নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়াঃ প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু বিক্রি করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের সুলতান পুর গ্ৰামের ইবাদত হোসেনের স্ত্রী জাহেরুন খাতুন (৪০)। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে গরু বিক্রির টাকা দিয়ে তার সংসারের সচ্ছলতা এনেছেন তিনি। তার মাঠে আছে জমি, বাড়িতে আছে একতলা বিল্ডিং ঘর। সব কিছুই হয়েছে গরু বিক্রি করে। পবিত্র ঈদুল আযহা আসলেই কোরবানির পশুর প্রতি আকর্ষণ থাকে সকলেরই। কে উঠাবে হাটে সবচেয়ে বড় গরু এই নিয়েই চলে প্রতিযোগিতা। এরই মধ্যে আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত করা হয়েছে শাহিওয়াল জাতের ১টি ষাঁড়, শখের বসে মালিক জাহেরুন খাতুন লালন পালন করার কারণে নাম রেখেছে ‘যুবরাজ’ তার ওজন প্রায় ১৬ মণ। গরুটি বিক্রি করতে চান ৮ লক্ষ টাকায়। প্রান্তিক কৃষক ও ষাঁড়ের মালিক জাহেরুনের আশা এবার কোরবানি ঈদে ষাঁড়টির ৮ লক্ষ টাকা দামে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু এতো দামে যুবরাজকে বিক্রি করতে হলে তো ঢাকায় কিংবা চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার লোক প্রয়োজন। তাই তিনি চান অনলাইনের মাধ্যমে তার গরুটি যেন বিক্রি হয়। তিনি বলেন, শুরুতে একটি গাভী পালন করে প্রতি বছর একটি করে গরুর বাছুর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে থাকি। এখন আমার গোয়ালে ৪টি গরু আছে। এই গরু লালন পালন করে অনেক কিছুই করেছি।
এবার যুবরাজ’কে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি, প্রতিদিন গমের ভুসি, মাঠ থেকে ঘাস, ও ধানের খড় খাওয়ানো হয় যুবরাজ’কে। তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে তাদের বাড়িতে শাহিওয়াল জাতের গরুটি লালন-পালন শুরু করি । লালন-পালন করে বর্তমানে যুবরাজের ওজন ১৬ মণ, দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লক্ষ টাকা। এবছর কুমারখালী উপজেলায় ৩ হাজার ৮ শত’টি খামারে প্রায় ২৬ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তন্মধ্যে উপজেলাটিতে ১৩ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে, উদ্বৃত্ত পশুগুলো চলে যাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। গরু মোটাতাজা করনে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও প্রণোদনা দিয়ে খামারিদের সহযোগিতা করছে সরকার। তবে গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু মোটাতাজা করন প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, জাহেরুন খাতুনের মতো সবাইকে গরু পালনে আমরা উৎসাহিত করতে চাই। কিন্তু গো-খাদ্যের বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার দাম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন খামারিরা। যদি এবার খামারিদের লোকসান হয়। তাহলে কুমারখালীর খামারিরা ষাঁড় গরু পালন থেকে সরে আসবে। তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আরো সচেষ্ট হওয়ায় আহ্বান সংশ্লিষ্টদের।















