আনিছুর রহমান:- মনিরামপুরে ৭ বছর বয়সী বাপ্পী হোসেন নামের এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পিতা হাড়ের মাংশ খেয়ে ফেলায় রাগ করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। ১৯ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নিজ ঘর থেকে এলাকাবাসী শিশুটির লাশটি উদ্ধার করেন। ঘরে মশুরী টাঙ্গানো দেওয়ালের পেরেকের সাথে জড়ানো রশিতে ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে।
জানা যায়, উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের কায়েমকোলা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে বাপ্পী। সে কায়েম কোলা হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল। বাপ্পীর মা মঞ্জুয়ারা বেগম পুলিশসহ গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে খুব রাগী ছিল। সকালে মাংশ খাওয়া নিয়ে ওর বাবার সাথে রাগ করেছে ছেলেটি। পিতা আব্দুল মালেক বলেন, সকালে ছেলেকে নিয়ে খেতে বসি। ওরে দু টুকরা মাংশ দিয়ে আমি একটি হাড়সহ মাংশ নিই। এতে ছেলে রাগ করে গলাই রশি দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। পিতা আরো জানাই, আমি বার্থরুম থেকে বের হয়ে এসে ছেলেকে না পেয়ে ডাকাডাকি করে। এক পর্যায় গলায় রশি দিয়ে ঘরের ভীতরে ঝুলছে দেখতে পায়। আমার আত্নচিৎকারে পাশের লোকজন ছুটে আসে।
ঘরের দরজা ভীতর থেকে বন্ধ থাকায় দরজা খুলতে না পারায় পাশের বাড়ির নুরুন্নবীকে ডেকে এনে ঘরের ভেন্টিলিটার দিয়ে ভীতরে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা খুলে দড়ি থেকে বাপ্পীর লাশ নীচে নামাই। এ ঘটনায় বাপ্পীর পিতা আব্দুল মালেক থানায় লিখিত আবেদন করেন। যাহা অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আবেদনের পেক্ষিতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান ও ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সামনুর মোল্লা সোহান ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি নিয়ে কয়েক ঘন্টা জানাশুনা ও কারোর কোন অভিযোগ কিংবা কোন অপরাধ মূলক তথ্য না পাওয়ায় সুরতহাল রিপোটের পর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাষ্টার জহুরুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ঠ মেম্বর ইব্রাহিম হোসেন, মসজিদের ঈমামসহ গন্যমান্য ব্যক্তি ও লাশের পিতা মাতার লিখিত নিয়ে লাশ দাফনের অনুমতি দেন। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে সার্বিক তদন্ত করে কোন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড প্রমান না পাওয়ায় ওসি স্যারের নিদ্দেশে দাশ দাফনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এদিকে একই দিনে সকালে একই ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের সেলিমের কন্যা নবম শ্রেনীর ছাত্রী মায়ের উপর অভিমান করে বিষ জাতীয় পদার্থ হারপিক পানে আত্নহত্যার চেষ্টা করে। তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় মেম্বর ইব্রাহিম হোসেন জানিয়েছেন।















