কুষ্টিয়ায় আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলায় ৩ আসামীর আমৃত্যু এবং ৮ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

0
421

নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়াঃ প্রায় সাড়ে ১২ বছর আগের কুষ্টিয়ার একটি আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলায় তিন আসামীর আমৃত্যু এবং ৮ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়। দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা সবাই পলাতক থাকায় তাদের অনুপুস্থিতিতেই এই রায় ঘোষনা করা হয়। অভিযোগ প্রমানীত না হওয়ায় এই মামলার ১১ আসামীকে বেকসুর খালাশ প্রদান করা হয়। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন চরমপন্থি বাহীনীর সক্রিয় সদস্য। মামলার আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পুতলা ডাঙ্গা গ্রামের আসকর আলীর ছেলে ফারুক সদ্দার, সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের ইছাহাক আলী মাস্টারের ছেলে কালু ওরফে কফিল উদ্দিন, পৌরসভার আড়ুয়াপাড়া এলাকার কালো মজনুর ছেলে রোহান। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ মন্ডলের ছেলে ফারুক মন্ডল, ভায়না গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে লিয়াকত আলী, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার করিমপুর গ্রামের জলিল শেখ এর ছেলে লিয়াকত শেখ, এছেম শেখের ছেলে মনোয়ার শেখ, আনছার শেখের ছেলে আকামউদ্দিন, ওয়াহেদ আলী জোয়াদ্দারের ছেলে জমিরউদ্দিন, ইবি থানার খোর্দ্দবাখইল গ্রামের আবু বক্করের ছেলে নুরাল ওরফে নুরুল, সদর উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের ওম্মাদ মন্ডলের ছেলে খাকচার মন্ডল। মামলার এজাহার সুত্রে জানাযায়, ২০০৯ সালের ৯ আগষ্ট গভীর রাতে সদর উপজেলার ভবানীপুরের আকবর আলীর ছেলে কাউয়ুমসহ আরো দুই জনের মাথা কেটে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দামবাজার মোড়ের গণপুর্ত অফিসের সামনের গেটে ঝুলিয়ে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশ এসে ওই তিনজনের কাটা মাথা উদ্ধার করে এবং ইবি থানার সোনাইডাঙ্গা গ্রাম থেকে মস্ককবিহীন ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাদের সনাক্ত করে। নিহত অপর দুইজন হলেন, আইউব আলী এবং সামসুজ্জামান। ওই ঘটনায় নিহত কাইয়ুমের ভাই আব্দুল হাই বাদী হয়ে ১০ আগষ্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে দীর্ঘ শুনানী শেষে আজ মঙ্গলবার এই মামলার রায় ঘেষনা করা হয়। কুষ্টিয়া জজ আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, এটি শুধু কুষ্টিয়া জেলা নয়, সারা দেশ ব্যাপী একটি আলোচিত হত্যাকান্ড ছিলো। ট্রেন্ডারবাজী এবং ট্রেন্ডারের দখল নেওয়া জন্যই মুলত চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করে। এই মামলায় ৩ জনকে আমৃত্যু এবং ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা সবাই পলাতক। তবে দীর্ঘদিন পর রায় ঘোষনা হলেও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here