অভয়নগরে টুং-টাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া

0
304

রাজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর) : মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল আজহা। আর ঈদকে সামনে রেখে পশুকোরবানির সরঞ্জাম জোগান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোরের অভয়নগরের
বিভিন্ন স্থানের কামারশালার কারিগররা। দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছেতাদের ব্যস্ততা। লোহার আওয়াজ, হাপরের ফোঁসফাঁস আর হাতুড়িপিটার টুংটাংশব্দে মুখরিত এখন কামারপাড়া।সরেজমিনে অভয়নগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, হাপর দিয়ে কয়লারআগুনে লোহা পুড়িয়ে লাল করে ছোট-বড় নানা আকারের হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েতৈরি করা হচ্ছে ছুরি, বটি, দা, চাপাতি ইত্যাদি। নতুন অস্ত্র বানানোরপাশাপাশি পুরনো অস্ত্র শান দেওয়ার কাজও করতে হচ্ছে সমানতালে। ক্লান্তহীনভাবেচলছে কাজ, কথা বলার ফুরসত নেই কারো। শেষ সময়ে এসে কারিগররা ব্যস্ত সময়কাটাচ্ছেন দা, বটি, ছুরি, চাপাতি তৈরিতে। এত পরিশ্রমেও তাদের মুখে হাসিফুটছে। এ উপার্জনই হয়তো অনেকের সারা বছরের আহারের যোগান দেবে। জানাযায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানের কামারশালায় সারা বছরই লোহার তৈরি দা, বটি,
ছুরি, চাপাতি, কোদাল, কুড়াল, কাঁচি পাওয়া যায়। তবে কোরবানির ঈদকেসামনে রেখে পুরনো যন্ত্রপাতিতে বেড়েছে শানের কাজ।বিক্রেতারা জানান, পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, দা ২০০থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ১০০ থেকে৫০০টাকা, চাপাতি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদেরঅভিযোগ অন্য বছরের তুলনায় দা, বটি, ছুরি, চাপাতির দাম একটু বেশি।নওয়াপাড়া পৌরসভার ফারাজী পাড়ার বিপ্লব কর্মকার এ প্রতিবেদককে জানান, ঈদএলে আমাদের কেনা বেচা বেড়ে যায়। ঈদের দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে থেকেকাজের চাপে দম ফেলার অবস্থা থাকে না। তবে শানের কাজ বেশি। সব মিলিয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন।উপজেলার বেঙ্গল গেট এলাকার সুমন কর্মকার জানান, এ মুহূর্তে কারিগর সংকট।এ পেশায় এখন কেউ আসতে চায় না। ঘাটের লেবার দিয়ে কাজ করাতে হয়। গত
বছরের তুলনায় কেনা বেচা কম। এ বছর চায়না স্টিলের সরঞ্জাম কিনছে অনেকে। তবেতাদের চেয়ে ভালো মানের জিনিস তৈরি করছেন তারা। ঈদের আগে শেষ মুহূর্তেএসে ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় খুুশি তারা। বর্তমানে এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলে সরাকারি সহযোগিতা কামনা করছেন। তারা বলেন, সরকারি সহযোগিতাপেলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here