অভয়নগরে গত চারদিন ধরে ধান ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট, ধান বেঁচাকেনা বন্ধ,বিপাকে কৃষক

0
304

মিঠুন দত্ত : যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ এনে ধান ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় বন্ধ রেখেছে গত চারদিন ধরে। ধান বেঁচাকেনা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে কৃষক। গত শনিবার থেকে নওয়াপাড়ায় ধান ব্যবসায়ীরা ধান না কেনার ঘোষনা দেন। জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলার পৌরসভায় অব¯ি’ত নওয়াপাড়া ধানহাটা। এ হাটে প্রায় ৩০ জন আড়ৎদার রয়েছেন। নওয়াপাড়া পৌরসভা প্রতি বছর হাট ইজারা দিয়ে থাকেন। আড়ৎদাররা তাদের সমিতির মাধ্যমে বিগত প্রায় ২০ বছর হাট ইজারা নিয়ে নিজেরায় খাজনা পরিশোধ করে থাকে। চলতি বছরে হাবিব স্টোরের লাইসেন্স ব্যাবহার করে হাটটির ইজারা পেয়েছেন খন্দকার ইমরান হোসেন। বোরো মৌসুমে এখানে প্রতি হাটে ৮ থেকে ৯ হাজার মণ ধান কেনা বেচা হয় বলে জানা গেছে। সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার দুদিন ধানের হাট বসে। নওয়াপাড়া বাজার আড়ৎ ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন গাজী জানান, অতিরিক্ত খাজনা দাবী করায় আমরা শনিবার থেকে ধান কেনা বন্ধ রেখেছি। গত রোববার ইজারাদার প্রতি কুইন্টাল ধানে কৃষকদের ১২ টাকা দিতে হবে আর দোকানদারদের প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিতে হবে এর“প সাইনবোর্ড দেখে কৃষকরা ধান বিক্রিতে নির“ৎসাহিত হ”েছ।আমরা নিজেরাই খাজনার টাকা পরিষোধ করি। এত টাকা খাজনা দিয়ে আমাদের পে ব্যাবসা করা অসম্ভব। তবে ইজারাদার ইমরান খন্দকার বলেন,‘ ব্যবসায়ীরা (আড়ৎদার) খাজনা না দেয়ার অজুহাতে উদ্যেশ্যে প্রনোদিতভাবে কৃষকদের বিপাকে ফেলার জন্য ধান বেঁচাকেনা বন্ধ রেখেছে। সমিতির সভাপতি, সম্পাদক মিটিং করে আড়তদারদেও ধান কিনতে নিষেধ করেছে। আড়ৎদাররা অতিরিক্ত খাজনা নেয়ার অভিযোগ করছেন কিš‘ আমিতো এ পর্যন্ত একটি টাকাও তুলতে পারলাম না। তাহলে অতিরিক্ত খাজনার প্রশ্ন কেন আসছে? এতে আমি যেমন তিগ্র¯’ হ”িছ তেমনি কৃষকরাও ধান বিক্রি করতে না পেরে কান্নাকাটি করে ফিরে যা”েছ। আড়ৎদাররা ৪০কেজিতে (এক মন) ৪১ কেজি করে নি”েছন এতে কৃষকরা তিগ্র¯’ হ”েছ। পৌরসভা কতৃক টানানো টোলরেট চার্ট অনুযায়ী খুচরা বা পাইকারী বিক্রেতা প্রতি কুইন্টাল ধানে ১২ টাকা করে খাজনা ইজাদার পাবেন। ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল বিশ্বাস বলেন,‘ বিশ বছর ধরে আমরা হাটটি কিনে ব্যাবসা করছি। এ বছর আমাদের বাইরে একজনকে হাটটি দেওয়া হয়েছে। খাজনার পরিমান খুব বেশি।এতটাকা খাজনা দিয়ে ব্যাবসা করা কঠিন। তাই ব্যাবসা বন্ধ রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ধানহাটা ঘুরে আড়ৎ বন্ধ দেখা গেছে। কৃষকেরা ধান নামিয়ে আড়তের সামনে বসে আছেন। কোন ক্রেতা নেই। দিঘীরপাড় গ্রামের আলতাব হোসেন সাত মণ ধান এনেছিলেন এ হাটে। বিক্রি করতে না পেরে তিনিও ধান নিয়ে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন,‘ ধান বিক্রি করে পরিবারের লোকেদের ঈদের কেনাকাটা করে দেব কিš‘ বাড়ি যেয়ে আমি তাদেরকে কি বলব। নদীপার করে ধান এনে বিক্রি করতে না পেরে ফিরে যা”িছ। এতে ভ্যানভাড়া ও নদীপারাপারের খরচ দিয়ে আমি তিগ্র¯’ হলাম।’ উপজেলার রামসরা গ্রামের কৃষক সুকান্ত মল্লিক ধান বিক্রি করতে একঘন্টা অপো করে ধান নিয়ে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ছয় মণ ধান এনেছিলাম। ধান বিক্রি করে জন কিষেনের টাকা দেবো, বাজার করব কিš‘ কেনাবেচা বন্ধ। হাটে ধান বিক্রি করতে না পেরে ধান নিয়ে বাড়ি ফিরে যা”িছ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here