নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়াঃকুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ী আবুল কাশেমকে হত্যার দায়ে মো. আজাদ হোসেন নামে একজনের ফাঁসী ও মো. মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে দুই আসামিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামি মো. মিন্টুর উপস্থিতিতে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদান শেষে আসামি মো. মিন্টুকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় ফাঁসীর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আজাদ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না সে জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পালাতক রয়েছে। হত্যা মামলার ফাঁসীর সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আড়ুয়াপাড়া ২ নম্বর মসজিদ গলির জহির উদ্দিনের ছেলে মো. আজাদ হোসেন। এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওপর আসামি হলেন কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকার মহিউদ্দিন ওরফে পটলার ছেলে মো. মিন্টু। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের ১৪ তারিখে নিহত আবুল কাশেমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া শহরের এন এস রোডস্থ ফুড কিং নামিয় ফাস্ট ফুডের দোকান রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেলে ইফতেখার আহম্মেদ নাঈমকে সাথে করে বন্ধ করে। নিহত আবুল কাশেম তার ছেলেকে নিজের বন্ধ দোকানে সামনে রেখে পাশের দোকানে ওষুধ কিনতে যান। এর কিছুক্ষণ পরে নিহত আবুল কাশেমকে ফিরে আসতে দেখে তার ছেলে ও ভাইয়ের ছেলে মো. মিলন বাড়ির দিকে রওনা হয়। রাত ৯ টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুতুবউদ্দিন আহমেদ লেনের কতুবউদ্দিন উকিলের বাড়ির সামনের মোড় পার হয়ে নিহত আবুল কাশেমের ছেলে নাঈমের সাথে আসামি আজাদসহ দুইজন নাঈমকে পার করে চলে যায়। এর পরপরই আবুল কাশেমের চিৎকার শুনে তার ছেলে নাঈম ও ভাইয়ের ছেলে মিলন দৌড়ে যাওয়ার সময় আসামি আজাদ ও তার সাথে থাকা ওই দুইজনকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে। এসময় আবুল কাশেম রক্তাক্ত জখম অবস্থায় কুতুবউদ্দিন উকিলের বাড়ির পাশে পাকা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে নাঈম ও মিলনের চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে এসময় আবুল কাশেম জানান আজাদ তাকে ছুরিকাঘাত করেছে এটা বলার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও নিহত আবুল কাশেমের ছেলে নাঈম ভাইয়ের ছেলে মিলন চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। এর পরে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসায়ী আবুল কাশেম মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত আবুল কাশেমের ছেলে ইফতেখার আহম্মেদ নাঈম বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন ২০১৪ সালপর ১৫ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষ ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান শেষে আজ বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই রায়ের দিন ধায্য করেন আদালত।















