায় আত্মহত্যা করেছেন। তাসরিফ আমার বোনের এই নগ্ন ছবি সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল করবে বলে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে বর্ষাকে। আমার বোনের মৃত্যুর জন্য তাসরিফ দায়ী আমরা তাসরিফ এর বিচার চাই। এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু হেনা মিলন জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করলে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here