মণিরামপুরে একটি মাঠ থেকে এক রাতে সাতটি ট্রান্সফরমার চুরি : ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক

0
263

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের একটি মাঠ থেকে, এক রাতে পাঁচজন কৃষকের সাতটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (০৯ জুন-২০২২) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার সরসকাঠি-পট্টি গ্রামের মাঠ থেকে।
উপজেলার রোহিতা ইউনিয়ন (সরসকাঠি-কাশিমপুর) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন বলেন- বোরো মৌসুম শেষ হওয়ায় সরসকাঠি-পট্টি মাঠের বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্রের মালিকেরা যন্ত্র খুলে বাড়ি নিয়ে এসেছেন। সেচপাম্প মাঠে থাকা অবস্থায় কৃষকেরা নিয়মিত রাতে পাহারা দিতেন। এখন পাম্প বাড়ি থাকায় তারা মাঠে পাহারা দেননা। মাঠের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথায় ট্রান্সফরমারগুলো বড় ড্রামে তালা দিয়ে ঝুলানো থাকে।
জানাগেছে- এদিন দিবাগত রাতের কোনো এক সময় চোরেরা ড্রাম ভেঙে মাঠের আব্দুর রহিমের পাঁচ কেবিনেটের একটি, নূর হোসেনের পাঁচ কেবিনেটের একটি, মতলেব হোসেনের দশ কেবিনেটের একটি, আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ কেবিনেটের তিনটি ও আব্দুল হান্নানের পাঁচ কেবিনেটের একটি মোট সাতটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার নিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও সেচ পাম্প মালিক আব্দুর রাজ্জাক ও মোতালেব হোসেন বলেন- আমাদের সেচপাম্পের ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হওয়ার আমরা খুব ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি এবং কৃষিকাজও চরমভাবে ব্যহত হবে। সামনে আমন মৌসুম। সময় মতো ট্রান্সফরমারগুলো আনতে না পারলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ক্ষতিগ্রস্থ হবে শত শত কৃষক।
স্থানীয় ইউনিয়ন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. তুহিন হোসেন বলেন- এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষি কাজের জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সেচপাম্পের, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের আওতায় এই মাঠের প্রায় ৫০-৬০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৮০জন কৃষক ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করে থাকে। ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন- ট্রান্সফরমারগুলোর দাম অনেক। সামনে আমনের মৌসুম আসছে। এখন খরচ দিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার আনতে গেলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
তিনি বলেন- এর আগেও এ মাঠ থেকে একাধিকবার ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। পুলিশকে জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। এ জন্য এবার এবিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মণিরামপুরের রাজগঞ্জ সাব জোনাল অফিসের ও খেদাপাড়া সাব সেন্টারের অফিসিয়াল মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, সেখানকার ইনচার্জ ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন- ট্রান্সফরমার চুরি হলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে হয়। আমরা সেই প্রক্রিয়ার যাবো।
খেদাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনছার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সমেন দাস বলেন- ট্রান্সফরমার চুরির কোনো খবর আমি পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here